ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবারের মতো অটিস্টিক বার্বি বাজারে এনেছে বিখ্যাত খেলনা প্রস্তুতকারক কোম্পানি ম্যাটেল। ‘বার্বি’ ব্র্যান্ডের অধীনে টাইপ-১ ডায়াবেটিস আক্রান্ত পুতুল বাজারে আনার মাত্র ছয় মাসের মাথায় নতুন পুতুলটি ‘বার্বি ফ্যাশনিস্তা’ সিরিজে যুক্ত হলো। এর মূল লক্ষ্য অটিস্টিক শিশুরা যাতে বার্বির মাঝে নিজেদের প্রতিফলন দেখতে পায়। সেই সঙ্গে অন্যান্য শিশুরা তাদের চারপাশের বৈচিত্র্যময় জগত সম্পর্কে ধারণা পায়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
২০২৩ সালের গ্রেটা গারউইগের ব্লকবাস্টার ‘বার্বি’ সিনেমার সাফল্যের পর ম্যাটেল স্টুডিওস এখন একটি অ্যানিমেটেড বার্বি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় শিশুদের খেলনার জগতেও ব্যাপক বৈচিত্র্য আনছে কোম্পানিটি। গতকাল সোমবার (১২ই জানুয়ারি) ম্যাটেল তাদের ইতিহাসের প্রথম ‘অটিস্টিক বার্বি’ উন্মোচন করেছে। আমেরিকার দাতব্য সংস্থা ‘অটিস্টিক সেলফ অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক’-এর সাথে যৌথভাবে বার্বিটি ডিজাইন করেছে ম্যাটেল।
এই পুতুলটির নকশায় অটিস্টিক শিশুদের বিশেষ কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পুতুলটির চোখের দৃষ্টি সামান্য একপাশে রাখা হয়েছে। যা অটিস্টিক শিশুদের সরাসরি চোখে চোখ না রাখার বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তোলে।
পুতুলটির কনুই ও কবজি সম্পূর্ণ নমনীয়। যা ‘স্টিমিং’বা উত্তেজনার সময় অটিস্টিক শিশুদের মতো পুনরাবৃত্তিমূলক অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনে সক্ষম। বার্বির হাতে রয়েছে একটি গোলাপি রঙের ‘ফিজেট স্পিনার’ যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। কানে আছে গোলাপি ‘নয়েজ-ক্যান্সেলিং হেডফোন’ যা অতিরিক্ত শব্দ থেকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া তার সাথে রয়েছে একটি ট্যাবলেট, যাতে ছবি ও চিহ্নের মাধ্যমে যোগাযোগের বাটন রয়েছে।
ত্বকে কাপড়ের ঘর্ষণ জনিত অস্বস্তি কমাতে বার্বিকে পরানো হয়েছে ঢিলেঢালা বেগুনি রঙের পিনস্ট্রাইপ এ-লাইন ড্রেস। পায়ে রয়েছে বেগুনি রঙের চ্যাপ্টা তলার জুতো, যা হাঁটাচলায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
১৯৫৯ সালে প্রথম বাজারে এলেও ২০১৯ সাল পর্যন্ত কোনো প্রতিবন্ধী বার্বি ছিল না। বর্তমানে ম্যাটেলের সংগ্রহে অন্ধ বার্বি, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত, কৃত্রিম অঙ্গধারী ও হিয়ারিং এইড ব্যবহারকারী বার্বি রয়েছে। এমনকি কৃত্রিম পা বা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী কেন পুতুলও পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ম্যাটেলের গ্লোবাল হেড অব ডলস জ্যামি সিগেলম্যান বলেন, বার্বি সবসময় শিশুদের দেখা জগত এবং তাদের কল্পনার সম্ভাবনাকে ফুটিয়ে তুলতে চায়। আমরা এই অটিস্টিক বার্বিকে যুক্ত করতে পেরে গর্বিত। প্রতিটি শিশুর বার্বির মাঝে নিজেকে দেখার অধিকার রাখে।
অটিজম বিষয়ক সংস্থা ‘অ্যাম্বিশাস অ্যাবাউট অটিজম’-এর প্রধান নির্বাহী জোলান্টা লাসোটা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রতিনিধিত্বের ক্ষমতা অনেক। অনেক অটিস্টিক শিশু স্কুলে হেডফোন বা বিশেষ খেলনা ব্যবহার করতে দ্বিধা বোধ করে কারণ তারা সবার থেকে আলাদা হতে চায় না। বার্বির মতো আইকনিক পুতুল যখন এগুলো ব্যবহার করবে, তখন এই বিষয়গুলো স্বাভাবিক হিসেবে গৃহীত হবে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন