Dhaka, Monday, 09 December 2019

গৃহহীনদের জন্য সারাদেশে ৬৪ হাজার ঘর নির্মাণ করবে সরকার

2019-02-12 09:56:01
গৃহহীনদের জন্য সারাদেশে ৬৪ হাজার ঘর নির্মাণ করবে সরকার

সুখবর ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গৃহহীনকে গৃহ দান’ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতেটিআর-কাবিটার বিশেষ বরাদ্দ বাতিল করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে বরাদ্দের সমপরিমান টাকা দিয়ে গৃহহীনদের ঘর করে দেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রতিটি জেলায় কমবেশি এক হাজার করে মোট ৬৪ হাজার আধা-পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে।

মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এক বৈঠকে ঘর প্রদানের প্রক্রিয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

জানতে চাইলে ওই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গৃহহীনকে গৃহ দান’ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দুই ধাপে ৬৪ হাজার ঘর নির্মানের কাজ শেষ হবে। আগামী জুনের মধ্যে ৩২ হাজার এবং বছরের শেষ মাস অর্থাত্ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ৩২ হাজার ঘর নির্মাণ হবে। চাহিদা অনুযায়ী এ কর্মসূচী পরবর্তী বছরের জন্যও বিবেচনা করা হবে।

প্রতি আর্থিক বছরে এমপিদের খরচ করার ক্ষমতা দিয়ে টিআর খাতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বা সমমানের চাল এবং কাবিটার দরুন ১০০ কোটি টাকা নগদ প্রদান করা হতো। একে ‘বিশেষ বরাদ্দ’ বলে অবহিত করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে দলের মধ্যে কোন্দল থেকে শুরু করে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। তাই একদিকে দুর্নীতি-কোন্দল বন্ধ অন্যদিকে বাসস্থনের মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রতিটি ঘরের আয়তন হবে ৩ থেকে ৪শ’ বর্গফুট। এতে দুটি কক্ষ, একটি টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা থাকবে। ছাদ হবে টিনের। ঘর তৈরীর পুরো খরচই বহন করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন ব্যক্তিদের তালিকা গ্রহণ করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি যাচাই-বাছাই করে যে তালিকা দেবেন সেই অনুযায়ী মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুকুলে ঘর বরাদ্দ করবে। এখানে এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যানদের কোন ভূমিকা থাকছে না।

এ বিষয়ে সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, দুর্নীতি বন্ধের জন্য এটি চমত্কার একটি পদক্ষেপ হবে। তবে দেখতে হবে প্রকৃত গৃহহীনদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় সাজানো বা ভূয়া ‘গৃহহীনদের’ বিবেচনা করা হয় কি না। তেমন অভিযোগ উঠলে এই সুন্দর উদ্যোগটি মাটি হয়ে যাবে।

টিআর-কাবিটা বা কাবিখা নিয়ে দুর্নীতি অনিমের ঘটনা অতি পুরনো। কিন্তু এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের কোন উপায় বের করার উদ্যোগ এতদিন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। এবার সেই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। স্বচ্ছভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে তদারকি দরকার হবে সেটি করা হয় কি না সেটি দেখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ইউএনও এ ক্ষেত্রে তদারকির দায়িত্বে থাকবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ দায়িত্বে রাখা হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধে সরকারের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোন ক্ষেত্রে শৈথিল্য মেনে নেয়া হবে না। সব ধরনের পদক্ষেপই নেয়া হবে।



গৃহ ও আবাসন সর্বশেষ খবর

গৃহ ও আবাসন এর সকল খবর