শনিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
২১শে চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় 'সেভেন সিস্টার্সকে' বিমসটেকের কেন্দ্রবিন্দু বলল ভারত *** 'রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখনই উপসংহারে পৌঁছানো উচিত হবে না' *** ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে থাকা ঈদের সিনেমার গান *** থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা *** ইউনূস–মোদির বৈঠকে 'আশার আলো' দেখছে বিএনপি *** ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক *** সম্পর্ক খারাপ হয়, এমন বক্তব্য পরিহার করার আহ্বান ভারতের প্রধানমন্ত্রীর *** সাড়া ফেলেছে নিশো–তমার ‘দাগি’, বেড়েছে শো *** রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার, প্রথম ধাপে যাবে ১ লাখ ৮০ হাজার *** ঈদে সিনেমা হলে কেন নেই ‘জ্বীন থ্রি’, যা বলছেন প্রযোজক

পাটের সোনালী দিনের অপেক্ষায় কৃষকরা

উপ-সম্পাদকীয়

🕒 প্রকাশ: ০১:৩৮ অপরাহ্ন, ২০শে নভেম্বর ২০২৪

#

ছবি - সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পলিথিন ব্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বাজারে পাটের চাহিদা বেড়েছে। তবে জোগান কম থাকায় ভালোমানের পাট গত বছরের এই সময়ের তুলনায় প্রায় ছয়শো সাতশো টাকা পর্যন্ত বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। সরকার গত অক্টোবর থেকে সুপারমলে ও গত ১লা নভেম্বর থেকে সারাদেশে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করায় পাটের দাম বেড়েছে। পাট ব্যবসায়ীরা জানান,বর্তমানে সবচেয়ে ভালোমানের পাট মনপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই সময়ে তা ছিল ৩ হাজার ২০০ টাকা। মাঝারি মানের পাট ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে হয়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু পাটের দাম বাড়লেও কৃষক লাভবান হচ্ছে না। কারণ এখন সব কিছুই পাট ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে।

বিগত বছরগুলোয় পাটের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশে পাটের উৎপাদন কমেছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর পাটের উৎপাদন অনেক কম হয়েছে। বাংলাদেশ পাট অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে পাট উৎপাদন হয়েছিল ৮৪ লাখ ১৪ হাজার বেল (প্রায় ১৮২ কেজিতে এক বেল)। চলতি অর্থবছরে এসে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ ৭৪ হাজার বেল।

সোনালী আঁশখ্যাত পাট একসময় দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল। কিন্তু নানা কারণে সে গৌরব আর নেই। পাটের ব্যবহার সংকুচিত হওয়ায় দাম কমেছে, চাষও কমেছে। কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। চরম হতাশায় ভুগছেন পাট চাষিরা।

পাট একটি পচনশীল বস্তু। পাটের তৈরি পণ্যের চাহিদা ছিল প্রচুর। পাট থেকে সুতা, ব্যাগ, দড়ি, হস্তশিল্পসহ নানা কিছু তৈরি করা হতো। পাটের তৈরি জিনিসপত্র রপ্তানি করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো। ভালো দামে পাট বিক্রি করে কৃষকের ঘরে খুশির আনন্দ বয়ে যেতো।

একসময় পাট এদেশের একক বৃহত্তম শিল্প ছিল। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রথম পাট শিল্পের সূচনা ঘটে। আদমজীর পাটের সুনাম সারা পৃথিবী জুড়ে ছিল। পরবর্তীতে সময়ের পরিক্রমায় ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাটকলগুলো ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ববাজারে এখনও পাটসামগ্রীর বিপুল চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশে পাটকলগুলো বন্ধ থাকায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। পাট চাষ দিনদিন কমে যাচ্ছে। যার কারণে বিপুল সংখ্যক কৃষক-শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

পাটজাত পণ্য সহজে পচনশীল হওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধব। পাট পণ্যের বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি, যা থেকে প্রচুর অর্থনৈতিক আয় সম্ভব। এজন্য নতুন নতুন পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় গুদামঘর নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আধুনিক শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে চাহিদা অনুযায়ী গুণগত মানসম্মত পণ্য উৎপাদন ও এর প্রচার বাড়াতে হবে।

পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারকে আরো বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পলিথিনের পরিবর্তে পাটের পণ্য ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশে সরকারকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পলিথিন উৎপাদন, বিপণন, ব্যবহার বন্ধ ও পাটপণ্যের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাটকলগুলো চালু করতে হবে। পাটের তৈরি জিনিস বাজারজাত করা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পাটের জিনিসপত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলেই কৃষক পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হবে। তাহলেই পাটের সোনালী দিন ফিরে আসবে।

আই.কে.জে/

সোনালী আঁশ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন