Dhaka, Sunday, 08 December 2019

আরেক বাঙালির নোবেল জয়

2019-10-14 19:47:19
আরেক বাঙালির নোবেল জয়

সুখবর প্রতিবেদক: অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন আরেক বাঙালি। তিনি হলেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। অমর্ত্য সেনের পরে দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই সম্মানে ভূষিত হলেন অভিজিৎ বিনায়ক।

একই সঙ্গে নোবেল সম্মান পেলেন তাঁর স্ত্রী এস্থার ডাফলোও। পুরস্কৃত হলেন অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমারও।

বাঙালি পেল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন ও ড. মুহম্মদ ইউনুসের পর আরেক নোবেলজয়ী।

নোবেল কমিটি জানায়, দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে গবেষণার জন্যেই পুরস্কার দেওয়া হলো এই ত্রয়ীকে। এস্থার বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অর্থনীতির নোবেল প্রাপক। বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন তিনি।

এই মুহূর্তে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক অধ্যাপক হিসেবে এমআইটি-তে কর্মরত অভিজিৎ বিনায়ক। ২০১৩ সালে অভিজিৎ এবং এস্থার ডাফলো যুগ্মভাবে ‘আব্দুল লতিফ জামিল প্রভার্টি অ্যাকশান ল্যাব’গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বের দারিদ্র নিয়ে গবেষণার জন্যে। তাঁদের পরীক্ষামূলক গবেষণাকেই সম্মান জানাচ্ছে নোবেল কমিটি।

রক্তেই মিশে আছে অর্থনীতি

মা-বাবা দুজনেই অর্থনীতির স্বনামধন্য অধ্যাপক। তাঁদের ছেলেও অর্থনীতির শিক্ষক। বাবা-মার কর্মজীবন কেটেছে কলকাতাতেই। কিন্তু ছেলে এখন মার্কিন মুল্লুকের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক। আর আজ সোমবার এই বঙ্গসন্তানের প্রাপ্তির মুকুটে যুক্ত হলো নোবেল। যাঁর কথা বলা হচ্ছে, তাঁর পুরো নাম অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতায় জন্ম নেওয়া অভিজিৎ শুধু একাই নন, তাঁর স্ত্রী ফরাসি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থনীতিবিদ এস্তার দুফলোও এবার নোবেল পেয়েছেন।

অভিজিতের জন্ম কলকাতায় ১৯৬১ সালে। এমআইটির শিক্ষকতার পাশাপাশি একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত অভিজিৎ। তিনি আব্দুল লতিফ জামিল পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ইনোভেশন ফর পোভার্টি অ্যাকশনের গবেষক। তিনি কনসোর্টিয়াম অন ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেমস অ্যান্ড পোভার্টির সদস্য।

মা নির্মলা ব্যানার্জি ও বাবা দীপক ব্যানার্জির সন্তান অভিজিৎ। তাঁর মা নির্মলা কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসের অর্থনীতির অধ্যাপক। বাবা দীপক ব্যানার্জি কলকাতার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন।

অভিজিতের শৈশব-কৈশোর কেটেছে কলকাতাতেই। কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। পরে পড়েছেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। দিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটিতেও কেটেছে শিক্ষাজীবনের একটি অংশ। এরপর ১৯৮৮ সালে তিনি হাভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেছেন।

সুইডিশ রয়্যাল একাডেমি অর্থনীতিতে নোবেলের জন্য এই তিনজনের নাম ঘোষণা দিয়ে বলেছে, ‘বৈশ্বিক দারিদ্র্য নিরসনে এই ত্রয়ী আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। মাত্র দুই দশকে তাদের পরীক্ষামূলক গবেষণা উন্নয়ন অর্থনীতির মোড় পরিবর্তনে সহায়তা করেছে। এটা গবেষণার একটি নতুন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’

একাডেমি আরও বলেছে, এই তিনজনের পরীক্ষামূলক গবেষণা পদ্ধতি ৫০ লাখের বেশি ভারতীয় শিশুকে উপকৃত করেছে।

অভিজিৎ ব্যানার্জির প্রথম স্ত্রী অরুন্ধতী তুলি ব্যানার্জি এমআইটির প্রভাষক। তিনিও কলকাতাতেই বেড়ে ওঠেন। কবির ব্যানার্জি নামে দুজনের একটি ছেলেও ছিল। পরে অভিজিৎ-অরুন্ধতীর বিচ্ছেদ হয়। ২০১৬ সালে মারা যান এ দম্পতির ছেলে কবির। গবেষণার সঙ্গী এস্তার দুফলো ২০১৫ সালে অভিজিতের জীবনসঙ্গী হন।

বিশ্বের নামী সব সাময়িকীতে অসংখ্য লেখা প্রকাশ হয়েছে অভিজিৎ ব্যানার্জির। বই আছে নিজের লেখা চারটি। এর মধ্যে অভিজিৎ ও এস্তারের লেখা ‘পুওর ইকনোমিকস’ বইটি জিতেছে গোল্ডম্যান স্যাকস বিজনেস বুক অব দ্য ইয়ার পুরস্কার।

অভিজিতের নোবেল পাওয়ার খবরে উদ্বেল ভারতের বিদ্বৎ সমাজ। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী’র লেখক রামচন্দ্র গুহ টুইটারে লিখেছেন, ‘লেখাপড়ায় অসামান্য তিনি। এর পাশাপাশি হাতের রান্নাও দারুণ। আর ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতের একনিষ্ঠ ভক্ত তিনি। ভারতীয় সংস্কৃতির সর্বোত্তম দিকগুলোই তিনি তুলে ধরেন।’

অভিজিতের নোবেল জয়ে আনন্দিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইট বার্তায় মমতা লিখেছেন, ‘নোবেল জয়ে সাউথ পয়েন্ট স্কুল ও প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থীকে হৃদয় নিংড়ানো অভিনন্দন জানাই। আরেক বাঙালি জাতিকে আবার গর্বিত করলো। আমরা আপ্লুত।’



অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার এর সকল খবর