ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে নিখোঁজের তিন দিন পর নয়ন দাশ (৪০) নামে এক মন্দির সেবায়েতের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুরে ইউনিয়নের পুলিশ্যাঘোনা এলাকার একটি পাহাড় থেকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নয়ন দাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকার গোপাল দাশের ছেলে। তিনি খুরুশকুলের পূর্ব হামজার ডেইল এলাকায় অবস্থিত সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব কালী মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং পরিবার নিয়ে মন্দিরের পাশেই বসবাস করতেন।
নিহতের স্ত্রী অঞ্জনা শীল বলেন, গত ১৯ এপ্রিল রাত নয়টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি নয়ন দাশকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে মন্দির থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ গজ দূরে পাশের পাহাড়ি জঙ্গলে স্বামীর পরিহিত একটি চাদর পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এতে তার আশঙ্কা হয়, স্বামীর সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। পরে তিনি কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় বলেন, নিখোঁজের পরদিন থেকে স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। জিডির পর পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন পাহাড়ে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহে পচন ধরায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার তিন দিন পর পাহাড়ে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ রয়েছে। তবে কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
খবরটি শেয়ার করুন