ছবি: সংগৃহীত
গণতন্ত্রের প্রতি দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিনের। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের মানুষ বারবার আন্দোলন করেছে। বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-তরুণেরা সেই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তরুণদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করলেও গণতন্ত্রকে টেকসই করার ক্ষেত্রে দেশ বারবার হোঁচট খেয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম।
গত ৭ আগস্ট প্রকাশিত তার সর্বশেষ কলামের শিরোনাম, ‘পলিটিক্যাল অ্যাকুমেন ইজ ফাইন, বাট ইকোনমিক এক্সপার্টিজ ইজ ক্রুশিয়াল’। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘শুধু রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নয়, অর্থনৈতিক জ্ঞানও প্রয়োজন’। কলামটির উপশিরোনাম ছিল, ‘উইদাউট ইট, আওয়ার পলিটিশিয়ানস ক্যাননট রান বাংলাদেশ ইন দ্য প্রেজেন্ট ওয়ার্ল্ড’। অর্থাৎ, ‘এ ছাড়া বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতায় আমাদের রাজনীতিবিদদের পক্ষে দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়’।
কলামটিতে মাহফুজ আনাম মূলত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, শুধু রাজনৈতিক দক্ষতা দিয়ে বর্তমান বিশ্বের জটিল বাস্তবতায় একটি দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। রাজনীতিবিদদের অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি, ব্যাংকিং, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা জরুরি।
তবে তার লেখার রাজনৈতিক অংশটি নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার উদ্বেগের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি আবারও এমন কোনো রাজনৈতিক পথের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠছেন, যেখানে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের পরিবর্তে অনির্বাচিত কোনো ব্যবস্থা গুরুত্ব পেতে পারে?
যদিও কলামে মাহফুজ আনাম সরাসরি কোনো অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে অবস্থান নেননি। তার আগের কয়েকটি লেখায় নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্পষ্টভাবে এসেছে। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত ‘আনহেলদি ইলেকশন কন্ট্রোভার্সি মাস্ট বি রিজলভড’ শিরোনামের কলামে তিনি বলেছিলেন, সংস্কার যেমন জরুরি, তেমনি একটি নির্বাচিত সরকারও জরুরি। তিনি আরও লিখেছিলেন, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই সম্ভব।
তবু মাহফুজ আনামের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্কের পেছনে রয়েছে তার অতীত ভূমিকা। বিশেষ করে ২০০৭ সালের এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার ভূমিকা নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়ে। জরুরি অবস্থা জারি হয়। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার নানা উদ্যোগের কথাও তখন আলোচনায় আসে। সেই সময় প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারসহ ঢাকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়েও পরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়।
২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের সুশীল সমাজ, এনজিও ও গণমাধ্যমের কণ্ঠ এমন নমনীয় কেন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনাসমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার আগের কয়েক বছরে ‘সৎ ও যোগ্য প্রার্থী’ আন্দোলনের ব্যানারে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধের দাবিতে সুশীল সমাজের একটি অংশ সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। ওই আন্দোলনের সঙ্গে ঢাকার প্রভাবশালী দুটি সংবাদপত্র প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার, বেসরকারি সংস্থা সিপিডি এবং টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের সম্পৃক্ততার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এক-এগারোর সময় দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগ ছিল, গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহ করা তথ্য যাচাই-বাছাই না করে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। পরে মাহফুজ আনাম নিজেই এমন তথ্য যাচাই না করে প্রকাশ করাকে সাংবাদিকতার ভুল হিসেবে স্বীকার করেছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি বিষয় হলো, ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার সরকার নিয়ে মাহফুজ আনামের একটি বক্তব্য। দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ২০২৫ সালের ২৩ মে প্রকাশিত এক বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদনে বলেন, ওই সময় মাহফুজ আনাম তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, তারাই ওই সরকার গঠন করেছিলেন। মাহমুদুর রহমান নিজের লেখায় নাম উল্লেখ না করলেও বক্তব্যটি মাহফুজ আনামকে ইঙ্গিত করেই লেখা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ধরনের বক্তব্যের সূত্র ধরে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন, এক-এগারোর সময় যে ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকার অভিযোগ মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে উঠেছিল, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার লেখায় কি সেই প্রবণতার কোনো পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে?
এই প্রশ্নের আরেকটি কারণ হলো, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি মাহফুজ আনামের প্রকাশ্য সমর্থন। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত কলামে তিনি নিজেকে অধ্যাপক ইউনূসের ‘লাইফলং অ্যাডমায়ার অ্যান্ড সিনসিয়ার ওয়েল-উইশার’ বা দীর্ঘদিনের অনুরাগী ও আন্তরিক শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
সর্বশেষ কলামে মাহফুজ আনাম প্রথমেই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে নজর দিয়েছেন। তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর না যেতেই রাজনৈতিক দলগুলো আবারও পরস্পরকে দোষারোপের পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন উদযাপনের সময় যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার আলোচনা হওয়ার কথা, সেখানে কেন বাকযুদ্ধ চলছে।
কলামে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মাহফুজ আনাম লিখেছেন, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচারের পুনর্বাসনের পথ সুগম করছে কি না, সেটি মনে হয় ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের।’
মাহফুজ আনামের প্রশ্ন, বাংলাদেশ কি সত্যিই অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে? পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তির ফিরে আসার বাস্তব কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, সেটিও তিনি বিবেচনা করতে বলেছেন। তার মতে, এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ যথেষ্ট প্রস্তুত। তাই এ ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করে সরকারপ্রধান নিজের অবস্থান অযথা দুর্বল করছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন মাহফুজ আনাম। জুলাই জাতীয় সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্বের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেছিলেন, ‘দেশের বারোটা বাজবে, আর আমরা কি বসে বসে আঙুল চুষব।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি বিপ্লব আসন্ন। এই বিপ্লবের জন্য আমি আপনাদের সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মাহফুজ আনামের মতে, একজন নির্বাচিত বিরোধীদলীয় নেতা যখন বলেন ‘দেশের বারোটা বাজছে’, তখন তার প্রভাব শুধু রাজনৈতিক মাঠে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও জড়িত। তার প্রশ্ন, এমন বক্তব্যের পর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে কতটা আগ্রহী হবেন?
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতে সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার মতে, বিএনপি ও জামায়াতের ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগজনক। গত মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন জেলার চারটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে অন্তত ৯০ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।
মাহফুজ আনামের মতে, এসব বিরোধ সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব ছিল। সংঘর্ষে যাওয়ার প্রবণতা রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে।
রাজনৈতিক সহিংসতার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন তিনি। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫৬ জন নিহত এবং ৫ হাজার ২৪৬ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২৭৩টি, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ২৯০টি এবং বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ৩৩টি সংঘর্ষ হয়েছে বলে কলামে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মাহফুজ আনামের লেখার মূল জোর অর্থনীতিতে। তার বক্তব্য, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতায় রাজনীতিবিদদের শুধু রাজনৈতিক প্রজ্ঞা থাকলেই হবে না। অর্থনীতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞানও থাকতে হবে।
তিনি মনে করেন, কৃষি, শিল্প, ব্যাংকিং, প্রকল্প অর্থায়ন, জ্বালানি, রপ্তানি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কে রাজনীতিবিদদের মৌলিক ধারণা থাকা দরকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো ব্যক্তিকে মন্ত্রী করা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পর্কে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত।
মাহফুজ আনাম লিখেছেন, আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনাও একটি বিজ্ঞান। এটি জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক হওয়া দরকার। শুধু বক্তৃতা কিংবা রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। তার মতে, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, শিল্প উৎপাদনে সমস্যা, বিনিয়োগের ঘাটতি, জ্বালানি সংকট এবং মূল্যস্ফীতি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
কলামে বলা হয়েছে, গত মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। টাকার হিসাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতিও দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশের মতো হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাসও কাছাকাছি।
জ্বালানি সংকটকে তিনি অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হিসেবে দেখেছেন। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল। রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও ধীর হচ্ছে।
মাহফুজ আনামের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকার ও বিরোধী দল—দুই পক্ষেরই দায়িত্ব আছে। শুধু সরকারকে দোষারোপ করে বিরোধী দলের দায়িত্ব শেষ হয় না। একইভাবে সরকারেরও বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করে চলা উচিত নয়।
তার মতে, বিরোধী দলকে বেশি স্বাধীনতা দিতে হবে। তবে সেই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও বাড়াতে হবে। বিরোধী দলের বক্তব্য হতে হবে বাস্তবভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর।
এই জায়গাতে তার সর্বশেষ কলামটি দেশের রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। রাজনৈতিক দলগুলো কি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতা করবে, নাকি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতাও অর্জন করবে?
মাহফুজ আনামের মতে, বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতির দেশ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, খাদ্য, কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। ফলে দেশের রাজনীতিকদের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে হবে।
তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে সাংবাদিক ও সম্পাদকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। সাংবাদিকতার মূল কাজ ক্ষমতার কাছে প্রশ্ন তোলা। সেই প্রশ্ন সরকার, বিরোধী দল বা অন্য কোনো শক্তির ক্ষেত্রেই সমান হওয়া উচিত।
দেশে অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে সরকারের প্রতি কিছু গণমাধ্যমের অতিরিক্ত নমনীয়তা যেমন সমালোচিত হয়েছে, তেমনি এক-এগারোর সময় অনির্বাচিত সরকারের প্রতি সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের একটি অংশের অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।
খবরটি শেয়ার করুন