ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগে হংকংয়ে ১১ জন গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই গৃহকর্মীদের বয়স ৩০ থেকে ৪০-এর কোঠায়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে এক গৃহকর্মী তার নিয়োগকর্তার বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্যারামেডিকরা তাকে সাহায্য করতে যান। এ সময় তার কক্ষে একটি লন্ড্রি ঝুড়ির মধ্যে একটি মৃত ভ্রূণ পাওয়া যায়। ভ্রূণটির বয়স অন্তত ২৮ সপ্তাহ ছিল বলে পরে নিশ্চিত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই নারী স্বীকার করেন, তিনি আরেক গৃহকর্মী বন্ধুর কাছ থেকে গর্ভপাতের ওষুধ কিনেছিলেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জুলাই মাসে ওই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ২৯শে জুলাই থেকে গতকাল ৮ই আগস্টের মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও আটজন গৃহকর্মীকে আটক করে। সব মিলিয়ে মোট ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, পাঁচজন জামিনে আছেন এবং একজন অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ পরিদর্শক লাম হো-ইন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র বলে মনে হচ্ছে না। বরং, একজন ৩২ বছর বয়সী গৃহকর্মী অন্য একটি দেশ থেকে এই ওষুধগুলো এনে বিক্রি করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের জাতীয়তা প্রকাশ করেনি।
হংকংয়ে গর্ভপাত বৈধ হলেও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ২৪ সপ্তাহের কম বয়সী ভ্রূণের গর্ভপাত তখনই করা যাবে, যদি মায়ের জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকে, শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে অথবা ভ্রূণের গুরুতর অস্বাভাবিকতা থাকে। ২৪ সপ্তাহের বেশি হলে শুধু মায়ের জীবন সংকটাপন্ন প্রমাণিত হলেই গর্ভপাত করানো যায়।
হংকংয়ের আইনে গর্ভপাতের জন্য ওষুধ সরবরাহ বা সেবন ব্যবহার করলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর ‘শিশু হত্যা’র গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
হংকংয়ে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী অন্তত ৩ লাখ ৬৮ হাজার বিদেশি গৃহকর্মী কাজ করেন। তাদের অধিকাংশই ফিলিপাইন (৫৫ %) এবং ইন্দোনেশিয়া (৪২ %) থেকে এসেছেন। তাদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি প্রায় ৪ হাজার ৯৯০ হংকং ডলার (৬৩৬ মার্কিন ডলার)।
খবরটি শেয়ার করুন