Dhaka, Tuesday, 11 August 2020

আত্মজীবনী: “অপরাজিত জীবন” - ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি : পর্ব-৩৬

2020-07-01 20:46:02
আত্মজীবনী: “অপরাজিত জীবন” - ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি : পর্ব-৩৬

সুখবর প্রতিবেদক: ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি, ব্যক্তি জীবনে একজন সফল মানুষ, সফল ব্যবসায়ী। জীবনটা শুরু হয়েছিল অনেক কষ্টে। শৈশবেই দেখেছিলেন জীবনের কঠিন রূপ। একবেলা খাবারের জন্যে কত কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। লেখাপড়াটা হয় কী হয় না, এমন অনিশ্চয়তার মাঝেও জীবনের কাছে হার মানেননি তিনি। স্রোতের প্রতিকূলে বেয়ে নিয়েছেন জীবন নামের নৌকাটিকে। পরবর্তীতে দেশে-বিদেশে নামী-দামী ডিগ্রি নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক, টেকনোমিডিয়া লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টের, রাষ্ট্রায়ত্ত শ্যামপুর সুগার মিল লিঃ এর অডিট কমিটির চেয়ারম্যান, পে ইউনিয়ন বাংলাদেশ লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ জড়িয়ে আছেন অনেক ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের সাথে। আত্মজীবনীতে তিনি অকপটে তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনের কঠিন সেই দিনগুলির কথা।

ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি’র আত্মজীবনী “অপরাজিত জীবন”ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ‘সুখবরডটকম’ -এ। প্রতিদিন আপডেট হচ্ছে এক পর্ব করে।

অপরাজিত জীবন

ড. যশোদা জীবন দেব নাথ

পর্ব-৩৬

ব্যাবসায়িক পরিধিতে অনেক সময় পার হয়েছে আমার, ব্যাবসায়িক পরিধি বেড়েছে, কোম্পানি একের অধিক হয়েছে- প্রোটেকশন ওয়ান প্রাইভেট লিমিটেড, টেকনোকনফিডেন্স সিকিউরিটিস লিমিটেড, ডেল্টা ফোর্স প্রাইভেট লিমিটেড, লেনদেন বিডি লিমিটেড, পে-ইউনিয়ন বিডি লিমিটেড। পে-ইউনিয়ন করতে যেয়ে পরিচয় হয়, মেজর জেনারেল মঞ্জুর হোসেন, অবসর প্রাপ্ত, উনিই পে-ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পরিচয় হয় আমাদের গোপালগঞ্জের বদিউজ্জামান ভাই এর সাথে, উনি সিঙ্গাপুরে থাকেন, এনআরবি ব্যাংকের ইসি চেয়ারম্যান, উনিও পে-ইউনিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান, আমাকে বানালেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আমার সাথে আরো দুইজন পরিচালক হলেন। বদিউজ্জামান ভাই অত্যন্ত ভালো মানুষ। তার সিনসিয়ারিটি এক অনন্য উদাহরণ। এমন কোনো দিন নাই যে জামান ভাই এর কথা হয় না। উনি প্রতি মাসেই একবার দেশে আসেন। ব্যাংকের ইসি চেয়ারম্যান হিসাবে তার আসতেই হয়। সম্পর্কটা যেন আস্তে আস্তে জামান ভাই এর সাথে গভীর হতে লাগলো। মানিক ভাইও একজন প্রতিনিধি দিলেন কোম্পানির পরিচালক হিসাবে।

কোম্পানির কাগজপত্র করতে বেশ সময় লেগে গেলো। জামান ভাই পরিচয় করিয়ে দিলেন বেনজীর ভাই এর সাথে, বেনজীর ভাই তখন র‌্যাবের ডিজি। বেনজীর ভাই এর বাসায় অনেকবারই গিয়েছি। উনি আমাদেরকে ঢাকা বোর্ড ক্লাবের মেম্বার করে দিয়েছিলেন। আমাদের প্রতি তার আন্তরিকতা বেশ ভালো। মাঝে মাঝে উনার বাসায় যেতাম, প্রয়োজন হলে যেতাম তার অফিসেও। যেহেতু উনি আমাকে ঢাকা বোর্ড ক্লাবের মেম্বার করে দিয়েছেন, কিছুটা প্রতিদানও আমাকে দিতে হয়, তাই সুযোগ হলো প্রতিদান দেওয়ার, বেনজীর ভাই এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুর হোসেন ভাইকে করে দিলাম ধানমন্ডি ক্লাব এবং ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ ক্লাবের সদস্য। হয়তো একদিন এই সদস্য পদটি উপকারে আসবে।

যাই হোক, এভাবেই কিছুটা সময় দিতে হচ্ছে, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিস, ইন্ডিয়া ইম্পোর্ট চেম্বার, কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিস, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ ক্লাবের ব্যাপারে বেশ কিছুটা সময় দিতে হচ্ছে। নতুন ক্লাব তৈরি করা একটা কষ্টসাধ্য ব্যাপারও বটে। যদিও ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ ক্লাবের ব্যাপারে তৎকালীন হাইকমিশনার হর্স বর্ধন শ্রিংলার কিছুটা অনুপ্রেরণা ছিলো, ছিলো হাইকমিশনের পলিটিক্যাল সেক্রেটারি-২ রাজেশ উইকেরও। অনেকবারই আলাপ হয়েছে হাইকমিশনার মহোদয়ের সাথে এই ক্লাব নিয়ে। এই ক্লাবের কাগজপত্র, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেতে সময় লেগে গেলো অনেক দিন, যা নাছির ভাই ধৈর্যের সাথে করে গেলেন। নাছির ভাই এর ধৈর্যের জন্য এবং সার্বক্ষণিক লেগে থাকার জন্য তাকেই আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতির দায়িত্ব দিলাম।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর এর দায়িত্ব দিলাম আমাদের ফরিদপুরের ছোট ভাই লেলিনকে। একদিন আমরা ২০-২৫ জন ভাবি মেম্বারকে ডাকলাম প্রাথমিক আলোচনা করার জন্য- উপস্থিত হয়ে গেলো ৫০ জনের উপরে। ক্লাব করতে অর্থ লাগে তাই সদস্য ফি ধরলাম ৩ লক্ষ টাকা। সময় দিলাম ১৫ দিন, সবাইকে ডাকলাম ওয়েস্টিনে, আমার প্রতি বন্ধুদের বিশ্বাসের সূত্র ধরে ভাবি মেম্বার এসে পড়লো ১৫০ থেকে ১৭৫ জন। অবাক হয়ে গেলাম সবাই ক্লাবের নির্ধারিত ফি ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে এসেছে। লেলিন তো চেক সংগ্রহ করতেই হিমশিম খেয়ে গেলো। কেউ কেউ আমাদের ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ ক্লাব সম্পর্কিত আলাপ-আলোচনায় ও অনুষ্ঠানে এতটাই মুগ্ধ যে, আপন মনেই ক্লাবের ফি এর চেক লেলিনকে জমা না দিয়ে হোটেলের টেবিলে ফেলে চলে গেছে। পরে অবশ্য লেলিন সেই চেকগুলো হোটেল থেকে সংগ্রহ করেছিল।

মানুষের বিশ্বাস, সততা এবং আস্থা হয়তো আমি রক্ষা করতে পেরেছিলাম, ক্লাবের দীর্ঘ স্থায়িত্বের কারণে সসম্মানে প্রতিজন সদস্যকে আবার আমরা ক্লাবের টাকাগুলো ফেরতও দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিলাম ক্লাবের ছোটখাট কিছু জটিলতা শেষ করে আবার আমরা শুরু করবো বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ ক্লাব, যাতে পূর্ণাঙ্গ রূপে ক্লাবটি তৈরি করতে পারি। বনানীতে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ ক্লাবের একটি লিয়াজোঁ অফিস নেওয়া হয়েছে, পরবর্তীকালে ক্লাবের কার্যকলাপ চালানোর জন্য...





জীবন ও পরিবার সর্বশেষ খবর

জীবন ও পরিবার এর সকল খবর