Dhaka, Wednesday, 30 September 2020

আবার শুরু হয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠান | খুলছে কমিউনিটি সেন্টার, বিউটি পারলার

2020-08-23 10:12:19
আবার শুরু হয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠান | খুলছে কমিউনিটি সেন্টার, বিউটি পারলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর ডটকম: করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের মতো তারিখ করেও বিয়ে পিছিয়ে দিয়েছেন অনেকে। করোনা সংক্রমণের পাঁচ মাস পার হওয়ার পর এই ভাইরাসটি নিয়ে মানুষের ভয় এখন অনেকটা কেটে যাচ্ছে। তাছাড়া লকডাউনের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখায় বিয়ে আয়োজনে ছিল বিধিনিষেধ। এখন লকডাউন উঠে যাওয়ায় আবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত আকারে হলেও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এখন পাঁচ তারকা হোটেলের বলরুম, কমিউনিটি সেন্টার ও রেস্টুরেন্টে অল্প অতিথির উপস্থিতিতে বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি অনুষ্ঠান হচ্ছে বর ও কনেপক্ষের বাড়িতে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের পর বা চলতি আগস্ট মাস থেকেই বিয়ে অনুষ্ঠানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

যাদের ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করার ইচ্ছা আছে তারা এখন শুধু আকদ অনুষ্ঠান সেরে রাখছেন। পরে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে বড় অনুষ্ঠান করবেন। আর ঘরের আয়োজনে অল্প সংখ্যক নিকট আত্মীয়ের উপস্থিতিতেই করোনাকালের বিয়ের আয়োজন শেষ করতে হচ্ছে। অনেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে বিয়ে পড়ানোর বিশেষ মুহূর্তে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে বর-কনের প্রতি শুভ কামনা জানাচ্ছেন।

ঢাকার কয়েকজন কাজী জানান, ঢাকার রেস্টুরেন্ট ও কমিউনিটি সেন্টারগুলো খুলে দেওয়ায় সেখানেও কিছু বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে। যারা এখন বিয়ে করছেন তারা শুধু নিকট আত্মীয়ের উপস্থিতিতে অল্প লোকজন নিয়ে বিয়ে করছেন। যাদের ঘরে আকদ করতে সমস্যা তারা হয়তো কোনো রেস্টুরেন্টে ছোট করে আকদ করে রাখছেন।

ধানমন্ডি কাজী অফিসের কাজী হাফেজ মাসুম বিল্লাহ বলেন, তিন মাস বিয়ের অনুষ্ঠান পড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা ছিল। সম্প্রতি বিয়ে অনুষ্ঠানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের পর বিয়ের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শুক্রবার চারটি বিয়ে পড়ান এই কাজী। এর মধ্যে দুইটি কমিউনিটি সেন্টারে, একটি মসজিদে এবং আরেকটি বিয়ে বাসায় পড়ান।

মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলের ফ্রন্ট ডেস্ক এক্সিকিউটিভ মাহবুবা বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শিগগিরই আবার বিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছি। মহামারীতে কয়েক মাস অনেকেই বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল করেন। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আগামী মাস থেকে আবারও বিয়ের বুকিং নিতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনও বিয়ের আয়োজন পরিচালনার জন্য এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। হোটেলটির এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আমরা সবাই আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থার জন্য সর্বোচ্চ মান বজায় রাখছি। এক্ষেত্রে আমরা একটি বিদেশি কোম্পানির সরবরাহকৃত মেডিকেল সামগ্রী ব্যবহার করছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে টেবিল সেটআপসহ অন্যান্য বিষয়ে সব সুরক্ষা ব্যবস্থা অনুসরণ করছি।

বিয়ের কনে সাজানোর দায়িত্বে থাকা ঢাকার বিউটি পারলারগুলোও লকডাউনের কারণে দীর্ঘসময় বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে নামকরা পারলারগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। অ্যাপয়নমেন্টের ভিত্তিতে স্বল্পসংখ্যক গ্রাহকের সেবা দিতে শুরু করেছে পারসোনা। সম্প্রতি বিউটি পারলারটির মিরপুর ব্রাঞ্চে গিয়ে দেখা যায়, সেবাদাতারা এপ্রোন, মাস্ক, ক্যাপ ও ফেস শিল্ড পরে বিয়ের কনেকে সাজানোর কাজ করছেন।

পরিমাণে সামান্য হলেও অল্প অল্প করে কাজ পাচ্ছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো। এ ওয়েডিং বিডি নামের ওয়েডিং ফটোগ্রাফি কোম্পানির ফটোগ্রাফার এ নেওয়াজ রাহুল বলেন, এখন বেশির ভাগ মানুষ বাসা-বাড়ির ছাদেই বিয়ের অনুষ্ঠান করছেন। আর যারা রেস্টুরেন্টে করছেন তারা সীমিতভাবে ৫০ জনের মতো অতিথি নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান সারছেন।





উৎসব ও পার্বণ সর্বশেষ খবর

উৎসব ও পার্বণ এর সকল খবর