Dhaka, Tuesday, 29 September 2020

তুরস্কের রাজধানীতে এক খণ্ড বাংলাদেশ!

2020-09-15 11:55:23
তুরস্কের রাজধানীতে এক খণ্ড বাংলাদেশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুখবর ডটকম: বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি তুলে ধরে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবন। বিদেশের বুকে ‘একখণ্ড বাংলাদেশ’ যেন এ ভবনটি। ভবনের উদ্বোধন করতে তাই করোনার মধ্যেই প্রথমবারের মতো বিদেশ সফর করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন দেশের বাইরে নির্মিত বাংলাদেশের কোনো ভবন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঙ্কারায় বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্সের নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে গত ৩ সেপ্টেম্বর। ৪,২৮৩ বর্গ মিটার ক্ষেত্রফল আয়তনবিশিষ্ট দূতাবাস কমপ্লেক্সের মধ্যে আছে অফিস ভবন, রাষ্ট্রদূতের বাসভবন, ‘বিজয় একাত্তর’ নামের ২২৯ আসন সংখ্যার উচ্চ-প্রযুক্তিসম্পন্ন মিলনায়তন, স্বয়ংক্রিয় মেকানিকাল ও ইলেকট্রিকাল সিস্টেম, মসজিদ, ব্যায়ামাগার, বাংলাদেশি সামগ্রীর প্রদশর্নী কেন্দ্র, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আর্থ-সামাজিক বিষয়ে একটি পাঠাগার।

দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য এবং শহীদ মিনারেরও উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতিফলক হিসেবে ওই কমপ্লেক্সে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য এবং ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে।

‘অজেয় বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল ও বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের ওপরে টেরাকোটা স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশি স্থাপত্যরীতির আমেজ নিশ্চিত করতে ভবন দুটির বহির্ভাগে লাল ইটের এবং সমতল ছাদের ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

১৪ নভেম্বর ২০১০ সালে ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক মিশন নির্মাণের জন্য প্লট বিনিময়ের বিষয়ে একটি প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই প্রোটোকলের ফলে দু’দেশের রাজধানীতে নিজস্ব দূতাবাস ভবন নির্মাণের জন্য জমি প্রাপ্তির বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুরস্ক সফরের সময় উভয় দেশের মধ্যে নিজ নিজ রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকার প্লট হস্তান্তর করা হয়।

এ ভবনটি নির্মাণে বাংলাদেশের সাশ্রয় হয়েছে বরাদ্দের তুলনায় সোয়া ২ কোটি টাকা। আঙ্কারার বাংলাদেশ মিশন জানায়, আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ওই টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সালে, প্রায় ৫০ বছর আগে।





মাতা ও মাতৃভূমি সর্বশেষ খবর

মাতা ও মাতৃভূমি এর সকল খবর