Dhaka, Friday, 25 September 2020

জাতিসংঘের ‘মানবিক হিরো’ ঢাবি শিক্ষার্থী সৈকতসহ ৪ বাংলাদেশী

2020-08-20 10:47:37
জাতিসংঘের ‘মানবিক হিরো’ ঢাবি শিক্ষার্থী সৈকতসহ ৪ বাংলাদেশী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর ডটকম: মানবিক কাজের জন্য ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ হিসেবে ৪ বাংলাদেশীকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এই চার জন হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানভীর হাসান সৈকত, ব্র্যাকের প্রকৌশলী রিজভী হাসান, অনুবাদক সিফাত নুর ও আঁখি।

বুধবার(১৯ আগস্ট) বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে তাদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এদের প্রত্যেকেই মানবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে করে জাতিসংঘ।

তানভীর হাসান সৈকত

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে নিজ নিজ বাড়ি চলে যায় তখন সৈকত ক্যাম্পাসে থেকে প্রান্তিক মানুষকে সহায়তা দেওয়া শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদ্য সাবেক এই সদস্য এপ্রিল মাসের শুরু থেকে টানা ১১৬ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশেপাশের এলাকার ছিন্নমূল ৫০০ থেকে ক্রমান্বয়ে ১০০০ মানুষের খাবার জোগানোর ভার নিয়েছিলেন। এই কার্যক্রমের ইতি টেনে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ছুটে গিয়েছিলেন বিভিন্ন এলাকায়। তার এই সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবি আর্থিক সহয়তা করেছেন।

এ বিষয়ে তানভীর হাসান সৈকত বলেন, জাতিসংঘের মতো একটি জায়গা থেকে রিয়েল লাইফ হিরো হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া গর্বের ব্যাপার। জাতিসংঘের এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে গণমানুষের জন্য কাজ করতে আমাকে উৎসাহ যোগাবে, আমার কাজের গতি বাড়িয়ে দিবে৷ ভবিষ্যতে দেশের মানুষের জন্য আগের মতোই আমি সবসময় কাজ করে যেতে চাই।

আঁখি

এক সময়ে বাংলাদেশের আরও বহু শিশুর মতো শিশুশ্রমে নিয়োজিত আঁখিকে পুনর্বাসনে সহায়তা দেয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন। বয়সের কারণে তাকে স্কুলে ফেরানো না গেলেও তাকে দর্জি কাজের প্রশিক্ষণ দেয় ওয়ার্ল্ড ভিশন। পরে তাকে দেওয়া হয় একটি সেলাই মেশিন আর কিছু কাপড়। সেখান থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতে থাকেন নিজেই গার্মেন্টস কারখানা গড়ে তুলবার। বর্তমানে আঁখি তার মা এবং বড় বোনের সহায়তায় নিজের ব্যবসা পরিচালনা করেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে দেখা দেয় মাস্ক সংকট। আর তখনই মাস্ক তৈরি শুরু করেন আঁখি। কম দামে আশেপাশের দরিদ্র মানুষদের মধ্যে এসব মাস্ক বিক্রি শুরু করেন তিনি।

রিজভী হাসান

জাতিসংঘের স্বীকৃতি পাওয়া আরেক বাংলাদেশি রিজভী হাসানের বেড়ে ওঠা ঢাকায়। স্থাপত্য বিদ্যার পাঠ চুকিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরের জন্য সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের কাজ পান। তখনই তিনি দেখতে পান বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য স্বল্প খরচে আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতায় আক্রান্ত নারীদের সেবা প্রদানের জন্য স্বল্প খরচে নিরাপদ স্থান গড়ে তোলা শুরু করেন। এসব স্থানে রোহিঙ্গা শিবিরের নারীদের কাউন্সেলিংসহ নানা দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এসব স্থাপনার মাধ্যমে বহু নারীকে নিরাপদে সেবা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যেতে পারছে ব্র্যাক ও ইউনিসেফ।

সিফাত নুর

অনুবাদের কাজ করে বাস্তব জীবনের নায়ক হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ সিফাত নুর। জাতিসংঘ মনে করে যে কোনো সংকটের সময়ে খাবার, পানি ও আশ্রয়ের মতোই মানুষের দরকার পড়ে তথ্য ও যোগাযোগের। এসব তথ্য ও যোগাযোগ হতে হয় তাদের নিজস্ব ভাষায়। আর এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে একজন অনুবাদকের কাজ। জাতিসংঘ বলছে, সিফাত মানবিকতার নায়ক, কারণ তিনি জটিল, জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাংলায় অনুবাদ করেছেন।





ব্যক্তিত্ব ও জীবনী সর্বশেষ খবর

ব্যক্তিত্ব ও জীবনী এর সকল খবর