Dhaka, Monday, 10 August 2020

বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত বাবা-মা’দের পাশে দাঁড়ালেন ঢাবির চার শিক্ষার্থী  

2020-07-27 13:21:12
বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত বাবা-মা’দের পাশে দাঁড়ালেন ঢাবির চার শিক্ষার্থী  

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: করোনাভাইরাস মহামারির এই কঠিন সময়টিতে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অবহেলিত বাবা-মা’দের পাশে দাঁড়ালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী।তাদের উদ্যোগে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু আনন্দ আশ্রম সেবা কার্যক্রম’ বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা বাবা-মা’দের সেবার উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত হয়েছে।

গত ২৫ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমে জরুরি চিকিৎসা সেবা, ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী, বিনোদনের জন্য টেলিভিশন, বৃক্ষরোপণ এবং তাদের ব্যবহারের জন্য তোয়ালে বিতরণ করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই সংগঠনটি।

এসময় বঙ্গবন্ধু আনন্দ আশ্রমের পক্ষ থেকে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়।এর মধ্যে ছিল- শিক্ষার্থীদের নিজেদের ক্ষেতের চাল, ময়দা, ডাল ও গামছা এবং ডিআইজি হাবিবুর রহমানের সৌজন্যে একটি টেলিভিশন।

এর আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আনন্দ আশ্রম সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান।

ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধনকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই করোনাকালে ছাত্রদের এই উদ্যোগ সত্যিকার অর্থেই প্রশংসার দাবিদার। সমাজের এই অবহেলিত শ্রেণির পাশে দাঁড়ানো এই চার তরুণের অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমাজের বিত্তবানদের উচিত ওদের পাশে দাঁড়ানো।’

বঙ্গবন্ধু আনন্দ আশ্রম সেবা টিমের দুই উদ্যোক্তা অপূর্ব চক্রবর্তী অপু ও দীপম সাহার পরিচালনায় উদ্বধোনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য কান্তারা খান, কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর, কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান প্রমুখ।

এই কার্যক্রম প্রসঙ্গে সংগঠনটির অন্যতম উদ্যোক্তা ঢাবির থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অপূর্ব চক্রবর্তী অপু বলেন, করোনাকালীন সংকটে সমাজের অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দিকেও যেন আমরা দৃষ্টি দেই। তারাও কেউ না কেউ আমাদের বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের কথা মাথায় রেখে অবহেলিত সেই মানুষগুলোর পাশে আমরা আমাদের জায়গা থেকে দাঁড়ানোই কর্তব্য বলে মনে করেছি। নিজেদের ব্যক্তিগত সময় ও অর্থ ব্যয় করে আমরা বঙ্গবন্ধুর মানবিক আদর্শকে ধারণ করে এই কাজে ব্রতী হয়েছি।

আরেক উদ্যোক্তা ঢাবির থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী দীপম সাহা বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার ক্রান্তিলগ্নে সবচেয়ে ঝুঁকিতে দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠী। এদের মধ্যে বৃদ্ধাশ্রমে যারা থাকেন তাদের একাকীত্ব এবং হতাশার সাথে যুক্ত হয়েছে করোনাকালীন ভয়াবহতা। মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে মুজিবের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন ও মুজিববর্ষের সর্বোত্তম অঙ্গীকার।

জাদিদ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারই জন্মস্থান গোপালগঞ্জ থেকেই এই সেবা কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের ইচ্ছা বঙ্গবন্ধু আনন্দ আশ্রম সেবা কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া এবং দেশের সকল বৃদ্ধাশ্রমে আমাদের সেবা পৌঁছে দেয়া।

ঢাবির মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী অর্ক সাহা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি দেশের প্রতিটা দুঃসময়ে দুঃসাহসিক ভূমিকা ছাত্ররাই রেখেছে। সেদিক বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে আমরা ধাপে ধাপে দেশের সর্বস্তরে আমাদের বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রতিটি মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে চাই।

উল্লেখ্য, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবাধর্মী এই সংগঠনটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অপূর্ব চক্রবর্তী অপু, দীপম সাহা, জাদিদ ইমতিয়াজ আহমেদ এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অর্ক সাহা।





মাতা ও মাতৃভূমি সর্বশেষ খবর

মাতা ও মাতৃভূমি এর সকল খবর