Dhaka, Thursday, 05 December 2019

ঘুর্ণিঝড়ে ৪ জন নিহত, ৫ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

2019-11-10 18:28:02
ঘুর্ণিঝড়ে ৪ জন নিহত, ৫ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে দু’জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন । এ সময় চার থেকে ৫ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বেসরকারিভাবে ৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী এ সব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এখনো বাংলাদেশেই অবস্থান করছে। তবে সেটা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যাওয়ায় আজ বিকেলের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আর কালকে (সোমবার) আমরা একটা রোদ্রোজ্জ্বল দিন পাব বলে আশা করছি।’

বুলবুল দুর্বল হয়ে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর মহাবিপদ সংকেত ১০ থেকে ৩ নম্বরে নামানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে একুশে টেলিভিশনের খবরে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে খুলনা, পটুয়াখালী ও বরগুনায় নারীসহ ৪ জনের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়েছে। নিহতরা হলেন- খুলনার দাকোপ উপজেলার সুভাস মণ্ডলের স্ত্রী প্রমিলা মণ্ডল (৫২) ও একই জেলার দিঘুলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩৫), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর রামপুরা গ্রামের হামেদ ফকির (৬০) এবং বরগুনার হালিমা খাতুন (৬৫)।

খুলনার দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল ওয়াদুর জানান, শনিবার ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে প্রমিলা রাতে দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান নেন। রোববার সকালে নিজ বাড়িতে যান তিনি। সেসময় একটি গাছ তার মাথার ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান প্রমিলা।

এদিকে, দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটিতে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র আঘাতে ভেঙে পড়া গাছের ডালপালা সরাতে গিয়ে আরেকটি গাছের চাপা পড়ে আলমগীর হোসেন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে। তিনি কাটানী পাড়া ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফি মিস্ত্রির ছেলে।

অপরদিকে, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ঘর চাপা পড়ে হামেদ ফকির (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। শনিবার রাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার মাধবখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে দমকা হাওয়া শুরু হলে একটি রেইন্ট্রি ও একটি চাম্বল গাছ উপড়ে গিয়ে ঘরের ওপর পড়ে। এতে চাপা পড়ে ওই বৃদ্ধ ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে গণামধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন।

এছাড়া, বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়তলী ডিএল কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে হালিমা খাতুন (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, ভোলা ও লক্ষীপুরে অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।

তবে, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হতে থাকলে মহাবিপদ সংকেত প্রত্যাহার করে নেয় আবহাওয়া অধিদফতর। এতে করে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন।

আবহাওয়া বার্তায় জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে আকাশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।



প্রকৃতি ও পরিবেশ সর্বশেষ খবর

প্রকৃতি ও পরিবেশ এর সকল খবর