বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ‘কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ পুরুষদের সমকামী করে তুলতে পারে’ *** মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে বিসিএস ক্যাডার, সিনিয়র সহকারী সচিব কারাগারে *** নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না যুক্তরাষ্ট্র, খোঁজ-খবর রাখবে *** ‘প্রধান উপদেষ্টা ব্যস্ত, তাই ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠিয়েছেন’ *** ‘একজন সাংবাদিক জেলখানায় আছে, অথচ কেউ কিছু লেখেননি’ *** রোনালদো কি ৩৬৩ কোটি টাকার বিলাসবহুল ‘রিটায়ার্ড হোম’ বিক্রি করে দিচ্ছেন *** নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড মোতায়েন *** সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে এবার দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো *** জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত *** পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ৪ লাখ ৩৩ হাজার প্রবাসী, দেশে পৌঁছেছে ২৯৭২৮

ভাইকে খুন করে নাম-চেহারা বদলে ৩৬ বছর পালিয়েছিলেন, অবশেষে পড়লেন ধরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১২:১১ পূর্বাহ্ন, ৮ই ডিসেম্বর ২০২৫

#

প্রতীকী ছবি

সময় আর কাগজপত্র—এই দুটির মধ্যে একটি মিল আছে, তারা কিছু ভোলে না। ভারতের উত্তর প্রদেশের বেরেলির প্রদীপ কুমার সাক্সেনা ৩৬ বছর আগে পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ভাইকে খুনের অপরাধে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। ধর্ম, নাম ও চেহারা বদলে ফেললেও শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি।

১৯৮৭ সালে প্রদীপ সাক্সেনার বিরুদ্ধে তার ভাইকে খুন করার অভিযোগ ওঠে। ১৯৮৯ সালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এরপর সাক্সেনা প্যারোলে (শর্তসাপেক্ষ মুক্তি) বেরিয়ে এসে আর ফেরেননি, পুলিশের নজর এড়িয়ে পালিয়ে যান।

সাক্সেনা বেরেলি থেকে পালিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে মোরাদাবাদে চলে যান। সেখানে তিনি নতুন নামে পরিচিত হন—নাম রাখেন আবদুল রহিম। দাড়ি রেখে তিনি গাড়িচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এভাবে কয়েক দশক পেরিয়ে যায়। আবদুল রহিমরূপী সাক্সেনা ভেবেছিলেন, তিনি তার অতীত আর শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে গেছেন।

তবে আইনের পরিকল্পনা অবশ্য অন্য রকম ছিল। গত ১৬ই অক্টোবর এলাহাবাদ হাইকোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দেয়, চার সপ্তাহের মধ্যে সাক্সেনাকে আদালতে হাজির করতে হবে। এরপর পুলিশ পুরোনো মামলার ফাইল ঘাঁটতে শুরু করে। নিখোঁজ আসামিকে খুঁজে বের করতে একটি দল গঠন করা হয়।

বেরেলিতে বসবাসরত সাক্সেনার আরেক ভাই সুরেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। ওই ভাইয়ের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, এই খুনি তার ধর্ম ও পরিচয় বদলে ফেলেছে। তদন্ত করে পুলিশ আরও জানতে পারে, সাক্সেনা আসলে কিছুদিন আগে বেরেলিতে এসেছিলেন। তার ধারণা ছিল, পুলিশ তাকে ভুলে গেছে। কিন্তু পুলিশ ভোলেনি। এরপর তাকে বেরেলি থেকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

পুলিশের বক্তব্য

পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেছেন, তার নাম প্রদীপ কুমার সাক্সেনা। ১৯৮৯ সালে তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে আর কারাগারে ফিরে যাননি। তিনি পালিয়ে গেছেন। আদালতের শাস্তি এড়াতে ২০০২ সালে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে মোরাদাবাদে বসবাস করতে শুরু করেন। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

বেরেলি সিটি পুলিশের প্রধান মানুশ পারিখ জানান, ১৯৮৭ সালের খুনের মামলায় সাক্সেনাকে খুন ও চুরির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘প্রদীপ সাক্সেনা হাইকোর্টে সাজা মওকুপের আবেদন করেছিলেন এবং তারপর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যান। হাইকোর্ট যখন তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন, তখন আমরা জানতে পারি, তিনি আইনের চোখকে ফাঁকি দিতে পরিচয় লুকিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।’

এই প্রবীণ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, সাক্সেনা মোরাদাবাদে একজন মুসলিম নারীকে বিয়ে করে সেখানেই থাকতেন। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাকে তার হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ৩৬ বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জে.এস/

ভারত

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250