Dhaka, Friday, 29 May 2020

আবার ফিরে আসছে সোনালী আঁশের ঐতিহ্য   

2020-05-10 11:58:05
আবার ফিরে আসছে সোনালী আঁশের ঐতিহ্য 
 

সুখবর প্রতিবেদক: করোনা মহামারীর ধাক্কায় প্রায় সব খাতের রপ্তানি আয়ে ধস নামলেও নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘সোনালী আঁশ’পাট। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৭৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার আয় করেছে।

এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে চামড়াকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিল পাট খাত।

জুলাই-এপ্রিল সময়ে মোট ২ হাজার ৯৪৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩.০৯% কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে ২১.২৪% কম।

এই দশ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। তা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪.০৮% এবং লক্ষ্যের চেয়ে ২২.২৪% কম।

চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬.২৬% কম।

এই সময়ে হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ পাটপণ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেজিইএ) চেয়ারম্যান এম সাজ্জাদ হোসাইন সোহেল বলেন, “বিশ্ব বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় টাকার অংকে আমাদের রপ্তানি বেড়েছে, যদিও পরিমাণে খুব একটা বাড়েনি। তবে আমরা আশাবাদী, পাট আমাদের জন্য সুখবর বয়ে আনতে পারে।”

তবে মহামারীর ধাক্কা পাটেও লেগেছে জানিয়ে তিনি বলেন, মার্চ মাসে যেখানে এ খাতে রপ্তানিতে ২৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ছিল, লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকায় এপ্রিলে তা ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

তারপরও আশাবাদী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিজেজিইএ চেয়ারম্যান বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে অন্যান্য পণ্যের চাহিদা কমলেও পাটপণ্যের চাহিদা কমবে না। খাদ্যের জন্য ফসল ফলাতেই হবে, আর সেই ফসল প্যাকেট বা বস্তাবন্দি করতে পাটের থলে লাগবে। অষ্ট্রেলিয়া থেকে এরইমধ্যে অর্ডার পেতে শুরু করেছি আমরা।”

বস্তা বা ব্যাগের পাশাপাশি কার্পেটের জন্যও বাংলাদেশের পাটের চাহিদা বাড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “কার্পেট তৈরিতে আমাদের জুট ইয়ার্ন ব্যবহৃত হয়। কোভিড-১৯ আতঙ্কে অনেকেই বাসা বা অফিসের কার্পেট পরিবর্তন করবেন। তখন আমাদের পাটের কদর বাড়বে।”

২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে এক হাজার ২৬ কোটি ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। ওই একবারই এ খাতের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের পাট খাত থেকে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থবছর শেষে এরচেয়ে বেশিই আসবে বলে আশা করছেন বিজেজিইএ চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসাইন সোহেল।

সোহেল জানান, বিশ্ব বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মতো বেড়েছে। কাঁচা পাটের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশের মতো বিশ্বব্যাপী পলিথিনের ব্যবহার কমায় পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে।

“ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। আমরা আমাদের সোনালী আঁশের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারবো যদি এ খাতের দিকে একটু নজর দিই। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ ছাড়া আর মাত্র একটি-দুটি দেশে পাট উৎপাদন হয়। বিশ্ব যত বদলাবে পাট পণ্যের চাহিদা তত বাড়বে।”





কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সর্বশেষ খবর

কৃষি ও প্রাণিসম্পদ এর সকল খবর