বৃহঃস্পতিবার, ২৫শে জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদ মোখবার কি ইরানের পরবর্তী কান্ডারি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১২:৩৪ অপরাহ্ন, ২০শে মে ২০২৪

#

ছবি: সংগৃহীত

হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দোল্লাহিয়ান নিহত হয়েছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন? উত্তর খুঁজতে গিয়ে যে নাম সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি মোহাম্মদ মোখবার। ইরানের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট তিনি। 

ইরানের সংবিধানে বলা আছে, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মারা গেলে বা কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। পরবর্তী ৫০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে এবং নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে হবে। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলাবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

তবে যিনিই নতুন প্রেসিডেন্ট হন না কেন, তাঁকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন নিতে হবে। ইরানে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে ভূমিকা পালন করেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি। ক্ষমতাকাঠামোতে এরপরই রয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তাঁকে সরকারের প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাইসি নিহত হওয়ায় খামেনির অনুমোদন সাপেক্ষে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবারের ইরানের পরবর্তী কান্ডারি হওয়ার পথ খুলে গেছে বলা যায়।

২০২১ সালের আগস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট হন ইব্রাহিম রাইসি। এর পরপরই খামেনির অনুমতি সাপেক্ষে মোহাম্মদ মোখবারকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংবিধান সংশোধনের পরবর্তী সময়ে ইরানের সপ্তম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ মোখবার। 

আরো পড়ুন: রাইসির মৃত্যুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের শোক প্রকাশ 

ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে মোহাম্মদ মোখবার ইরানের সিতাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এটা ইরানের অন্যতম শক্তিশালী একটি অর্থনৈতিক কনগ্লোমারেট (একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অধীন থাকা বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী)। মূলত দাতব্যকাজের জন্য এই প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে পরিচিত। সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি তত্ত্বাবধানে এটা পরিচালিত হয়।

মোহাম্মদ মোখবারের নজরদারিতে সিতাদ করোনার নিজস্ব টিকা ‘কোভিরান বারেকাত’তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়েছিল। একসময় ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের গভর্নর ছিলেন মোহাম্মদ মোখবার।

উল্লেখ্য, রোববার (১৯শে মে) আজারবাইজানের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের যৌথভাবে নির্মিত একটি বাঁধ উদ্বোধন করতে যান প্রেসিডেন্ট রাইসি। সেখানে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও ছিলেন।

সেখান থেকে তিনটি হেলিকপ্টারের বহর নিয়ে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে ফিরছিলেন রাইসি ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য কর্মকর্তারা। পথে পূর্ব আজারবাইজানের জোলফা এলাকার কাছে দুর্গম পাহাড়ে প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী বেল-২১২ মডেলের হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। হেলিকপ্টারটি আমেরিকার তৈরি। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।

সূত্র: আল-জাজিরা 

এইচআ/  

মোহাম্মদ মোখবার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী

খবরটি শেয়ার করুন