Dhaka, Tuesday, 11 August 2020

লকডাউনে সুফল পাওয়া গেল ওয়ারীতেও | কমেছে করোনা সংক্রমণের হার

2020-07-29 11:28:07
লকডাউনে সুফল পাওয়া গেল ওয়ারীতেও | কমেছে করোনা সংক্রমণের হার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর ডটকম: করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে গত ৪ জুলাই থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত ওয়ারী এলাকায় লকডাউন শুরু হয়। ওই দিন ভোর ৬টা থেকে ওয়ারীর টিপু সুলতান রোড, যোগীনগর রোড, জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন, লারমিনি স্ট্রিট, হেয়ার স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, র‌্যাংকিন স্ট্রিট ও নবাব স্ট্রিট-এ লকডাউন শুরু হয়। শেষ হয় গত শুক্রবার রাত ১২টায়। এই সময়ে এলাকাটিতে করোনা সংক্রমণের হার কমে আসার চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর টোলারবাগ ও পূর্ব রাজাবাজারে সফলতার পর ওয়ারী লকডাউন করেও সুফল মিলেছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব ও রোগনির্ণয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সূত্র জানায়, এবার ওয়ারীর লকডাউনের সময় বিভিন্ন সপ্তাহে মোট ৩১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এই ৩১৬ জনের মধ্যে ২৮৯ জন লকডাউন এলাকার। বাকি ২৭ জন ভিন্ন এলাকা থেকে এসে নমুনা দিয়েছিলেন। লকডাউন এলাকার মধ্যে যে ২৮৯ জনের নমুনা নেওয়া হয়, তাদের মধ্যে ৯৫ জনের নমুনা পজিটিভ আসে।

লকডাউন এলাকায় প্রথম সপ্তাহে ১০৫ জন নির্দিষ্ট স্থানে এসে নমুনা দেন। দ্বিতীয় সপ্তাহে নমুনা দেন ৮০ জন। তৃতীয় সপ্তাহে দেন ১০৪ জন।

আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, তৃতীয় সপ্তাহে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেস খুঁজে বের করে নিয়ে এসেছি। প্রথম সপ্তাহে ৪২ জন পজিটিভ হয়েছিল, দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৪ জন এবং তৃতীয় সপ্তাহে ২৯ জন পজিটিভ হয়েছে।

তৃতীয় সপ্তাহে যে ২৯ জন শনাক্ত হয়েছিলেন, তা করা হয়েছে সপ্তাহের প্রথম দিকে। সপ্তাহের শেষ দিকে পজিটিভ হওয়ার সংখ্যা কমে এসেছে।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, এখন আমরা দেখছি ওয়ারীতে কেস অনেক কমে গেছে। কোনো দিন নেই, কোনো দিন দুইটা-তিনটা। অথচ ওই এলাকায় প্রচুর কেস ছিল। সেদিক থেকে বলা যায়, ওয়ারীতে ঘরে ঘরে গিয়ে সন্ধান ভালো কাজ করেছে।

মহামারি বিশেষজ্ঞদের মতে, লকডাউন হওয়া কোনো এলাকার প্রথম দিকের চেয়ে শেষ দিকের নমুনার হার মেলাতে হবে। তাহলেই সেই এলাকার উন্নতি হচ্ছে কি না, তা বোঝা যাবে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, তিন জায়গাতেই সরকারের তৎপরতার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা এ সফলতার মূলে কাজ করেছে। ওয়ারীসহ তিন লকডাউনে নেতৃত্ব দিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনির্ণয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

কোরবানির ঈদের আগে অন্তত রাজধানীতে কোনো এলাকায় লকডাউনের সম্ভাবনা কম। তবে ঈদের পর সংক্রমণ বাড়তে পারে। তখন রাজধানীতে এলাকাভিত্তিক লকডাউনের দরকার আছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। এই তিন জায়গার মডেল ব্যবহার করে ঈদের পরপরই এলাকা নির্ধারণ করা দরকার বলেও মনে করেন তারা।

মহামারি বিশেষজ্ঞ, আইইডিসিআরের উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন বলেন, লকডাউন হওয়া ওয়ারীর প্রথম ১৪ দিনের সঙ্গে শেষ ১৪ দিনের হিসাব মিলিয়ে দেখা গেছে, এখানে সংক্রমণ কমেছে।

আইইডিসিআর সূত্র জানায়, ওয়ারীতে প্রথম সপ্তাহে পজিটিভ ছিল ৪০ শতাংশ। দ্বিতীয় সপ্তাহে পজিটিভ হওয়ার রেট ছিল ৩০ শতাংশ। তৃতীয় সপ্তাহে ২৮ শতাংশ।

এখন লকডাউন উঠে গেলেও ওয়ারীতে নমুনা সংগ্রহের বুথ আছে। যেসব বাড়িতে রোগী আছেন, সেগুলো যাতে নজরদারিতে থাকে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।





স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা এর সকল খবর