ছবি: সংগৃহীত
উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী দোল পূর্ণিমা উদযাপনে রঙে রঙে মুখর হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁও শহর। আজ বুধবার (৪ঠা মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে এ উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ঢাক-ঢোলসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নারী, শিশু ও তরুণসহ সব বয়সী মানুষ রঙিন আবির নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। অংশগ্রহণকারীদের মুখ, হাত ও পোশাক রঙের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে রঙিন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রঙের উৎসব হিসেবে দোল উদযাপন করেন। অনেক জায়গায় এটি দোল যাত্রা নামেও পরিচিত।
ফাল্গুনী পূর্ণিমাকেই দোল পূর্ণিমা বলা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই পূর্ণিমা তিথিতেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম হয়েছিল। তাই এই দিনটি গৌর পূর্ণিমা নামেও পরিচিত।
ভক্তদের মতে, এই দিনে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ রাধা ও সখীদের সঙ্গে রঙের খেলায় মেতে উঠেছিলেন। সেই ঘটনার অনুপ্রেরণাতেই দোল খেলার প্রচলন শুরু হয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস।
দোল উৎসব উদযাপিত হয় ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে এবারের উৎসবের সূচনা হয়। এ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন মন্দিরে পূজা, হোমযজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণসহ নানা ধর্মীয় আচার পালিত হয়। উৎসবের ধারাবাহিকতায় বুধবার রঙ খেলা হয়।
নিক্কন সংগীত বিদ্যালয়ের শিক্ষক পিয়াল বোস গণমাধ্যমে বলেন, ‘দোল মূলত বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব। দিনটি বাঙালির কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে শহর ও গ্রামের মানুষ রঙ খেলায় অংশ নেন।'
আজ আবির নিয়ে মেতে ওঠায় শিশু ও তরুণদের পাশাপাশি বয়স্করাও পিছিয়ে ছিলেন না। গান-বাজনার তালে নেচে-গেয়ে একে অপরকে রঙ মাখিয়ে উৎসব উদযাপন করেন তারা।
রঙে রঙিন হাত নিয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী দিবা রায় বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন। তিনি জানান, আনন্দের পাশাপাশি অশুভ শক্তির বিনাশ কামনাও করেছেন তিনি।
আশ্রম এলাকার বাসিন্দা চন্দনা ঘোষ বলেন, ‘প্রতি বছরই এলাকার মানুষ দোল পূর্ণিমায় এভাবে রঙের উৎসবে মেতে ওঠেন।’ ঠাকুরগাঁও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘দোল উৎসব শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও প্রতীক।’
‘রঙের এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা হৃদয়ের সব নেতিবাচকতা দূর করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে চাই,’ বলেন তিনি।
খবরটি শেয়ার করুন