Dhaka, Friday, 06 December 2019

মেলায় ১৪ দিনে ২ হাজার বই এসেছে

2019-02-15 10:26:01
মেলায় ১৪ দিনে ২ হাজার বই এসেছে

সুখবর রিপোর্ট : অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেল মেলার। চোখের পলকে যেন চলে যাচ্ছে বইয়ের মাদকতাময় দিনগুলো। এই ১৪ দিনে একটি কম দুই হাজার নতুন বই এসেছে মেলায়। এর মধ্যে চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায় কবিতার বই সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়েছে। সংখ্যা হচ্ছে ৬০২টি। এরপর উপন্যাস ৩২৬টি। তারপরেই রয়েছে গল্পের বই ৩১৮টি, আর প্রবন্ধের বইয়ের সংখ্যা ১১৯টি।

মুক্তিযুদ্ধের বই এসেছে ৫২টি। এছাড়া গবেষণা ২৯, ছড়া ৪৫, শিশুতোষ ৫৬, জীবনী ৬১, রচনাবলি ৫, নাটক ১৬, বিজ্ঞান ৩৮, ভ্রমণ ৪৩, ইতিহাস ৩৬, রাজনীতি ১৯, স্বাস্থ্য ১৫, কম্পিউটার ৩, রম্য/ধাঁধা ১৫, ধর্মীয় ৯, অনুবাদ ১০, অভিধান ২ এবং বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ২৬। এর পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ের উপর বই এসেছে আরও ১৫৪টি।

এদিকে, বৃহস্পতিবার বইমেলা ভেসে গেছে ভালোবাসা দিবসের জোয়ারে। স্টলগুলোতে প্রেমেরে কবিতা, গল্প-উপন্যাসের বই কেনার প্রবণতা একটু বেশিই ছিল। গোলাপ আর বই তুলে দিতে দেখা গেছে অনেককেই। এছাড়া, ছেলেমেয়েদের দুদণ্ড গল্প মেতে ওঠবার জন্য বইমেলার মতো আদর্শ জায়গা তো আর হয় না। তাই, আড্ডা আর সেলফি তুলে বইমেলা প্রাঙ্গণকে আনন্দমুখর করে তুলেছিলেন তরুণরা।

একসঙ্গে দশ নতুন লেখকের বই

ভাষাসংগ্রামী তোফাজ্জল হোসেন ফাউন্ডেশন ও জার্নিম্যান বুকসের যৌথ উদ্যোগ প্রকাশিত হয়েছে ‘পোস্টবক্স’। দশজন কবির প্রথম কবিতার বই হিসেবে প্রকাশিত দশটি বই। বাংলার আড়াই হাজার বছরের পুরোনো মুদ্রার নকশার আদলে এর প্রচ্ছদ করেন কবি তারিক সুজাত।

বইগুলো হলো— ফরিদ সুমনের ‘প্রিয় সে নামের বানান’, ঈস্পিতা অবনী চৌধুরীর ‘গোধূলি রঙের ভোর’, আসিফ উদ্দিন আহমদের ‘স্বপ্নচ্যুত’, শ্রাবণী জুঁইয়ের ‘রৌদ্রকরোটিতে জমেছে দুঃখ’, হোসনে আরা জেমীর ‘বৃষ্টি করে নেবে’, সালমা ইয়াসমিনের ‘আছো কাছে, তবু নেই’, রঞ্জনা সৌমীর ‘বিষাদী দোলনচাঁপায় কাঠপোড়া গন্ধ’, মাসুদুর রহমানের ‘মাসুদুর রহমানের কবিতা’ সা’দ জগলুল আব্বাসের ‘শব্দপুরাণ ও আমি’ এবং নাজমুস সাদাত পারভেজের ‘অনুভূতির জানালা’।

লেখক বলছি :

লেখক বলছি মঞ্চে আনিসুল হক ‘এই পথে আলো জ্বেলে’ (প্রথমা), আকিমুন রহমান ‘অচিন রাজকুমার ও নগণ্য মানবী’ (গ্রন্থকুটির), রাহাত মিনহাজ ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড: কী পেয়েছিল ভুট্টোর পাকিস্তান’ (শ্রাবণ), চাণক্য বাড়ৈ ‘কাঁচের মেয়ে’ (ভাষাচিত্র) এবং মাহবুব ময়ুখ রিশাদ ‘তর্কশয্যায় মৃত্যু’ (অনিন্দ্য প্রকাশনী) নিয়ে পাঠকের মুখোমুখি হন।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে’

গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল বাংলাদেশে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বিজ্ঞানভাবনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রেজাউর রহমান, আবদুল কাইয়ুম এবং অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে। আমরা আশা করি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি সাধন করবে।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি আমিনুর রহমান সুলতান এবং সাকিরা পারভীন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফ এবং মাহিদুল ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী খুরশিদ আলম, সুজিত মোস্তফা, তানভীর সজীব আলম, মুর্শিদুদ্দিন আহম্মদ, আঞ্জুমান আরা শিমুল, মো. রেজওয়ান আহমেদ।

আজ শিশুপ্রহর :

আজ শুক্রবার মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এর মধ্যে বেলা ১১টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত থাকছে শিশুপ্রহর।

নতুন বই :
মেলায় বৃহস্পতিবার নতুন বই এসেছে ১৪৭টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো- পার্ল পাবলিকেশন্স থেকে মাহবুব জামিল পুলকের কাব্যগ্রন্থ ‘জলপরীর নিঃশ্বাস, আগামী প্রকাশনী থেকে আবদুল গাফফার চৌধুরী’র প্রবন্ধ ‘বঙ্গবন্ধু আজ যদি বেঁচে থাকতেন’, সৈয়দ মিজানুর রহমানের ইতিহাস গ্রন্থ ‘নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ইতিহাসের অকাট্য দলিল’, উত্স প্রকাশন থেকে আহবাব চৌধুরী খোকনের নিবন্ধ ‘কালের ভাবনা’, অ্যার্ডন পাবলিকেশন্স থেকে মোস্তাক শরীফের উপন্যাস ‘আমি তিশোওমা’, কথা প্রকাশ থেকে সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘সময়ের ফুলে বিষপিঁপড়া’, অনন্যা থেকে উত্পল শুভ্রের ক্রিকেট বিষয়ক গ্রন্থ ‘শুধুই ক্রিকেট’।



লেখক ও প্রকাশনা সর্বশেষ খবর

লেখক ও প্রকাশনা এর সকল খবর