Dhaka, Tuesday, 27 October 2020

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত: পাপিয়া ও তার স্বামীর মতো রাজনৈতিক কর্মী জাতির জন্য অকল্যাণকর

2020-10-12 16:01:40
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত: পাপিয়া ও তার স্বামীর মতো রাজনৈতিক কর্মী জাতির জন্য অকল্যাণকর

আদালত প্রতিবেদক, সুখবর ডটকম: নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য নিজ বাসায় অস্ত্র-গুলি বা এত বিপুল পরিমাণ টাকা রাখা একজন রাজনৈতিক কর্মীর কাজ না। এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মী দেশ ও জাতির জন্য অকল্যাণকর। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে একথা বলেন।

পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করলে তাদেরকে রাজনৈতিক কর্মী বলা যায় না। কারণ একজন রাজনৈতিক কর্মীর বাসায় অস্ত্র , গুলি এবং ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা পাওয়া যাওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মী দেশ ও জাতির জন্য অকল্যাণকর।

সোমবার যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় ২০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এসময় আদালত এসব কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে ২৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ২৯ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর এসআই আরিফুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। মামলায় ১২ জনকে সাক্ষী করা হয়।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন ও অবৈধ টাকা পাচারের অভিযোগে পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ২৩ ফেব্রুয়ারি পাপিয়ার ইন্দিরা রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক, বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অস্ত্র মামলা ছাড়া বাকি মামলাগুলো হলো শের-ই-বাংলা নগর থানার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা, গুলশান থানায় মানি লন্ডারিংয়ের মামলা, বিমানবন্দর থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনে (জাল টাকার) মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলা। এ মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন।





আইন ও আদালত সর্বশেষ খবর

আইন ও আদালত এর সকল খবর