ছবি: সংগৃহীত
'আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বামপন্থী দলগুলো রাজনীতি হারিয়ে ফেলেছে' বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বামপন্থী দলগুলো রাজনীতি হারিয়ে ফেলেছে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) নানাভাবে আমাদের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। এর ওপরে আছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।’
আজ শনিবার (৩রা মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জনতা পার্টির (জেপিবি) মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কাসেম ফজলুল হক এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকদের জন্য কল্যাণকর কিছু আসবে না জানিয়ে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকদের অধিকার, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে। কিন্তু এখন বহুলাংশেই তা মালিক ও সরকার পরিচালিত। শ্রমিকদের কী করে শান্ত রাখা যাবে, ট্রেড ইউনিয়নের কাজ সেটাই। এটি কি আসলেই শ্রমিকদের এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার সার্বিক কল্যাণের জন্য চিন্তা করে, কাজ করে? আমরা তা মনে করি না।’
বাংলা একাডেমির সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বামপন্থী দলগুলো রাজনীতি হারিয়ে ফেলেছে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল নানাভাবে আমাদের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। এর ওপরে আছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারাই তো নানাভাবে অদৃশ্য থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালনা করছে। এটা থেকে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে আবার। এখন আমরা অর্থনৈতিক দিক থেকে, সাংস্কৃতিক দিক থেকে নতুন পরাধীনতার ভেতর পড়ে গেছি।’
আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন— ওই সব অঞ্চলে গণতন্ত্র ভেতর থেকে দুর্বল হচ্ছে। তবে শেষ হয়ে যাচ্ছে না। নির্বাচনটা আছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সে রকম ধারণা ডেভেলপই করেনি। আমাদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ আছে। ছাত্রদের পড়ানো হয়, তারা পড়ে। কী কারণে? পরীক্ষার ফল ভালো করার জন্য, শিক্ষকরা বেতনটা নেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ রাষ্ট্র গড়ে তোলার চিন্তা কারা করেছেন? এগুলো আমাদের বিচার করে দেখতে হবে।'
তিনি বলেন, 'আমি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছি না। আমাদের দুর্বলতা আছে, সেই দুর্বলতা থেকে দরকারি জিনিসগুলো গড়ে তোলা এবং যেগুলো অকল্যাণকর, সেগুলোকে বিলুপ্ত করা। সমস্যা থাকবেই। একেবারে সমস্যামুক্ত জীবন মানুষের অন্তত তিন হাজার বছরের ইতিহাসে কোথাও ছিল না। তবে এক সমস্যা পেছনে ফেলে একটু এগিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে মুক্ত হয়ে নতুন সমস্যায় পড়েছে। সেই সমস্যা ও সমাধান করে এগোতে হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'বর্তমানেও সেই অবস্থায় আছি আমরা, সমস্যা আসবে জাতীয় জীবনে, ব্যক্তিগত জীবনেও। এসব সমস্যার সমাধান করে আবার নতুন সমস্যায় পড়া এবং ক্রমাগত এই সমস্যার সমাধান—এভাবেই ব্যক্তিমানুষের ও জাতির পরিবর্তন ঘটবে।’
বাংলা একাডেমির সভাপতি বলেন, ‘দেশ থেকে ব্যাপকভাবে যারা একটু মেধাবী ছাত্রছাত্রী, তারা অন্য দেশে গিয়ে নাগরিকত্ব নিচ্ছেন। তাদের বাবা-মায়েরাও তাদের ছেলেমেয়েদের বিদেশে যেতে ও নাগরিকত্ব নিতে সহায়তা করছেন। এটা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। তা না হলে সঠিক সুযোগ-সুবিধা এলেও দুর্গত হবে।'
এইচ.এস/
খবরটি শেয়ার করুন