ছবি: সংগৃহীত
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আমির খসরুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার, ১১ অক্টোবর, জানাজা শেষে রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই সাংবাদিক। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ হয়ে কয়েক দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আমির খসরু। সর্বশেষ তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও যকৃতের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।
আমির খসরুর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শোকবার্তায় তিনি আমির খসরুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা পেশায় আমির খসরুর দীর্ঘদিনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজের মধ্য দিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বাসস জানিয়েছে, আমির খসরুর মৃত্যুতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী শোক প্রকাশ করেছেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়াও শোক জানিয়েছেন। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আমির খসরু চার দশকের বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সাপ্তাহিক বিচিত্রায় লেখালেখির মধ্য দিয়ে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। পরে তিনি দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ করেন। দৈনিক ইত্তেফাকে তিনি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক খবর ও চ্যানেল আইতেও কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পরিচিতি পান আমির খসরু।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সম্পাদনা ও কলাম লেখালেখিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। সাপ্তাহিক বুধবার পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তার লেখা কলাম প্রকাশিত হয়েছে। রাজনীতি, কূটনীতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখির জন্যও পরিচিত ছিলেন তিনি।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন আমির খসরু। তিনি রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্থায়ী সদস্য ছিলেন তিনি। এ ছাড়া ওভারসিজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওকাব) সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে দীর্ঘ সময় অবদান রেখেছেন আমির খসরু। তার মৃত্যুতে সহকর্মী, সাংবাদিক সংগঠন ও শুভানুধ্যায়ীরা শোক জানিয়েছেন।
মৃত্যুকালে আমির খসরু স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার লালমাটিয়া মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
খবরটি শেয়ার করুন