শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২০শে চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঈদ ঘিরে জমজমাট রাজনীতি *** ব্যাংককে অধ্যাপক ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ *** 'কী কথা তাহার সাথে?' *** বিশ্ববাণিজ্যে শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন *** আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা *** চাকরিপ্রার্থী না হয়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার *** যারা 'ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ' চান, তাদের উদ্দেশ্যে যা বললেন ডেভিড বার্গম্যান *** আমেরিকা থেকে আমদানি পণ্যের শুল্ক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ: প্রেস সচিব *** বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করল আমেরিকা *** বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টাকে প্রধানমন্ত্রী দেখার আকাঙ্ক্ষা, আইনি পথ আছে কী

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:১৬ অপরাহ্ন, ৩১শে মার্চ ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জাতীয় সরকার, বা বিপ্লবী সরকার গঠন করার প্রস্তাব দেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি মনে করেন, মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব নেওয়া উচিত।

মাহমুদুর রহমান ওই সময় ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, 'যদি রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় সরকার গঠন করতে রাজি না হয়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিপ্লবী সরকার গঠন করতে পারেন।' সংবিধান স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, 'নির্বাচিত জাতীয় সংসদ এসে ঠিক করবে, সংবিধান কী হবে।'

তার বক্তব্য কেন্দ্র করে তখন আলোচনায় আসে 'রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস'। দেশ-বিদেশের অনেক নেটিজেন মাহমুদুর রহমানের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরবঙ্গ) মো. সারজিস আলম প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এক মেয়াদের জন্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। গত শনিবার (২৯শে মার্চ) ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন আকাঙ্ক্ষার কথা জানান। এরপর থেকে আলোচনায় সর্বজন গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা।

যদিও বক্তব্যটি এনসিপির দলীয় নয়, সারজিসের ব্যক্তিগত বলে সুখবর ডটকম নিশ্চিত হয়েছে। সারজিস ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন স্টেটসম্যানকে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার আজীবন থাকবে।’

সারজিস আলমের ওই পোস্টের নিচে কমেন্টে অনেকেই তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে অসংখ্য নেটিজেন এমন আকাঙ্ক্ষার কথা বলছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সারজিস আলম ও অনেক নেটিজেনের এ আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে হলে কয়েকটি উপায়ের যে কোনো এক বা একাধিক উপায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

এর একটি হলো- মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি ভোটে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হতে হবে। তিনি নিজে অবশ্য ভোটে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত কখনো দেননি। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই, এ কথা তিনি একাধিকবার বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী হতে ড. ইউনূসকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের জোট না হলে শুধু বিএনপির পক্ষে এমন সমর্থনের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব।

বর্তমান রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থায় অন্য ‘সম্ভাব্য বিকল্প’ যা হতে পারে, তা হলো, রাষ্ট্রপতির মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেওয়া। তবে এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে সুপ্রিম কোর্টের মত নিতে হতে পারে।

গত ৫ই আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর ৮ই আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

কোন প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ সুখবরকে বলেন, ‘যখন তিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন, তখন কোর্ট থেকে রায়ের মাধ্যমে এটা (প্রধানমন্ত্রিত্ব) হতে পারত। সংবিধানের ১০৬ ধারায় সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্সে, সেটার আলোকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। এর ব্যাখ্যা হতো, বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে এত দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলো।’

এখন এ প্রক্রিয়ায় ড. ইউনূসের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন এ অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘এখন তার সামনে বিকল্প হলো, যদি তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে এনসিপিতে যোগ দেন এবং এনসিপি থেকে যদি নির্বাচিত হন। এনসিপির মাধ্যমেই তাকে প্রধানমন্ত্রী হতে হবে। এ ছাড়া তার কাছে আর বিকল্প নেই।’

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, 'দেশজুড়ে মানুষ উদযাপন করছেন (শেখ হাসিনার সরকারের পতন)। তারা (জনগণ) যেন দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছেন।'

তিনি বলেন, 'আমরা এখন নতুন করে শুরু করতে চাই এবং আমাদের জন্য একটি সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে চাই। এ প্রতিশ্রুতিই আমরা দিতে চাই। আমাদের ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবেন শিক্ষার্থী ও তরুণরা।' তবে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হবেন না বলে জানিয়ে তখন বলেন, 'রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মতো মানুষ আমি নই।'

এইচ.এস/

প্রধান উপদেষ্টা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন