বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ৪ লাখ ৩৩ হাজার প্রবাসী, দেশে পৌঁছেছে ২৯৭২৮ *** পোস্টার থেকে ফেসবুক পেজে, নির্বাচনী প্রচারের চেনা চিত্র বদলে গেছে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজটি আগেও ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ৩৫ মিনিট আকাশে ছিল, অবতরণের আগমুহূর্তে বিধ্বস্ত *** ‘মুকাব’ মেগা প্রকল্প স্থগিত করল সৌদি আরব *** সিইসির সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত *** আমলাতন্ত্র জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকে চেপে বসেছে, কিছুই করা যায় না: ফাওজুল কবির খান *** আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র *** ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণমাধ্যমকর্মীদেরই আদায় করতে হবে’ *** নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘সিম্প্যাথি’ পেতে মিথ্যা বলছেন: মির্জা আব্বাস

ভারতে জন্ম, তবু ভারতীয় নন বাহিসন রবীন্দ্রন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০১:৪৭ অপরাহ্ন, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

‘'এতদিন কেউ আমাকে বলেনি আমি ভারতীয় নই। প্রথম যখন শুনলাম আমি ‘রাষ্ট্রহীন’, তখন বিষয়টি মেনে নিতে পারিনি।’' কথাগুলো বলছিলেন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বাসিন্দা বাহিসন রবীন্দ্রন। ১৯৯১ সালে তামিলনাড়ুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সেখানে পড়াশোনা, চাকরি—সবই হয়েছে। এমনকি হাতে রয়েছে ভারত সরকারের দেওয়া একাধিক পরিচয়পত্র, যার মধ্যে রয়েছে পাসপোর্টও।

কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে বড় ধাক্কা খান ৩৪ বছর বয়সী রবীন্দ্রন। পুলিশ হঠাৎই তাকে গ্রেপ্তার করে জানায়, তার পাসপোর্ট অবৈধ। কারণ, আইনের চোখে তিনি ভারতীয় নাগরিক নন, বরং একজন ‘রাষ্ট্রহীন’। খবর বিবিসির।

১৯৮৭ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, ওই বছরের ১লা জুলাইয়ের পর ভারতে জন্ম নিলে অন্তত একজন অভিভাবকের ভারতীয় নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। রবীন্দ্রনের বাবা-মা দুজনেই ১৯৯০ সালে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। ফলে ১৯৯১ সালে ভারতে জন্মালেও তিনি নাগরিকত্বের অধিকার পাননি।

১৯৮৭ সালের আগে ভারতে জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত ছিল, কিন্তু ওই বছরের ১লা জুলাইয়ের পর জন্ম নেওয়া সন্তানের নাগরিকত্বের জন্য অন্তত একজন বাবা অথবা মায়ের ভারতীয় নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। রবীন্দ্রনের বাবা-মা দুজনেই ছিলেন শ্রীলঙ্কান শরণার্থী। যার ফলে নতুন আইন অনুযায়ী রবীন্দ্রন ভারতীয় নন।

রবীন্দ্রন আদালতকে জানান, এতদিন তিনি আইনটি জানতেন না এবং কখনো তার শ্রীলঙ্কান পরিচয় গোপনও করেননি। নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরই তিনি প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আপাতত তিনি ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন।

কারণ, ততদিনে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে চলে যায়। প্রতারণা, জালিয়াতি ও অবৈধভাবে ভারতীয় পাসপোর্ট রাখার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৫ দিন কারাবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পান রবীন্দ্রন। 

এমন পরিস্থিতিতে রবীন্দ্রন আদালতের দ্বারস্থ হন। আপাতত মাদ্রাজ হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ৮ই অক্টোবর পর্যন্ত কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

তামিলনাড়ু সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৯০ হাজার শ্রীলঙ্কান শরণার্থী বাস করছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২২ হাজার শিশু ১৯৮৭ সালের পর ভারতে জন্ম নিয়েছে। তাদেরও নাগরিকত্ব নিয়ে একই অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশন কিংবা ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে স্বাক্ষর না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আবার ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের পথ সহজ করলেও শ্রীলঙ্কান তামিলদের এ আওতার বাইরে রেখেছে।

২০২২ সালে প্রথমবারের মতো একজন শ্রীলঙ্কান তামিল নারী কে. নলিনী ভারতীয় নাগরিকত্ব পান। তবে তিনি ১৯৮৭ সালের আইনের আগে জন্মেছিলেন। এরপর আরও কয়েকজন নাগরিকত্ব পেলেও সংখ্যাটি এখনও হাতেগোনা।

এখন আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন রবীন্দ্রন। তার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমি কখনও শ্রীলঙ্কায় ফিরতে চাই না। আমার সবকিছু ভারতের সঙ্গেই যুক্ত।’

জে.এস/

নাগরিকত্ব

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250