ফাইল ছবি (সংগৃহীত)
শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির নতুন বামপন্থী সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্যে তিনিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিরোধীদলীয় কোনো নেতা, যাকে গ্রেপ্তার করা হলো।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৭৬ বছর বয়সী বিক্রমাসিংহেকে তার ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লন্ডন সফরের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওই সময়ে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি তর স্ত্রীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এই সফরে গিয়েছিলেন। এই সফরের জন্য সরকারি তহবিলের অপব্যবহার করেছেন। বিক্রমাসিংহে হাভানা থেকে জি৭৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে লন্ডন সফর করেছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাকে কলম্বো ফোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে। তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কাজে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রমাসিংহে আজ শুক্রবার (২২শে আগস্ট) সকালে নিজেই কলম্বোর আর্থিক অপরাধ তদন্ত বিভাগে (এফসিআইডি) আত্মপক্ষ সমর্থন করে তার বিবৃতি দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর হেফাজতে নেওয়া হয়।
এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের সরকার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্তে তাদের কঠোর অবস্থান তুলে ধরল। উল্লেখ্য, দিশানায়েকের নতুন সরকার গত সেপ্টেম্বরে ক্ষমতায় আসার পরই দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
রনিল বিক্রমাসিংহের গ্রেপ্তার শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার সমর্থকেরা এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করছেন। তারা মনে করছেন, এটি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের একটি কৌশল। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্যই এই পদক্ষেপ।
খবরটি শেয়ার করুন