শনিবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব *** আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হতে পারে না, এটা মাস্তানি হচ্ছে: বদিউর রহমান *** যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত মানচিত্রে পুরো কাশ্মীর ভারতের অংশ! *** এপস্টেইনের কাছে ‘লম্বা, স্বর্ণকেশী সুইডিশ তরুণী’ চেয়েছিলেন আম্বানি *** মোসাদের চর ছিলেন জেফরি এপস্টেইন, জানা গেল এফবিআই নথিতে *** ১২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদাবাজি না করতে অনুরোধ বিএনপি প্রার্থীর *** নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা: রাষ্ট্রের দায় ও গণতন্ত্রের বাস্তব পরীক্ষা *** ১২ই ফেব্রুয়ারি জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, দেশ পুনর্গঠনের: তারেক রহমান *** রাজধানীতে ১৪টি জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান *** আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না: সিপিডি

‘খায়রুল হকের গ্রেপ্তার ও কারাবাস বিচারব্যবস্থার জন্য কালো অধ্যায়’

বিশেষ প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ১১:৫৪ অপরাহ্ন, ১২ই ডিসেম্বর ২০২৫

#

ফাইল ছবি

ব্রিটিশ সাংবাদিক ও কলামিস্ট ডেভিড বার্গম্যান মনে করছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের গ্রেপ্তার ও চলমান কারাবাস শেখ হাসিনা-পরবর্তী বিচারব্যবস্থার জন্য একটি বড় কালো অধ্যায়। বর্তমান সরকার একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে কারাগারে পাঠিয়েছে। গত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের দমন-পীড়নের চরম সময়েও এমন কাজ করেনি। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতিকে কারাগারে যেতে হয়নি। খায়রুল হককে এমন একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পর্কই ছিল না।

তার অভিযোগ, বাংলাদেশে কিছু সত্যিকারের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও গ্রেপ্তার চলছে। এগুলোর সংখ্যা হয়তো প্রমাণভিত্তিক মামলার সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে তার অবস্থানের কারণে গ্রেপ্তার করার ঘটনা এই সরকারের বিচারিক প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির নিদর্শন। কোনো বিচারককে তার দেওয়া রায়ের জন্য বিচার করার বিধান নেই। শুধু আটককাল বাড়ানোর জন্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন ও মিথ্যা কয়েকটি মামলা হয়েছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের অনেকেই একসময় বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক অপব্যবহারের কঠোর সমালোচক ছিলেন; কিন্তু তারা এখন হয় নিজেরাই এই অন্যায়ের সহযোগী হয়েছেন, নয়তো সব দেখেও মুখে কুলুপ এঁটে আছেন। যে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাকে তারা আগে নিন্দা করতেন, এখন সেটিকেই তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন।

'সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের রাজনৈতিক আটক' শিরোনামের এক উপসম্পাদকীয়তে ডেভিড বার্গম্যান এসব কথা বলেন। তার লেখাটি গত ২৪শে অক্টোবর দৈনিক প্রথম আলোর ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ই ডিসেম্বর) প্রকাশিত হয় বার্গম্যানের আরেকটি লেখা 'ফরমার সিইসি আউয়ালস ডিটেনশন অ্যান্ড ইলেকটোরাল রিট্রিবিউশন' শিরোনামে।

একই লেখার বাংলা অনুবাদ 'সাবেক সিইসি আউয়ালের আটকাদেশ ও নির্বাচনী প্রতিশোধ' শিরোনামে পত্রিকাটির বাংলা ওয়েব সংস্করণে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকাটিতে প্রকাশিত তার সবশেষ লেখায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের আটক ও কারাবাস। ১১ই ডিসেম্বরের লেখায় নিজের মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে নিয়ে লেখার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন বার্গম্যান। এর সূত্র ধরে তার ২৪শে অক্টোবরের লেখাটি নতুন করে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।

১১ই ডিসেম্বরের কলামে ডেভিড বার্গম্যান লেখেন, মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে আমি সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কথা লিখেছিলাম। তাকে এমন একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পর্কই ছিল না। এরপর তাকে আবার আপিল বিভাগের একটি রায়ে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। এটি কোনোভাবেই ফৌজদারি অপরাধ হওয়ার কথা নয়। এই দুই মামলাই করেছে বিএনপি। কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি কারণ ছাড়াই খায়রুল হক প্রায় পাঁচ মাস ধরে কারাগারে আছেন।

২৪শে অক্টোবরের কলামে বার্গম্যান বলেন, ২০২৫ সালের ২৪শে জুলাই খায়রুল হককে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ১৮ই জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আবুল কাইয়ুম আহাদ হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় তার সঙ্গে আরও ৪৮৬ জনের নাম রয়েছে। এফআইআরে (প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন) খায়রুল হকের নাম থাকলেও সেখানে তার সঙ্গে এই অপরাধের সম্পর্ক কীভাবে আছে, তার কোনো ব্যাখ্যা বা প্রমাণ নেই। গ্রেপ্তারের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দেখানোও হয়নি।

তিনি বলেন, গত ২৫শে জুলাই ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে স্পষ্টভাবে এই গ্রেপ্তারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্বীকার করে নেওয়া হয়। মামলার বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের সভাপতি খোরশেদ আলম তার বক্তব্যের পক্ষে কোনো আইনি ভিত্তি দেখাননি। তার বক্তব্য ছিল একেবারেই রাজনৈতিক। এমনকি তিনি এ কথা পর্যন্ত বলেন যে, যেহেতু শেখ হাসিনা সরকার আন্দোলনের সময় নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছে, তাই সেসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি মামলায় খায়রুল হককেও আসামি করা উচিত।

বার্গম্যান লেখেন, প্রসিকিউশন যখন খায়রুল হককে রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন করে, তখন তদন্ত কর্মকর্তা সেখানে ‘বারবার বিশ্বাসভঙ্গ’, ‘জালিয়াতি’ এবং ‘রাষ্ট্রদ্রোহের কাজ’ ইত্যাদি অভিযোগের কথা বলেন, যার সঙ্গে এই হত্যা মামলার বিষয়াদির কোনো সম্পর্কই নেই। সেদিন খায়রুল হক জামিনের আবেদন করেননি। তার পরিবারের অভিযোগ, বিএনপি-ঘনিষ্ঠ আইনজীবীরা তাকে আইনজীবী নিয়োগ করতেও বাধা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এরপর খায়রুল হকের আইনজীবীরা হাইকোর্টে গিয়ে মামলা কোয়াশ (ভিত্তিহীন বিবেচিত হলে উচ্চ আদালত দ্বারা বিচারের আগেই মামলা প্রক্রিয়া বন্ধ করার) আবেদন করেন। তারা যুক্তি দেন, অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা, বানানো ও হাস্যকর’; এগুলো শুধু তাকে ‘অপমান করার জন্য’ সাজানো হয়েছে এবং এই মামলা আদালতের ‘আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার’।...যেকোনো আইনজীবী মামলার এফআইআরটি দেখে বুঝবেন যে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সেখানে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই মামলাটি তৎক্ষণাৎ কোয়াশ হওয়া উচিত ছিল এবং খায়রুল হককে বন্দী রাখার কোনো আইনি যুক্তি ছিল না। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের এই সময় প্রার্থনার আবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হওয়া স্বাভাবিক। আসলে খায়রুল হকের প্রমাণবিহীন ও বেআইনি আটককে আরও দীর্ঘায়িত করাই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল।

বার্গম্যান লেখেন, গত ৭ই আগস্ট, অর্থাৎ মামলাটির কোয়াশমেন্ট শুনানির কয়েক দিন আগে ঢাকা ট্রিবিউন–এ আইনজীবী কল্লোল কিবরিয়ার একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতির গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘বিচারিক সিদ্ধান্ত যত বিতর্কিতই হোক, তা কোনো অপরাধ নয়। যদি আসলেই কোনো অনিয়ম থাকে, তবে তা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়, প্রমাণের ভিত্তিতে এবং আইনের নিয়ম মেনে বিচার করা উচিত। কিন্তু যখন রাজনৈতিক প্রতিশোধকে হত্যা মামলার নামে সাজানো হয়, সেটি বিচার নয়, সেটি আইনের মুখোশে প্রতিহিংসা।’

বার্গম্যান বলেন, ১১ই আগস্ট, হাইকোর্টে শুনানি হওয়ার ঠিক পরদিন কল্লোল কিবরিয়াকে ঢাকায় তার চেম্বারের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি মারধর করেন। তারা তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বলে গালি দেন এবং লেখালেখি বন্ধ করার হুমকি দেন। এক সপ্তাহ পর যখন হাইকোর্টে আবার শুনানি শুরু হয়, তখন এই রাজনৈতিক ভয়ভীতি এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে খায়রুল হকের আইনজীবীরা শুনানি দুই মাস পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন।

ডেভিড বার্গম্যান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সবাইকে আহ্বান করেছেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে যেন জুলাই সনদের মাধ্যমে বাংলাদেশ ‘বর্বরতা থেকে সভ্যতায়’ এসেছে তার প্রমাণ রাখা যায়। অথচ বাংলাদেশ সরকার আর জুলাই সনদকে সমর্থন করা রাজনৈতিক দলগুলো তাদের চোখের সামনে ঘটমান অন্যায় ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আটক বন্ধে লেশমাত্র আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, খায়রুল হককে গ্রেপ্তারের ধরন আওয়ামী লীগ আমলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এভাবেই তখন আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ আর বিচার বিভাগ রাজনৈতিক হুকুমের আজ্ঞাবহ হয়ে উঠেছিল। এমন স্বৈরাচারী ব্যবস্থার কারণেই আইনের শাসনের ওপর কোনো আস্থা ছিল না। ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে পদত্যাগ করতে এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল।

তার মতে, সিনহাকে চাপ দেওয়ার অংশ হিসেবে ডিজিএফআই তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গুম করেছিল এবং হুমকি দিয়েছিল, সিনহা যদি পদত্যাগ করে দেশ না ছাড়েন, তাহলে তাকে গুম করে রাখা হবে। এটা ঠিক, বর্তমান সরকার সেই পর্যায়ের সীমা লঙ্ঘন করেনি। কিন্তু আরেক দিক থেকে তারা আবার আরও বেশি চরম মাত্রায় গেছে। 

ডেভিড বার্গম্যান এ বি এম খায়রুল হক

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব

🕒 প্রকাশ: ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হতে পারে না, এটা মাস্তানি হচ্ছে: বদিউর রহমান

🕒 প্রকাশ: ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত মানচিত্রে পুরো কাশ্মীর ভারতের অংশ!

🕒 প্রকাশ: ০৬:২১ অপরাহ্ন, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এপস্টেইনের কাছে ‘লম্বা, স্বর্ণকেশী সুইডিশ তরুণী’ চেয়েছিলেন আম্বানি

🕒 প্রকাশ: ০৬:০৯ অপরাহ্ন, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মোসাদের চর ছিলেন জেফরি এপস্টেইন, জানা গেল এফবিআই নথিতে

🕒 প্রকাশ: ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Footer Up 970x250