ফাইল ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণের অনুষ্ঠান ঘিরে আপত্তি তুলে তা স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। তাদের দাবি, নবীনবরণে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে, সেখানে গানবাজনা ও নাচানাচি থাকলে তাদের আপত্তি আছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও কোনো কনসার্টের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমানের কাছে দেওয়া হয়। একই দাবিতে গতকাল শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কাছেও স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ১৪ সেপ্টেম্বর নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ অবশ্যই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হতে পারে। তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সেটি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখা জরুরি।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বলতে কী বোঝায়, সেটা বুঝতে হবে। গানবাজনা ও নাচানাচি থাকলে আমাদের আপত্তি আছে। আমরা চাই না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে কলেজে গানবাজনা ও নাচানাচি হোক। এর আগেও কলেজে কনসার্ট হয়েছিল। তখন এক তরুণী ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এরপর কনসার্ট বন্ধ হয়ে গেছে।’ বিষয়টি নিয়ে তারা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করলে তিনি (অধ্যক্ষ) স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে কিছু করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রায় চার বছর ধরে কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান হয় না। জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবকে জানিয়ে তারা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমাদেরও শ্রদ্ধা ও সম্মান আছে। আমরা সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করব। আমরা চাই না, জেলায় কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের প্রতিও আমাদের একই আহ্বান থাকবে। তবে আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব।’
সার্বিক বিষয় নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ–অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘১৪ সেপ্টেম্বর আমরা তিনটি ধাপে অনুষ্ঠান করব। প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান, দ্বিতীয় ধাপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তৃতীয় ধাপে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এখানে কোনো কনসার্ট হবে, এমন ঘোষণা আমরা দিইনি। আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব।’
খবরটি শেয়ার করুন