Dhaka, Wednesday, 12 August 2020

করোনা ভাইরাসের বিপজ্জনক প্রোটিনগুলো বাংলাদেশে সক্রিয় নয়:  বিসিএসআইআর

2020-07-20 09:47:00
করোনা ভাইরাসের বিপজ্জনক প্রোটিনগুলো বাংলাদেশে সক্রিয় নয়:  বিসিএসআইআর

সুখবর প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার জন্য যে বিপজ্জনক প্রোটিনগুলো দায়ী, সেই প্রোটিনগুলো বাংলাদেশে এখনো সক্রিয় হতে পারেনি। বাংলাদেশে করোনায় সক্রিয় প্রোটিনটি হলো ‘ডি৬১৪জি’। যা মহামারি ঘটানোর মতো বিপজ্জনক নয়। বলছিলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) জিনোমিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সেলিম খান।

করোনা ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য বের করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন দেশের বিজ্ঞানীরা। গত ১৬ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা ২২২টি করোনা ভাইরাসের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেছেন। এর মধ্যে ১৭১টি করোনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের জিনোমিক রিসার্চ সেন্টারের একদল বিজ্ঞানী।

বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যে তার জিনোমিক পর্যায়ে ৫৯০টি ও প্রোটিন পর্যায়ে ২৭৩টি পরিবর্তন ঘটিয়েছে। একটা করোনা ভাইরাসে ১,২৭৪টি প্রোটিন থাকে। এর মধ্যে 'ডি৬১৪জি' নম্বর প্রোটিনটি বাংলাদেশে সক্রিয়। জিনোমিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সেলিম খান বলেছেন, যেসব দেশে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়েছে বিপজ্জনক পর্যায়ে গেছে, সেসব দেশে ভাইরাসটির জিনে ৩৪৬ নম্বর থেকে ৫১২ নম্বর প্রোটিন মারাত্মকভাবে সক্রিয় ছিল, বাংলাদেশে এখনো এটি দেখা যায়নি।

এই ২২২টি করোনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিন রহস্য করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সের উন্মুক্ত তথ্য-ভান্ডার জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (জিসএআইডি) ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনলিক্যাল ইনফরমেশনে (এনসিবিআই) প্রকাশিত হয়েছে। বিসিএসআইআর ছাড়া আরও নয়টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান করোনা ভাইরাসের জিন রহস্য উন্মোচনের গবেষণায় কাজ করছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনার জিন রহস্য বা জিন সিকোয়েন্স উন্মোচন হচ্ছে ভাইরাসটির পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য বের করা। এতে করে করোনা ভাইরাসের গতি, প্রকৃতি, আচরণগত বৈশিষ্ট্য জানা যাচ্ছে। জিনের ভেতরেই সব তথ্য লুকানো থাকে। জিন রহস্য বের করার মাধ্যমে কোনো প্রাণী বা করোনা ভাইরাসের রূপান্তরের (মিউটেশন) ধারা বোঝা যায়। এতে করে ভাইরাসটির গতি-প্রকৃতি বুঝে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ সহজ হয়।

বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা জানান, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যে তার জিনোমিক পর্যায়ে ৫৯০টি ও প্রোটিন পর্যায়ে ২৭৩টি পরিবর্তন ঘটিয়েছে। দেশে সংক্রমিত হওয়া করোনা ভাইরাসের ধরন দেখে বোঝা গেছে, ১ হাজার ২৭৪টির মধ্যে 'ডি৬১৪জি' নম্বর প্রোটিনটি বাংলাদেশে সক্রিয়। এই প্রোটিনটিই বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঘটানোর প্রধান কারণ। জিন রহস্য উন্মোচন হওয়া করোনা ভাইরাসের ৯৫ শতাংশের মধ্যে এই প্রোটিনটি সক্রিয় ছিল বলে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন।

জিনোমিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সেলিম খান বলেন, যেসব দেশে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়েছে সেসব দেশে করোনা ভাইরাসের জিনে ৩৪৬ নম্বর থেকে ৫১২ নম্বর প্রোটিন মারাত্মকভাবে সক্রিয় ছিল, যা বাংলাদেশে এখনো দেখা যায়নি। এটা একটা স্বস্তির কথা। তবে করোনা ভাইরাস যেহেতু দ্রুত রূপান্তর হয় তাই বড় পরিসরে এর জিন রহস্য উন্মোচনের কাজটি অব্যাহত রাখা জরুরি। বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা সেটাই করছেন বলে জানান মো. সেলিম খান।

জিনোমিক রিসার্চ সেন্টারের গবেষক দলটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের সহযোগিতায় সারা দেশ থেকে নমুনা ও রোগীদের মেডিকেল হিস্ট্রি সংগ্রহ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ২৩ মে থেকে করোনা ভাইরাসের জিন রহস্য বের করার কাজ শুরু করে গবেষক দলটি। এতে ৯ জন বিজ্ঞানী, ৫ জন ভাইরোলজিস্টসহ ২০ জন কাজ করছেন। গবেষক দলটি গত ২৬ মার্চ প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করে, যা আন্তর্জাতিক তথ্য-ভান্ডার জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটাতে (জিসএআইডি) প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মাঝে ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া রোগের পরিচিত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

জিনোমিক রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সারা বিশ্বে ৬৬ হাজার ৮৫৫ করোনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিন রহস্য বের করে আন্তর্জাতিক তথ্য-ভান্ডারে প্রকাশিত হয়েছে। ভারতে ১ হাজার ৫৭৯ টি করোনা ভাইরাসের জিন রহস্য বের করা হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সেলিম খান বলেন, যে দেশ যত বেশি করোনা ভাইরাসের জিন সিকোয়েন্স করেছে, সে দেশ তত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও ভ্যাকসিন গবেষণাকে ত্বরান্বিত করেছে। যেমন নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশে মোট সংক্রমণের যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স বের করেছে। ফলে এই দুই দেশে করোনা ভাইরাস তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আছে।





স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা এর সকল খবর