বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** আমলাতন্ত্র জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকে চেপে বসেছে, কিছুই করা যায় না: ফাওজুল কবির খান *** আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র *** ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণমাধ্যমকর্মীদেরই আদায় করতে হবে’ *** নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘সিম্প্যাথি’ পেতে মিথ্যা বলছেন: মির্জা আব্বাস *** ড্রোন বানাবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সহায়তা করবে চীন *** নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসির কাছে ৭১ সংগঠনের ১০ সুপারিশ *** ‘নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না’ *** ‘কাজের টোপ’ দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে বাংলাদেশিদের পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধে *** পায়ে পাড়া দিয়ে কেউ যদি আশা করে আমরা চুপ থাকব, তা হবে না: শফিকুর রহমান *** বিচ্ছেদের পর গলায় স্ত্রীর ছবি ঝুলিয়ে দুধ দিয়ে গোসল

প্যারোলে মুক্তি মেলেনি ছাত্রলীগ নেতার, কারাফটকে দেখলেন মৃত স্ত্রী-সন্তানের মুখ

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, ২৫শে জানুয়ারী ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি মেলেনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নিষিদ্ধঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের। এ কারণে শনিবার (২৪শে জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে বন্দী রয়েছেন। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে মিনিটপাঁচেক সময় দেওয়া হয় সাদ্দামকে।

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর (২২) ঝুলন্ত লাশ এবং তার ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে শিশুসন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণালী। পুলিশ জানায়, তারা সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে সাদ্দামের স্বজনেরা কারাফটকে আসেন। তাদের সঙ্গে দুটি মাইক্রোবাসে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন আসেন। সব কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছয়জন পরিবারের সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি পায়। পাঁচ মিনিট পর তাদের বের করে দেওয়া হয়।

সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, ‘সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। তিনি তো মার্ডার মামলার আসামি না। রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মুক্তি না পাওয়ায় আমরা অনেকেই এসেছি কারাগারে। কিন্তু ছয়জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। মানবিক দিক থেকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।’

সাদ্দামের স্বজনেরা জানান, প্রশাসন মুক্তি না দেওয়ায় বাগেরহাট থেকে যশোরে এসেছি। সড়কও খারাপ। বাদ এশা জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও গভীর রাত হয়ে যাবে জানাজায়। সাদ্দামের স্ত্রী ও তার সন্তানের জানাজা রাতেই করা হবে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, ‘কারাফটকে লাশ নিয়ে আসার পর আমরা ছয়জনকে প্রবেশ করতে দিই। পাঁচ মিনিট সাদ্দাম তার মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে পেরেছেন। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দীর স্বজন মারা গেলে, তার লাশ যদি কারাফটকে আনেন স্বজনেরা, তাহলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করি দেখতে দিই।’

এদিকে এ ঘটনায় শনিবার (২৪শে জানুয়ারি) নিহত কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন। তবে লাশ উদ্ধারের পর রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছিলেন তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250