Dhaka, Friday, 06 December 2019

ঢাকায় আর লেখাপড়া করবে না আবরারের ছোট ভাই

2019-10-15 16:42:03
ঢাকায় আর লেখাপড়া করবে না আবরারের ছোট ভাই

সুখবর প্রতিবেদক: বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকায় আর পড়বে না। ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে মায়ের কোলে ফিরলো সে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা কলেজ থেকে ছাড়পত্র (টিসি) নিয়েছে। সে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হবে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হতে ঢাকা বোর্ড তাকে অনুমতি দিয়েছে। এর আগে ঢাকায় আর পড়ালেখা করবে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিল ফায়াজ। আবরার ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়তো।

কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেই প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমকর্মীদের ফায়াজ বলেছিল, ভাইকে হারিয়ে আমি একা হয়ে পড়েছি। ঢাকায় থাকার এখন কোনো মানে হয় না।

‘ফাহাদ ভাই আমার অভিভাবক ছিলেন। আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে যে সম্পর্কটি ছিল তা এক কথায় প্রকাশ করা যাবে না। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক এমন ছিল যে মা–বাবার কথা তেমন মনেই হতো না। আর সেই ভাই এখন নেই। কার জন্য তা হলে ঢাকায় পড়ে থাকব। বড় ভাইকে হারিয়ে মা-বাবা এমনিতেই দিশেহারা। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঢাকা আর না, কুষ্টিয়াতে পড়াশোনা করব। এটিই পরিকল্পনা।’

উল্লেখ্য, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের দিন ফায়াজ কুষ্টিয়াতেই ছিল। আবরার ফাহাদ যেদিন (রোববার) কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কের বাড়ি থেকে চলে যান, সেদিন সকালে ঘুমিয়ে ছিল ফায়াজ। ফায়াজ বলল, ‘ভাই যাওয়ার সময় মা ডেকেছিল। কিন্তু শুয়েই ছিলাম। আমাকে শুয়ে থাকতে দেখে ভাই বলল, তাড়াতাড়ি ঢাকায় চলে আসবি। আমি ঘুমের ঘোরেই হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়েছিলাম। ভাইয়ের সঙ্গে এটিই ছিল আমার শেষ কথা।’

কান্নারত কণ্ঠে সে বলে, এখন ভাই নেই, ঢাকায় আমি কার কাছে যাব? ভাইয়ের এমন হত্যাকাণ্ড ঘটনার পর কি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ফায়াজ! তাই ঢাকায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত? এমন প্রশ্ন ওঠার আগেই নিজের আবেগের কথা জানালো সে।

বলল, ‘কোনো ভয় থেকে নয়, সত্যি কথা হচ্ছে- ঢাকাতে নিয়ে ভাই (ফাহাদ) আমাকে ঢাকা কলেজে ভর্তি করিয়েছেন। সব ছিল ভাইয়ের ইচ্ছায়। ঢাকায় ও আমার অভিভাবক ছিল। বাবা-মা ওর হাতেই আমাকে তুলে দিয়েছিল। ভাই আমাকে সেভাবে যত্ন ও দেখভালও করতেন। এই যেমন ধরুন- মেসে পানি নেই, ভাইকে বলতাম, তিনি ব্যবস্থা করে দিতেন। এখন ও নেই, সেখানে কী করে থাকব আমি।’

প্রসঙ্গত, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জের ধরে আবরার ফাহাদকে রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।



শৈশব ও কৈশোর সর্বশেষ খবর

শৈশব ও কৈশোর এর সকল খবর