Dhaka, Wednesday, 12 August 2020

আত্মজীবনী: “অপরাজিত জীবন” - ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি : পর্ব-৩৪

2020-06-29 19:33:54
আত্মজীবনী: “অপরাজিত জীবন” - ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি : পর্ব-৩৪

সুখবর প্রতিবেদক: ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি, ব্যক্তি জীবনে একজন সফল মানুষ, সফল ব্যবসায়ী। জীবনটা শুরু হয়েছিল অনেক কষ্টে। শৈশবেই দেখেছিলেন জীবনের কঠিন রূপ। একবেলা খাবারের জন্যে কত কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। লেখাপড়াটা হয় কী হয় না, এমন অনিশ্চয়তার মাঝেও জীবনের কাছে হার মানেননি তিনি। স্রোতের প্রতিকূলে বেয়ে নিয়েছেন জীবন নামের নৌকাটিকে। পরবর্তীতে দেশে-বিদেশে নামী-দামী ডিগ্রি নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক, টেকনোমিডিয়া লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টের, রাষ্ট্রায়ত্ত শ্যামপুর সুগার মিল লিঃ এর অডিট কমিটির চেয়ারম্যান, পে ইউনিয়ন বাংলাদেশ লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ জড়িয়ে আছেন অনেক ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের সাথে। আত্মজীবনীতে তিনি অকপটে তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনের কঠিন সেই দিনগুলির কথা।

ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি’র আত্মজীবনী “অপরাজিত জীবন”ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ‘সুখবরডটকম’ -এ। প্রতিদিন আপডেট হচ্ছে এক পর্ব করে।

অপরাজিত জীবন

ড. যশোদা জীবন দেব নাথ

পর্ব-৩৪

কখনও আশ্রয়স্থল দেশ ও দেশের প্রধানমন্ত্রী আবার কখনও বা জীবন চলার জন্য প্রয়োজন হয় নিকটতম বন্ধুদের। আমি তখন ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় থাকতাম কিন্তু দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আমার সখ্যতা গড়ে উঠতে থাকলো ধানমন্ডি কেন্দ্রিক বন্ধুবান্ধবদের সাথে। সখ্যতার এমন এক পর্যায় চলে গেলাম সেখানে বাধ্য হয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হলো ধানমন্ডিতে বাসা নেওয়ার। পূজাকে কেন্দ্র করে পরিচয় হয়ে উঠলো- তপন সরকার, স্বপন ঘোষ, উত্তম ঘোষ, দিলিপ চৌধুরী, বিদ্যুত দা, শ্যামল দা, শৈলন দা, ভৌমিক দা, গৌরঙ্গ দা, আইন দা, উনার দুই ছেলে লিটন ও রিপন, বি কে চৌধুরী, যতি দাস কুন্ড, মনা পাল, বিশু ঘোষ, দুলাল দা, অমর পোদ্দার, বি কে নাথ, সরোজ সাহা, শ্যামা দা, অঞ্জন দা, চন্দন দা, ভজন দা, চিত্ত দা, নন্দ দা, গনেশ দা, বিশ্বজিৎ দা, নিখিল দা, পার্থ দা, সোমেন, দুর্লভ, সতীন দা, শিবু দা, বড়াই দা, রমেন দা, রাজু, প্রদীপ দা, নিপু বৌদি, গীতা বৌদি, জবা বৌদি, শ্যামলী বৌদি, ঈশিতা বৌদি, লাকী কাকিমা, মনোরঞ্জন কাকু, ফনি দা, কেশব দা, মানিক স্যার, স্বপ্না ভট্টাচার্য্য, জয়ন্তী বৌদি, অনিতা বৌদি, অলোক সাহা, লিপি বৌদি, কাজল বৌদি, উত্তম সাহা, শ্যামা মন্ডল, তন্ময়, পরিমল দা, সুবর্ণা বৌদি, ঝর্ণা সাহা, মিতা মজুমদার, সীমা রায়, কাজল বৌদি, উত্তম সাহা, অরণ্য মন্ডল, তন্ময়, পরিমল দা, যুথিকা বৌদি, পুতুল ভক্ত, মিতা মজুমদার, সীমা রায়, শিশির দুয়ারী, কাজল বৌদি, উত্তম সাহা, আরো অনেকের সাথে।

এদের সাথে সম্পর্ক হয়ে উঠলো এক আত্মার সম্পর্ক। কখনও সকালে আবার কখনও বা সন্ধ্যায় অসিত দা, ময়না দি তো আসেই, ময়নাদি সোমার জেঠাতো বোন, অসিত দা ময়না দি’র বর, সকল আড্ডায় ওরা তো থাকতোই। যাই হোক এদের সাথে সম্পর্ক হয়ে উঠলো এক আত্মার সম্পর্ক। কখনও সকালে আবার কখনও বা সন্ধ্যায় কারো কারো সাথে কথা না বললে যেন দিনটাই অসমাপ্ত রয়ে গেছে। পূজার তিন-চার মাস আগে থেকেই শুরু হতো আমাদের সোশ্যাল প্রোগ্রাম, কখনও দুলাল দা ও জবা বৌদির বাসায়, কখনো শ্যামল দা, নিপু বৌদির বাসায় আবার কখনো বা যতিদার বাসায়। বাদ পড়তো না বিদ্যুত দা’র বাসায়ও। পূজা আসলেই চলতো আমাদের নানা আয়োজনের কল্পনা। কখনও বা ধানমন্ডি ক্লাবে আবার কখনও বা বাসার মিটিং রুমে, বাদ পড়তো না তপন দা, দিলিপ চৌধুরীর বাসায় যেতেও। এ যেন এক অদ্ভূত আত্মার আত্মীয়র বন্ধন সৃষ্টি হলো একে অপরের সাথে। কখনও আমাদের মিটিং হতো ওয়েস্টিনে, শেরাটন অথবা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলেও।

পূজাকে কেন্দ্র করেই আমাদের ধানমন্ডির একে অপরের সম্পর্ক যেন আমরা পৌঁছে গেলাম এক অনন্য শিখরে। মনে হতে লাগলো এ বন্ধন যেনো জন্ম জন্মান্তরের আত্মীয়র বন্ধন। আড্ডা দিতে থাকলাম রবীন্দ্র সরোবরে অথবা কোনো লেকের পাড়ে, সকালে বসি তো দুপুর গড়িয়ে যায় যেনো আড্ডা শেষ হয় না, কতবারই না আমরা খেয়েছি স্টারে সকালের নাস্তা। এই আড্ডার ছলে আমরা করেছিলাম বন্ধুদের ভাগ্য উন্নয়নের একটি ব্যবসায়িক অর্গানাইজেশন "ইম্প্রুভমেন্ট কো-অপারেটিভ" যা এখন চলছে অত্যন্ত সুনামের সাথে। "বন্ধুদের প্রয়োজনে আমরাই আমাদের তরে" এই শ্লোগান আমাদের পৌঁছে দিয়েছে আর এক বন্ধনে। আমি সেই সকল বন্ধুদের ধন্যবাদ দিতে চাই যারা এখন পযর্ন্ত এই সংগঠনটি আঁকড়ে ধরে আছে। আমি তাদের নামগুলো রেখে দিতে চাই আমার বায়োগ্রাফিতে, তারা হলো- বিদ্যুত ভৌমিক, আওলাদ হোসেন ভুইয়া, আবুল কালাম ভুইয়া, শ্যামল সাহা, দুলাল রায়, অসিত বরণ পাল, জিয়া হায়দার মিঠু, সোমা দেব নাথ, কেশব রায়, গৌরাঙ্গ ভৌমিক, বিজয় বসাক, অনিতা হালদার, লতা কুন্ডু, মকলেচুর রহমান, প্রদীপ কর্মকার, রেজাউল করিম, মোহাম্মদ লিয়াকত হোসেন, ভোলা নাথ ঘোষ, দিলিপ ঘোষ, অনিতা হালদার, লতা কুন্ডু এবং আমিসহ তৈরি করেছিলাম ঐ অর্গানাইজেশনটি যা এখন একে অপরের সহযোগিতায় তৈরি করেছে এক মিলনমেলার মেলবন্ধন।

এই মেলবন্ধনে আমরা একে অপরের পরিপূরক। আর এই বন্ধনের সূত্র ধরে হতে হয়েছে একাধিকবার পরিচালক ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের। পরিচিতি এসেছে ফিরোজ ভাই, সভাপতি, টিংকু ভাই, আফজাল বাবু ভাই, বাবলু ভাইসহ অন্যান্য ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের পরিচালকদের সাথে। ক্লাবের অন্য সদস্যদের কাছে ছিলাম প্রিয়পাত্র হিসাবে। একদিন ক্লাবের ইসি কমিটিতে আলাপ হচ্ছিল কলাবাগান মসজিদে গরমে মুসল্লিদের নামাজ পড়তে অসুবিধা হচ্ছে- এ কথা আলাপ করছিলেন সভাপতি ফিরোজ ভাই আর ঐ সময়ে আমার ধানমন্ডি বাসার জন্য এনেছিলাম সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনার যা বাসায় লাগানোর অপেক্ষায় ছিলো। জানি না কী মনে হলো? আমি ফিরোজ ভাইকে বললাম- ফিরোজ ভাই আমি যদি সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনার দান করি তাহলে মসজিদ কতৃপক্ষ কি নেবে? ফিরোজ ভাই বলল কেন নিবে না? কবে দিতে চাও? বললাম কালই দিবো- কথার সাথে কাজের মিল রেখে কালই দিয়ে দিলাম থাইল্যান্ড থেকে আমার আনা ২০ টনের সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনার। এই দানে আমার মনে এসেছে এক প্রকার স্বস্তি। ভেবে নিলাম বাসায় ঠান্ডা বাতাস খাওয়ার চেয়ে ঐ ক্লান্ত মুসল্লিদের একটু স্বস্তির অনুভূতি অনেক ভালো। মসজিদ বা মন্দির তো একই কথা।

এর পরও থেমে থাকে না আমাদের সোশ্যাল অর্গানাইজেশন করতে, যুক্ত হলাম "সৌহার্দ্য" নামে একটি সামাজিক প্লাটফর্মে। যুক্ত হলাম "ফ্রেন্ডস সেভিং প্লান" নামে আর একটি অর্গানাইজেশনে। এগুলো সবই ধানমন্ডি কেন্দ্রিক। আস্তে আস্তে পরিচিত হয়ে উঠলাম ধানমন্ডির স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের কাছে। একটাই স্বপ্ন সবাই একসাথে চলবো, একে অপরের উপকারে পাশে দাঁড়াবো। এই মেলবন্ধনে আমরা একে অপরের পরিপূরক।

একবার আমরা মিলে চলে গেলাম কক্সবাজারের টিউলিপ হোটেলে। কতই না আনন্দ সবাই মিলে, পরিবারের সবাই আনন্দ করলাম একসাথে। বাচ্চাদেরও আনন্দের কমতি ছিল না। এই মিলনমেলার বন্ধন পারিবারিক বন্ধনের সাথে তুলনা করা যায়। তুলনা করা যায়, বন্ধুত্ব কখনো বা আত্মার আত্মীয় হয়ে যায়...





জীবন ও পরিবার সর্বশেষ খবর

জীবন ও পরিবার এর সকল খবর