শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ১২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদাবাজি না করতে অনুরোধ বিএনপি প্রার্থীর *** নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা: রাষ্ট্রের দায় ও গণতন্ত্রের বাস্তব পরীক্ষা *** ১২ই ফেব্রুয়ারি জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, দেশ পুনর্গঠনের: তারেক রহমান *** রাজধানীতে ১৪টি জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান *** আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না: সিপিডি *** আওয়ামী লীগ কীভাবে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ার মতো দুর্বল হলো, যা বলছেন মাহফুজ আনাম *** শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয়: কূটনৈতিক সম্পর্কের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তারেক রহমান *** আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য: জামায়াত আমির *** ১১-১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব বাণিজ্যবিতান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে *** আজ ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন তারেক রহমান

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন

মূল্যায়নে ত্রুটি: আইএলটিইএসে 'ফেল' করেও ভিসা পেয়েছেন হাজারো অভিবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৪:১৬ অপরাহ্ন, ১০ই ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাজার হাজার পরীক্ষার্থী ভুল আইইএলটিএস স্কোর পেয়েছিলেন। আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ একে ‘টেকনিক্যাল সমস্যা’ বলে ব্যাখ্যা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, মাত্র এক শতাংশ পরীক্ষায় এ সমস্যা হয়েছিল। তবে এ হার প্রায় ৭৮ হাজার পরীক্ষায় ভুল ফলাফল নির্দেশ করে।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের মূল্যায়নে ভুলের কারণে বাধ্যতামূলক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও ভিসা পেয়েছেন হাজারো অভিবাসী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ কাউন্সিল পরিচালিত পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রায় ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী ভুল ফল পেয়েছেন। অনেকেই প্রকৃতপক্ষে ফেল করলেও পাস মার্ক পেয়েছেন।

এদিকে চীন, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামে পরীক্ষায় জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। সেখানে স্থানীয় চক্রগুলো আগেভাগে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র অভিবাসীদের কাছে বিক্রি করত। এর ফলে অভিবাসনপ্রার্থীদের অনেকেই প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করে পরীক্ষা দিয়েছেন। দুর্বল ইংরেজি জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও বহু শিক্ষার্থী, এনএইচএস কর্মী এবং অন্যান্য অভিবাসী স্টাডি বা ওয়ার্ক ভিসা পেয়েছেন—যা পাওয়ার যোগ্যতা তাদের ছিল না।

ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টি সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে, যারা ইংরেজি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়ে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে দেশে ফেরত পাঠানো উচিত।

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা—আইইএলটিএস দেয়, যা পরিচালনা করে ব্রিটিশ কাউন্সিল, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইডিপি।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাজার হাজার পরীক্ষার্থী ভুল আইইএলটিএস স্কোর পেয়েছিলেন। আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ একে ‘টেকনিক্যাল সমস্যা’ বলে ব্যাখ্যা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, মাত্র এক শতাংশ পরীক্ষায় এ সমস্যা হয়েছিল। তবে এ হার প্রায় ৭৮ হাজার পরীক্ষায় ভুল ফলাফল নির্দেশ করে।

আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ জানায়, সমস্যাটি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে শনাক্ত হয়। গত মাসে প্রভাবিত পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সংশোধিত ফলাফল পাঠানো হয়েছে এবং গভীর দুঃখ প্রকাশসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কারো নম্বর বেশি দেখানো হয়েছিল, আবার কারো ফলাফল কম এসেছে। কিন্তু সমস্যা দীর্ঘদিন অজানা থাকায় ভুলভাবে ‘পাস’ দেখানো বহু ব্যক্তি এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের ভিসা নিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বছর ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন অভিযোগ করে যে, বেশি টিউশন ফি’র কারণে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় দুর্বল ইংরেজি দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করেছে। কিছু লেকচারার বলেছেন, বিদেশী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশের ইংরেজি দক্ষতা অপর্যাপ্ত।

যুক্তরাজ্যের শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপ বলেন, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় দশ লাখ মানুষ ইংরেজি ভালোভাবে বলতে পারেন না। দেশে এরইমধ্যে একীকরণ সংকট চলছে, তার ওপর প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ ভুল ফলাফলের ভিত্তিতে ভিসা পেয়েছে—এটি ভয়াবহ। যারা বেআইনিভাবে ভিসা পেয়েছে, তাদের অপসারণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ইংরেজি না শিখে দেশে এলে তারা সমাজে মিশতে পারে না, স্বনির্ভর জীবনও গড়তে পারে না—এটি বড় ধরনের ব্যর্থতা।

এদিকে পরীক্ষায় জালিয়াতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে, যারা ঘুষের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র আগেই সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার্থীদের কাছে ১ হাজার থেকে আড়াই হাজার পাউন্ডে বিক্রি করছিল।

ভিয়েতনামে ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ কাউন্সিল শেষ মুহূর্তে একটি আইইএলটিএস পরীক্ষা বাতিল করে ব্যাকআপ প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়। যা প্রশ্নফাঁসের সন্দেহকে আরো জোরালো করে। চীনেও প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের পর যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িক স্থগিত করেছে।

জে.এস/

আইইএলটিএস

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250