Dhaka, Monday, 09 December 2019

খুলে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

2019-11-06 17:13:51
খুলে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

ইব্রাহীম খলিল জুয়েল: বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হচ্ছে। কার্যত বেশ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে সম্মত হলো মালয়েশীয় সরকার। নানা কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই সুখবর এলো। আগামী মাস অর্থাৎ ডিসম্বের থেকেই বাংলাদেশী শ্রমিক নেবে দেশটি।

কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা এবং ভালো কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ। বুধবার (৬ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দেশটির স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারানের উপস্থিতিতে দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠক হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, ‘বন্ধ শ্রমবাজারটি চালু করতে দুই দেশই সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এ মাসের শেষ দিকে মালয়েশিয়া থেকে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসবে। সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বর থেকে ফের মালয়েশিয়াতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চালু হতে পারে।’

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার বিষয়ে কথা বলতে মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের সঙ্গে ১১ নভেম্বর বসবেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান।

আজকের বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ সচিব মো. সেলিম রেজা, অতিরিক্ত সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, যুগ্ম-সচিব ফজলুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, বিএমইটির পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, হাইকমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলাম এবং কাউন্সিলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনলাইন পদ্ধতি এসপিপিএ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি মালয়েশিয়া গিয়ে বৈঠক করলেও কোনো ইতিবাচক ফল মিলেনি। পরে ৩১ অক্টোবর ঢাকায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নতুন করে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

চলতি বছরের ১৪ মে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ মালয়েশিয়া সফরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন ও মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের অগ্রগতি হিসেবে ২৯ ও ৩০ মে মালয়েশিয়ায় দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার আগে বি টু বি প্লাস চুক্তির আওতায় কর্মী পাঠানো হতো। দেশের ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করত। তাদের বাইরে অন্য কোনো এজেন্সি সরাসরি লোক পাঠাতে পারতো না। এই প্রক্রিয়ায় দেশে এবং মালয়েশিয়ায় নানামুখী অনিয়মের অভিযোগে মালয়েশিয়া সরকার নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। পরে কর্মী নিয়োগের নতুন কোনো পদ্ধতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি দেশটি।

দেশের জনশক্তি রপ্তানির ৮০ শতাংশ যায় মধ্যপ্রাচ্যে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় শ্রমবাজার। কিন্তু সৌদিতে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি, আরব আমিরাতে সীমাবদ্ধতা, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে অনিয়মসহ নানা কারণে জনশক্তি রপ্তানি কমে এসেছে।



পর্যটন ও ভ্রমণ সর্বশেষ খবর

পর্যটন ও ভ্রমণ এর সকল খবর