Dhaka, Saturday, 15 August 2020

আত্মজীবনী: “অপরাজিত জীবন” - ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি : পর্ব-৩৯

2020-07-04 19:02:41
আত্মজীবনী: “অপরাজিত জীবন” - ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি : পর্ব-৩৯

সুখবর প্রতিবেদক: ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি, ব্যক্তি জীবনে একজন সফল মানুষ, সফল ব্যবসায়ী। জীবনটা শুরু হয়েছিল অনেক কষ্টে। শৈশবেই দেখেছিলেন জীবনের কঠিন রূপ। একবেলা খাবারের জন্যে কত কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। লেখাপড়াটা হয় কী হয় না, এমন অনিশ্চয়তার মাঝেও জীবনের কাছে হার মানেননি তিনি। স্রোতের প্রতিকূলে বেয়ে নিয়েছেন জীবন নামের নৌকাটিকে। পরবর্তীতে দেশে-বিদেশে নামী-দামী ডিগ্রি নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক, টেকনোমিডিয়া লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টের, রাষ্ট্রায়ত্ত শ্যামপুর সুগার মিল লিঃ এর অডিট কমিটির চেয়ারম্যান, পে ইউনিয়ন বাংলাদেশ লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ জড়িয়ে আছেন অনেক ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের সাথে। আত্মজীবনীতে তিনি অকপটে তুলে ধরেছেন তাঁর জীবনের কঠিন সেই দিনগুলির কথা।

ড. যশোদা জীবন দেব নাথ, সিআইপি’র আত্মজীবনী “অপরাজিত জীবন”ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ‘সুখবরডটকম’ -এ। প্রতিদিন আপডেট হচ্ছে এক পর্ব করে।

অপরাজিত জীবন

ড. যশোদা জীবন দেব নাথ

পর্ব-৩৯

আমার সহযোগিতার হাত আর একটু প্রসারিত করলাম কানাইপুরের বন্ধুদের নিয়ে। বন্ধুরা তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলো এই করোনা মহামারিতে। দেওয়া হলো তিন-চারশো পরিবারকে খাদ্য সহায়তা। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই কানাইপুরের সেই সকল বন্ধুদের যারা আমার দৈনন্দিন জীবনের সাথে মিশে আছে। প্রতিদিন কথা না বললে যেন পেটের ভাত হজম হয় না। আমি তাদের নাম কৃতজ্ঞতার সাথে সর্বদা স্মরণ করি। তারা হলো: ফকির মোঃ বেলায়েত হোসেন, আরিফুজ্জামান চান, আজিজুর রহমান, কমোলেশ সাহা, হুমায়ুন কবির, জাহিদুল ইসলাম, শেখর ভক্ত, মহসীন আলী, নাজমা জামান, অশোক বসু, নিখিল দে, বরুন দত্ত, তৌহিদ মুরাদ, ছলেমান মোল্যা, জাহাঙ্গীর খাঁন, বাবুল খাঁন, শাহিনুল ইসলাম, দিলীপ সেন, পীযুষ সিকদার, আশরাফুল আলম, ইউসুফ আলী, বিকাশ দাস, ইশারত হোসেন। করোনা মহামারিতে আমার ঐ বন্ধুরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সমাজে রেখেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাই বলতে হয় "দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ"।

এই মহামারি করোনা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে কিভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। যে যতটুকু পেরেছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বন্ধু আরিফুজ্জামান চাঁনের কাজকর্ম ছিলো এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

এই দৃষ্টান্তে কখনও কখনও মনে হয় জীবন বাঁচানোর জন্য এত আয়োজন, মাঝে মাঝে পরিহাস মনে হয়। সত্যি কি আমাদের জীবনের এতটা মূল্য আছে?

চলে যেতে পারি এই পৃথিবী ছেড়ে যে কোনো সময়, যে কোনো মুহূর্তে। ফুলের সুবাস ভেবে শ্বাস নিয়ে দেখি মিথাইল আইসো সায়ানেট অথবা স্টাইরিন গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধ। অথবা চেরনোবিলের মতো অদৃশ্য গন্ধহীন, বর্ণহীন তেজস্ক্রিয়তা। চলে যেতে পারি ঘুমের মধ্যে। চলে যেতে পারি দিনে-দুপুরে। হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে শেষ নিঃশ্বাস নিতে পারি। শেষ নিঃশ্বাস নিতে পারি খোলা রাস্তার বিষাক্ত বাতাসে। এই বিষ আমাদেরই তৈরি। অমরত্বের আশা নিয়ে অমৃত তৈরির চেষ্টায় বানিয়ে ফেলেছি গরল।

কে আমাদের রক্ষা করবে? রাষ্ট্র? বয়ে গেছে রাষ্ট্রের। বাড়ি ফেরার আশায় মানুষ শত শত কিলোমিটার পথ হাঁটছে। প্রেয়সীর হাতের ছোঁয়া, গুরুজনের স্নেহের বকুনি। সেই স্বপ্ন নিয়ে মানুষেরা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কেউ আমাদের রক্ষা করবে না। আমরা প্রতি মুহূর্তে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছি। তবুও আমরা বেঁচে আছি। অসংখ্য মহামারীকে হারিয়ে প্রবলভাবে বেঁচে আছি। বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেও তুলসী তলায় শান্তির প্রদীপ জ্বালিয়েছি। আমরা বেঁচে থাকবো বন্ধুদের ভালোবাসায়, স্নেহে, প্রতিবাদে। আমরা বেঁচে থাকব রবি ঠাকুরের গানে।

“বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা-

বিপদে আমি না যেন করি ভয়।

দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,

দুঃখে যেন করিতে পারি জয়॥

সহায় মোর না যদি জুটে নিজের বল না যেন টুটে,

সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা

নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।

আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা-

তরিতে পারি শকতি যেন রয়।

আমার ভার লাঘব করি নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,

বহিতে পারি এমনি যেন হয়।

নম্রশিরে সুখের দিনে তোমারি মুখ লইব চিনে-

দুখের রাতে নিখিল ধরা যেদিন করে বঞ্চনা

তোমারে যেন না করি সংশয়।"

তবুও আমরা বেঁচে আছি, এক অজানা সভ্যতার দিকে ধাবিত হচ্ছি, সূর্যের রশ্মি যেন যাচ্ছে লকডাউনে তবুও আমরা বেঁচে আছি, বেঁচে আছি বন্ধুদের ভালোবাসায়, একবুক ভালোবাসা বন্ধুদের প্রতি, যারা সত্যিকারে কাজ করে মানবতার জন্য। আমি ঐ বন্ধুদের জানাই হাজার ছালাম-

কানাইপুরের বন্ধুরা,

ভালো লাগে তোমাদের ঐ স্কুলের মাঠে জড়ো হয়ে আড্ডা দেওয়া, ভালো লাগে তোমাদের ঐ সিকদার বাড়ির পাঁচ দুয়ারে, কবিরের কতো না মজাদার কথায়, ভালো লাগে কখনও নিখিলের মুখ খিস্তি ভাষায়,

ভালো লাগে কখনও মহসিনের গুরুগম্ভীর ভাষায়, ভালো লাগে কখনও পিষুসের কবিতায়, চানের বাসায় আড্ডা মন মাতানো কথা, শাহীন কি এখনও বলে? হ্যারে চান, শাহীন চত্বরের নাম আছে কি আগেরি মতো?

এবার ঈদে ইশা কি দাওয়াত দিছিলো আমাদেরকে?

এই মহামারি করোনা করে দিলো সব লন্ডভন্ড,

তবুও ভালো লাগে তোমাদের, আছো সবাই এক সাথে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ঐ অসহায়ত্বের মানুষটির দিকে চেয়ে...





ব্যক্তিত্ব ও জীবনী সর্বশেষ খবর

ব্যক্তিত্ব ও জীবনী এর সকল খবর