ছবি: সংগৃহীত
সমালোচনার মুখে ব্রিটেনের গৃহহীনবিষয়ক মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী। নিজের মালিকানাধীন একটি টাউনহাউস থেকে ভাড়াটেদের উচ্ছেদ করে ভাড়া একলাফে ৭০০ পাউন্ড বাড়িয়ে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট বৃহস্পতিবার (৭ই আগস্ট) এক বিবৃতিতে রুশনারা আলীর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর বিবি ও গার্ডিয়ানের।
ব্রিটেনের পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী। গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার বেথনালগ্রিন ও স্টেপনি আসন থেকে তিনি পঞ্চমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের ওই আসনে ২০১০ সাল থেকে টানা এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন রুশনারা।
গত বছর লেবার পার্টি সরকার গঠনের পর গৃহায়ণ, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি হন রুশনারা আলী। ব্রিটেন সরকারের এই পদটিকে ‘হোমলেসনেস মিনিস্টার’ বা গৃহহীনবিষয়ক মিনিস্টার বলা হয়। এটাই ছিল তার ব্রিটেন সরকারে প্রথম কোনো দায়িত্ব লাভ। রুশনারার সঙ্গে আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী গত বছর ব্রিটেন সরকারে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ব্রিটেনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘সিটি মিনিস্টার’ করা হয়েছিল তাকে। তবে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সমালোচনার মুখে গত ১৪ই জানুয়ারি তিনিও পদত্যাগ করেন।
রুশনারার জন্ম সিলেটে। রুশনারার বয়স যখন সাত বছর, তখন ব্রিটেনে পাড়ি জমায় তার পরিবার। তিনি অক্সফোর্ডের সেন্ট জনস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে স্নাতক করেছেন।
পূর্ব লন্ডনের বো এলাকায় অবস্থিত রুশনারা আলীর ওই বাড়িতে মাসিক ৩ হাজার ৩০০ পাউন্ড ভাড়ায় চারজন ভাড়াটে থাকতেন। তাদের নির্ধারিত মেয়াদি চুক্তি শেষ হওয়ার পর গত নভেম্বর মাসে চার মাসের নোটিশ দিয়ে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়। পরে বাড়িটি পুনরায় ভাড়ার জন্য ৪ হাজার পাউন্ড মাসিক ভাড়ায় পুনরায় তালিকাভুক্ত করা হয়। এ নিয়ে গৃহহীনদের দেখভালের দায়িত্ব থাকা ‘মিনিস্টার’ রুশনারা আলীর ব্যাপক সমালোচনা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রে রুশনারা আলী লিখেছেন, ‘সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কাজের পথে আমার অবস্থান যেন বিভ্রান্তির কারণ না হয়, সে জন্য আমি এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’
এমপি হিসেবে নিজ নির্বাচনী এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটসে এই সম্পত্তির মালিক রুশনারা আলী সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি মালিকদের মাধ্যমে ভাড়াটে শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সরকার জনগণকে অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা দেবে।’
তবে এক ভাড়াটে লরা জ্যাকসন স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘এটা একটা রসিকতা। এত ভাড়া আদায় করার চেষ্টা একপ্রকার চরম শোষণ।’ রুশনারা আলীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ভাড়াটেরা চুক্তির পুরো মেয়াদ বসবাস করেছেন এবং চাইলে আরও থাকার সুযোগ ছিল। তবে তারা নিজ ইচ্ছায় চলে যান।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন