Dhaka, Tuesday, 29 September 2020

কৃষির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে হাজির হলো তথ্যপ্রযুক্তি

2020-09-12 13:21:05
কৃষির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে হাজির হলো তথ্যপ্রযুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর ডটকম: হাওরের ধানকাটা থেকে শুরু করে আম-কাঁঠাল বা কোরবানির পশু বেচাকেনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের কৃষির প্রতিটি খাতে তথ্যপ্রযুক্তি আশীর্বাদ হয়ে হাজির হয়েছে। হাওরের ধানকাটা থেকে শুরু করে পেকে যাওয়া আম-কাঁঠাল বা কোরবানির গরু-ছাগল হাটে না নিয়ে বেচাকেনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও অনেক কাজ করতে হবে। বিশ্বজুড়ে কৃষি খাতে তথ্যপ্রযুক্তির যেসব নানাবিধ ব্যবহার শুরু হয়েছে, তা বাংলাদেশেও ব্যবহার করতে হবে। এবার বাংলাদেশে মূলত কৃষি উপকরণ সংগ্রহ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রিতে প্রযুক্তি কাজে লেগেছে। কিন্তু কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানো, পঙ্গপাল ও ‘ফল আর্মিওয়ার্ম’–এর মতো নিত্যনতুন পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির আগাম খবর কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও এগোতে হবে।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর সময়টাতে মাঠে ছিল বোরো ধান। ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে রোগটিও মার্চ থেকে এপ্রিলে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ধান পাকার পর তাই হাওরে দেখা দেয় শ্রমিকের সংকট। একদিকে উজান থেকে আসা আগাম বন্যার ভয় আর অন্যদিকে শ্রমিকের অভাবে মাঠের পাকা ধান কাটতে পারা নিয়ে সংশয়— এই যখন অবস্থা, তখন কৃষকের সবচেয়ে বড় সহায় ছিল ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে উত্তরাঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম—সব জায়গা থেকে শ্রমিক এসে হাওরে হাজির হন। বন্যা আসার আগেই কাটা হলো সব ধান।

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা দেশের কৃষি উৎপাদনে শুরু থেকেই তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এবার এর সঙ্গে ধানকাটার ক্ষেত্রে উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছি। সামনে তা আরও বাড়ানো হবে।

ধানকাটা শেষে জ্যৈষ্ঠের মিষ্টি ফল নিয়ে কৃষকের বিপদ বাড়তে থাকে। আম, কাঁঠাল, লিচু ও তরমুজের মতো দ্রুত পচনশীল ফল বাগান থেকে পেড়ে দ্রুত শহরে নিতে হবে। হাটে-বাজারে পৌঁছাতে হবে, না হলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে—এই ভয়ে দেশের চাষিরা যখন দুশ্চিন্তায়, তখনো অনলাইন দোকান ও বাজারে এসব ফল বিক্রির আয়োজন হয়। সাড়াও পাওয়া যায় ভালো। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ফ্রুটস ফর দ্য কান্ট্রি নামের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে ফল বিক্রি হয় ওই সময়।

অনলাইনে গবাদিপশু বিক্রিতে বিপ্লব

জুলাই মাস থেকে শুরু হয় দেশের গ্রামীণ জনপদের অন্যতম অর্থকরী সম্পদ গবাদিপশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তা। একদিকে বন্যায় নতুন নতুন জেলা প্লাবিত হওয়া, অন্যদিকে সারা বছর ধরে লালন-পালন করা গরু–ছাগল করোনার কারণে কোরবানির হাটে তোলা বা বিক্রি করা যাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। তখনো কৃষকের সহায় ছিল তথ্যপ্রযুক্তি। গত কোরবানির হাটে বিপুল পরিমাণ গরু–ছাগল বিক্রি হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে। সরকার থেকে তৈরি করা ডিজিটাল হাট তো ছিলই, সেই সঙ্গে ফেসবুক, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ কাজে লাগিয়ে গ্রামপর্যায়ে কৃষক গরু-ছাগল বিক্রি করেছেন। হাটের সামাজিক দূরত্ব বজায় না থাকার বিড়ম্বনা কাটিয়ে খামারের গবাদিপশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দেখে অনেকে পছন্দ করেছেন। পরে খামারে গিয়ে দরদাম করে গরু-ছাগল কিনেছেন।

গত বছরের ঈদে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাত্র ছয় হাজার গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছিল। এ বছর তা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে।

গবাদিপশুর দাম পরিশোধের ক্ষেত্রেও বিকাশ, নগদের মতো অর্থ স্থানান্তরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।

মধ্যস্বত্বভোগী কমেছে

গত ১৯ আগস্ট করোনাকালে বাংলাদেশের কৃষিতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। তাতে বলা হয়, এপ্রিল থেকে আগস্ট করোনা সংক্রমণের কারণে দেশের পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি। ওই সময়ে কৃষক কৃষি দপ্তরগুলোতে গিয়ে তথ্যসেবা খুব বেশি নিতে পারেননি। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষক, শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের পাশ কাটিয়ে উৎপাদন ও ভোক্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ বেড়েছে।





কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সর্বশেষ খবর

কৃষি ও প্রাণিসম্পদ এর সকল খবর