শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** মোসাদের চর ছিলেন জেফরি এপস্টেইন, জানা গেল এফবিআই নথিতে *** ১২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদাবাজি না করতে অনুরোধ বিএনপি প্রার্থীর *** নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা: রাষ্ট্রের দায় ও গণতন্ত্রের বাস্তব পরীক্ষা *** ১২ই ফেব্রুয়ারি জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, দেশ পুনর্গঠনের: তারেক রহমান *** রাজধানীতে ১৪টি জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান *** আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না: সিপিডি *** আওয়ামী লীগ কীভাবে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ার মতো দুর্বল হলো, যা বলছেন মাহফুজ আনাম *** শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয়: কূটনৈতিক সম্পর্কের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তারেক রহমান *** আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য: জামায়াত আমির *** ১১-১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব বাণিজ্যবিতান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে

‘আ. লীগকে নিষিদ্ধ করা মানে কয়েক কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, ২৩শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে ‘রূপান্তরের মোড়কে কর্তৃত্ববাদ’ বলেছেন চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা, যার ১৬ বছরের শাসনামলকে বিরোধীরা ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ বলে থাকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় প্রতিটি প্রাণহানির জন্য তিনি ‘দুঃখিত’। তবে সেই সহিংসতার বিচারিক তদন্ত ‘সীমিত’ করে ফেলা হয়েছে অভিযোগ করে সেজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেছেন তিনি।

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে এক দফায় রূপ নেওয়া ওই অভ্যুত্থান ঘিরে প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণ গেছে বলে উঠে এসেছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে। আন্দোলন দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে শেখ হাসিনাকে ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালে। সেই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ড. ইউনূস সরকার।

কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না সবচেয়ে বেশি সময় দেশ শাসন করা দলটি।

শেখ হাসিনা বলছেন, তার দলকে নিষিদ্ধ করা মানে আসন্ন নির্বাচনে “কয়েক কোটি বাংলাদেশির ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া।”

প্রিন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এ ধরনের একটা পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে তাকে মুক্ত, সুষ্ঠু বা বৈধ বলা যায় না। পছন্দের দল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ভোটারদের থাকতে হবে; কাউকে ভোটে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া বা ঘরে ঘরে গিয়ে সহিংসতার হুমকি দিয়ে বিএনপি বা জামায়াতের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করা চলতে পারে না।”

আওয়ামী লীগের সভাপতির দাবি, “অন্তর্বর্তী সরকার জানে, আমাদের নির্বাচন করতে দেওয়া হলে আমরা বিপুল সমর্থন পেতাম। এ কারণেই আমাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না, ইউনূস নিজে কখনও বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে একটি ভোটও পাননি, অথচ তিনি নিজের বেআইনি কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে দেশের আইনগত কাঠামো নতুন করে লিখেছেন।”

লিখিত সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, “দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে গণতান্ত্রিক বৈধতা দাবি করা যায় না। এটি সংস্কার নয়; রূপান্তরের মোড়কে কর্তৃত্ববাদ।”

ড. ইউনূস বরাবরই বলে আসছেন, আওয়ামী লীগকে ‘নিষিদ্ধ’ করা হয়নি; তাদের ‘রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার ভাষ্য, ওই পার্থক্য ‘অর্থহীন’ কারণ তার দল প্রচার চালাতে, সংগঠিত হতে বা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

ট্রাইব্যুনালের মামলায় জুলাই আন্দোলন দমনে ১৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ মোট ৫ অভিযোগ আনা হয়েছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। তবে তার দাবি, রাষ্ট্রের ‘প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা’ এবং ‘প্রাণহানি ঠেকানোর’ তাগিদ থেকেই তার সরকার তখন কাজ করেছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া বৈধ আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি এবং শান্তিপূর্ণভাবে এগোতে দিয়েছি। তাদের দাবির কথা শুনেছি এবং সরকারি চাকরির কোটা বাতিল করেছি, যা ছিল তাদের হতাশার কারণ।”

ওই আন্দোলনের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ এবং থানায় আক্রমণের প্রসঙ্গ ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “যা আমরা আঁচ করতে পারিনি, তা হল উগ্রবাদী শক্তি ওই আন্দোলন হাইজ্যাক করে নিয়েছিল। এটা আর স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না।”

সে সময় সহিংসতার তদন্তে কমিটি করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আর এগোয়নি।

বিষয়টি নিয়ে ‘হতাশা’ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “ড. ইউনূস ক্ষমতায় এসেই ওই তদন্ত ভেঙে দেন—নিশ্চয় তিনি জানতেন, এতে তার ‘মেটিকুলাস প্ল্যান’ উন্মোচিত হয়ে যাবে। তার ওই সিদ্ধান্তই আন্দোলনের পেছনের উদ্দেশ্য ও ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে, বিদেশি সম্পৃক্ততার বিষয়টিও সামনে আনে। এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।”

আইন-শৃঙ্খলার আরও অবনতি ঠেকাতে ‘সব দলের’ অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত ‘সংবিধানিক শাসনে’ ফেরার দাবি জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তার ভাষ্য, “ভয় দেখিয়ে বা বেছে বেছে আইন প্রয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় না।”

শেখ হাসিনা

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250