Dhaka, Saturday, 15 August 2020

নীলফামারীতে তিল চাষে ঝুঁকছে কৃষক: লাভের পাশাপাশি বাড়ছে জমির উর্বরতাও

2020-06-05 19:50:08
নীলফামারীতে তিল চাষে ঝুঁকছে কৃষক: লাভের পাশাপাশি বাড়ছে জমির উর্বরতাও

ওমর বিন আমিন, নীলফামারী প্রতিনিধি: রাসায়নিক সারের বহুল ব্যবহারে ভূমির উর্বরতা শক্তি আর আগের মত নেই- এমনটাই মনে করেন নীলফামারীর অনেক কৃষক। ভূমির উৎপাদনী শক্তি ফেরাতে তাদের আবাদের তালিকায় ঢুকে পড়ছে তিলের চাষ। যা খুবই লাভজনক হয়ে উঠেছে কৃষকদের কাছে। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, তিলের চাষ নীলফামারীর ভূমিতে জৈব ঘাটতি পূরণ করছে। এটি কৃষকের জন্যও শুভ।

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি আলু মৌশুমের শেষ থেকে আমন বপনের আগ পর্যন্ত তিন মাস নীলফামারীর উচু জমিগুলো মোটামুটি বেকার পড়ে থাকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছর আগে ভূমির উর্বরা শক্তি ফেরাতে সদর উপজেলার লক্ষীচাপে অল্প কিছু কৃষক তিলের চাষ শুরু করেন। যত্নআত্তি, সার, সেচ কিছুই লাগে না তিল চাষ করতে। পাশাপাশি তিল ক্ষেতের ঘাস গবাদি পশুর খাদ্য চাহিদা পূরণ করে।

লক্ষীচাপ ইউনিয়নের তিল চাষী মোতলেব আলী জানান, এক বিঘা জমিতে ১১০ টাকা দরের এক কেজি তিল বীজ ছিটালে মৌশুম শেষে চার থেকে পাঁচ মণ তিল পাওয়া যায়। যা ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় দেয়। তিনি বলেন, এ সময় আমাদের জমিগুলো ফাঁকা থাকে।

ঐ ইউনিয়নের দুবাছুরী গ্রামের তিল চাষী মোন্নাফ তালুকদার বলেন, তিল চাষের মুনাফা পরবর্তী আমন মৌশুমে আবাদ খরচ হিসাবে বিনিয়োগ করা যায়। এই টাকা কৃষকদের দাদনদারের হাত থেকে রেহাই দেয়। তিলের টাকা না পেলে আমন চাষের জন্য এই এলাকার কৃষকরা দাদন নিতে বাধ্য হত।

কবেজ গ্রামের তিল চাষী আশরাফুল ইসলাম জানান, এখন আর আগের মত জমির শক্তি নাই। রাসায়নিক সার দিতে দিতে শক্তি কমে গেছে। তিল গাছের পাতা পড়ে জমির উর্বরা শক্তি অনেক বাড়ে। ফলে পরবর্তী আমন মৌশুমে কম সার ব্যবহার করলেই ভাল ফসল পাওয়া যায়।

লক্ষীচাপ ইউনিয়নে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম রাকিব আবেদীন বলেন, কৃষকদের মধ্যে সবুজ সারের ধারণা সৃষ্টিতে কাজ করছে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে অল্প কিছু কৃষক তিল চাষ শুরু করলেও এখন সংখ্যা বেড়ে গেছে। তিলের চাষ এ অঞ্চলে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। তিলের চাষ একদিকে যেমন চাষীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে পারছে, অন্যদিকে জমির উর্বরা শক্তি ফেরাতে সাহায্য করছে।

নীলফামারী জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, জেলার মাটিতে পাঁচ ভাগ জৈব পদার্থ থাকার কথা থাকলেও তা একভাগেরও কম রয়েছে। তিল চাষ মাটির জৈব ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এ অঞ্চলে তিল চাষের প্রচলন মাটি ও কৃষকের জন্য অত্যন্ত শুভ।





কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সর্বশেষ খবর

কৃষি ও প্রাণিসম্পদ এর সকল খবর