মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** রওনা দিয়েছেন ইমরান খানের সমর্থকেরা—লক্ষ্য ইসলামাবাদ *** জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর *** এশিয়ায় শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়তে চায় ডেনমার্ক: রাষ্ট্রদূত *** রমজানের আগেই তিন ধাপের ইউপি নির্বাচন *** ৭ নভেম্বর ছুটি ঘোষণা, বাড়ল পূজার ছুটিও *** আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ রাত *** মেসির শেষ ম্যাচে থাকতে পারছেন না দিবালাসহ যে বিশ্বকাপজয়ীরা *** বিচার ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়: ডেপুটি স্পিকার *** দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে শপিংমল-দোকান *** বাংলাদেশকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় কানাডা

আওয়ামী লীগের ‘গুপ্তঘাতকদের’ তালিকা শেখ হাসিনার কাছে!

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৫:০৪ অপরাহ্ন, ১২ই মে ২০২৬

#

ফাইল ছবি

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি এমন একটি তালিকা দিয়েছে, যাতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দলের ও তার সাবেক সরকারের অন্তত দশজন বিশ্বাসঘাতকের নাম রয়েছে। ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদদের ‘দশজনের চক্র’-এর তালিকা দেখে বিস্মিত শেখ হাসিনা। আর কারা আছেন সেই তালিকায়?

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাটি বলছে, পুরো তদন্ত শেষ হলে তালিকায় আরও নাম যোগ হবে। আওয়ামী লীগের নেতারা কেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চেয়েছিলেন? ভেতরের বিশ্বাসঘাতকতা, নাকি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র—কীভাবে পতন হলো আওয়ামী লীগের?

সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগকে শেখ হাসিনা এখন পুনর্গঠন করতে চাচ্ছেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য পদে তিনি আগের অনেক নেতাকে রাখতে চাচ্ছেন না। আজকের দুর্দিনেও কাউকে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দিচ্ছেন না। কারণ, ধীরে ধীরে অনেক নেতার মীরজাফরি, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তাদের ষড়যন্ত্র পরিষ্কার হচ্ছে শেখ হাসিনার কাছে। তালিকা করে তাদের দল থেকে বাদ দিতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনা।

একটি কূটনৈতিক সূত্র সুখবর ডটকমকে জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারত পৌঁছালে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর একটি প্রতিবেদন তার কাছে দেওয়া হয়। এতে আওয়ামী লীগের পতনে কোন কোন নেতার ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ ছিল। শেখ হাসিনা গত ২১ মাস ধরে এসব নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখছেন না। তারা ভারতে এলেও তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করছেন না। তবে শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুসন্ধানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর বিষয়ে বেরিয়ে আসছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দলটির ক্ষমতা হারানোর পেছনে শুধু বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র আর দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনই মূল কারণ নয়; এর পেছনে ছিল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের খন্দকার মোশতাকের মতো ভূমিকা পালন। ’৭৫ সালের মতোই ’২৪ সালেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আওয়ামী লীগ ও গণভবনের একটি গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এখন শেখ হাসিনার হাতে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সূক্ষ্মভাবে তৈরি আন্দোলন কারা পরিচালনা করেছিলেন? বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা বা গভীর রাষ্ট্রব্যবস্থা? এই পরিকল্পনায় কারা অর্থায়ন করেছে, কোন কোন সংস্থা ও ব্যক্তি এর পেছনে ছিলেন এবং কারা এটি সমন্বয় করেছিলেন—দিনে দিনে বেরিয়ে আসছে এসব তথ্য। কারা শেখ হাসিনার সব তথ্য বিদেশিদের কাছে পাচার করেছিলেন, তাও সামনে আসছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পরের মাসে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো বলেন যে, শেখ হাসিনা সরকারবিরোধী আন্দোলন খুব পরিকল্পিতভাবে চালিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিছুই হঠাৎ হয়নি। সেদিন ইউনূস সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে  জানান, বাংলাদেশের মানুষ জানতেন না শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খুব যত্নসহকারে পুরো বিষয়টি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বসে ড. ইউনূস সেদিন এসব কথা বলেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

২০২৪ সালের শুরুতে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়েছিল, ওই বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলন হতে পারে। রাশিয়ার গোয়েন্দারা তখনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে এই তথ্য জানালেও তিনি বিষয়টি শেখ হাসিনাকে জানাননি বলে দাবি করা হয়েছে বিদেশি প্রতিবেদনে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এক মাসেরও কম সময় আগে শেখ হাসিনা চীন সফরে গেলে দেশটির সরকার তাকে সাফ জানিয়ে দেয়, তিনি শিগগিরই ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন। তখন চীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেননি। বাধ্য হয়ে সফরের নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরে আসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরেও বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দেননি ওবাদুল কাদেরসহ ‘দশজনের চক্র’-এর ষড়যন্ত্রের চাপে। কে বন্ধু, কে শত্রু—শেষ সময়ে বুঝতে পারেননি শেখ হাসিনা?

আমেরিকা এখনো শেখ হাসিনার ওপর এতটাই নারাজ যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ থাকুক, তা তারা চায় না—এমন দাবিও করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা সৃষ্টি হয় মূলত ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ওই নির্বাচনে গণফোরামের ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেয় দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গোপন চুক্তি হয়েছিল। এক. ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপিকে জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। দুই. ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের অদূর ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে জনমত সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এসব চুক্তি সম্পর্কে বিএনপি কিছুই জানত না।

চুক্তির কোনোটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের আগের রাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে সিল মারায় ঐক্যফ্রন্ট মাত্র সাতটি আসন পায়। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারেনি বলেও দাবি করা হয় শেখ হাসিনার হাতে আসা সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। যুক্তরাষ্ট্র না চাইলেও ভারতের সমর্থনে টিকে থাকে আওয়ামী লীগ সরকার। বিতর্কিত ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হলেও আওয়ামী লীগ সরকারকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম তখন ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র একপর্যায়ে অপেক্ষায় ছিল, দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে শেখ হাসিনার সরকার কোনো উদ্যোগ নেয় কি না। সরকার শুধু ২০২০ সালে দেশের পাসপোর্ট থেকে “এই পাসপোর্ট ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ” কথাটি বাদ দেয়। তবে পরে ই-পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ততদিনে স্পষ্ট হয়ে যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আসন্ন।

বিদেশি গণমাধ্যম বলছে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালের প্রথম দিক থেকেই শুরু হয়েছিল। যা ২০২৪ সালে ড. ইউনূস তার কথিত বন্ধু ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সামনে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার আন্দোলনে দেশে-বিদেশে অনেক সংস্থা, পেশাজীবী, ব্যবসায়িক সংগঠনসহ অসংখ্য মানুষের সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যায়। এই বিপুলসংখ্যক পেশাজীবীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা এত অল্প সময়ে কীভাবে সূক্ষ্মভাবে সম্পৃক্ত করতে পেরেছিল এবং আন্দোলন সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষমতা তারা রাখত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছিল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরের বিশ্বাসঘাতকদের সমর্থনে।

বিদেশিরা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার জন্য শুধু আওয়ামী লীগবিরোধীদের সংগঠিত করেনি; শেখ হাসিনার পক্ষের লোকদেরও, যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সংগঠিত করে হাসিনার বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হয়েছিল—এমন অভিযোগও রয়েছে। এই আন্দোলনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও জটিল ও সূক্ষ্ম কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ মহলেও প্রভাব বিস্তার করা যায়।

শেখ হাসিনা সরকারের আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে অনেকে বিদেশি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদ, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সাবের হোসেন চৌধুরী, সেলিম মাহমুদ, বিপ্লব বড়ুয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান, বক্তৃতা লেখক নজরুল ইসলাম এবং সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে তাদের প্রস্থান নিরাপদ ছিল বলে দাবি করা হয়। তারা সবাই বর্তমানে নিরাপদে অবস্থান করছেন। যেমন—ওবায়দুল কাদের ভারতে, হাছান মাহমুদ বেলজিয়ামে, সেলিম মাহমুদ পারটেক্স গোষ্ঠীর হেফাজতে থেকে পরে ভারতে এবং বিপ্লব বড়ুয়া ভারত থেকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অবস্থান করছেন। সাবের হোসেন ও শিরীন শারমিন দেশে গ্রেপ্তার হলেও পরে মুক্তি পান।

২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। গুলশানে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বাসায় ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদদের সঙ্গে গোপন বৈঠক হয়। এই বৈঠকেই তারা জেনে যান, আওয়ামী লীগের পতন আসন্ন। বৈঠকের বিষয়টি তারা গোপন রাখেন। গোপন বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে গোয়েন্দা সংস্থা অবহিত করেছিল বলে দাবি করা হয়। শেখ হাসিনা কাদের ও হাছান মাহমুদকে ডেকে পাঠিয়ে গোপন বৈঠকের ব্যাখ্যা চাইলে তারা দাবি করেন, আমেরিকাকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ দিয়ে দিলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে পারবে।

তাদের কথিত তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৩ মে শেখ হাসিনা এক বক্তব্য দেন। এতে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের একটি অংশ নিয়ে “পূর্ব তিমুরের মতো একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র” গঠনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ২০২৪ সালের ২৩ মে গণভবনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের এক বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সেন্ট মার্টিন যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে দিলেই তারা তাকে ক্ষমতায় থাকতে দেবে। এই বক্তব্য দেওয়ার আড়াই মাসের মধ্যেই শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ ছিলেন জামায়াত ও হেফাজতের ঘনিষ্ঠ—এমন অভিযোগও রয়েছে। তার কারণেই হেফাজতের বিচার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন শিবিরকে—এমন দাবিও করা হয়। তার অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার কারণেই ছাত্রলীগে গুপ্ত ছাত্রশিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের পতন আসন্ন দেখে ওবায়দুল কাদের ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট আড়ালে সরে যান এবং ৪ আগস্ট বিদেশে পালিয়ে যান। তাদের ধারণা ছিল, শেখ হাসিনাকে গণভবনে ঢুকে জনতা হত্যা করবে। এরপর বিদেশে বসে তারা ‘পরিশোধিত আওয়ামী লীগ’ গঠন করবেন। আন্দোলনকারীদের ধরে নিয়ে নির্যাতনের পরামর্শ ছিল আসাদুজ্জামান খান কামালের—এমন অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে ছাত্রদের আন্দোলন আরও চাঙা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক অর্থ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বিদেশে চলে গেছেন বলে প্রচারিত হলেও তিনি দেশে নিরাপদে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ অর্থমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সরাসরি ছাত্র ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা। আওয়ামী লীগবিরোধী একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাও তার ছাত্র ছিলেন।

শেখ হাসিনার প্রেস উইং ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সবচেয়ে বড় গুপ্ত বাহিনী—এমন অভিযোগও করা হয়েছে। শেখ হাসিনার ভাষণলেখক নজরুল ইসলাম ছিলেন ঘরের ভেতরে থাকা সবচেয়ে বড় ঘাতক—এমন ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে তিনি অনেক স্পর্শকাতর গোপন তথ্য পাচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পরও নজরুল বহাল তবিয়তে আছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

নাঈমুল ইসলামকে নাটকীয়ভাবে প্রেস সচিব করা হয়। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন তারা, যারা নাঈমুল ইসলামের অতীত সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কিন্তু শেখ রেহানা এই নিয়োগের ব্যাপারে অনড় ছিলেন। নাঈমুল প্রেস সচিব হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব তথ্য বিদেশিদের কাছে চলে যেতে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়। বিশেষ করে জুলাই থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে নাঈমুলই ছিলেন ষড়যন্ত্রকারীদের যোগসূত্র—এমন অভিযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপ তারা আগে থেকেই জানতে পারতেন। এটাই সরকারকে দ্রুত বিপদের দিকে নিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। নাঈমুল ইসলাম খান নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250