ছবি: সংগৃহীত
‘নির্বাচিত সেক্রেটারি, ৫০ লাখ টাকা খরচ করে হালাইছি’—লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশের এমন বক্তব্যের একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে না পারাকে কেন্দ্র করে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন বলে জানা গেছে।
ঢাকায় বসে আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কলরেকর্ডটি পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জানা যায়, কথোপকথনে গিয়াস উদ্দিন পলাশকে অনুষ্ঠানের ব্যানারে তার নাম প্রধান অতিথি হিসেবে না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে তিনি মারুফ ভূঁইয়াকে বলেন, ‘আমি পৌর বিএনপির সেক্রেটারি, আমার নাম ব্যানারে আসে নাই, আপনি বলেন পলাশ কে? নির্বাচিত সেক্রেটারি, ৫০ লাখ টাকা খরচ করে হালাইছি।’
এর আগে কথোপকথনের একপর্যায়ে পলাশকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পানিওয়ালা যামু না, তোরা এইকগাও পৌরসভায় আসবি না।’ তিনি কেন অনুষ্ঠানের ব্যানারে তার নাম প্রধান অতিথি হিসেবে রাখা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
কলরেকর্ডে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘মনোয়ার প্রধান অতিথি, আমনে বিশেষ অতিথির ব্যানার কইরছেন। আঁই পানিওয়ালা স্কুলে যাই, আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারি প্রধান অতিথি হইতে হারিনো।’
কথোপকথনের অপর প্রান্তে থাকা তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া একাধিকবার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কিছু বলিনি।’ একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। কলরেকর্ডের কিছু অংশে অপ্রকাশযোগ্য কথাও রয়েছে।
এ বিষয়ে তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি পুরোনো। পরে বিষয়টি তিনি জ্যেষ্ঠ নেতাদের জানান। তারা বসে বিষয়টির সমাধান করে দিয়েছেন। তার ভাষ্য, পলাশ পরে তাকে দুঃখ প্রকাশও করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিন পলাশের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পলাশের ঘনিষ্ঠ এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনার সময় পলাশ ‘মাথা গরম’ অবস্থায় ছিলেন। পরে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে শেখ কামরুল ইসলাম সভাপতি এবং গিয়াস উদ্দিন পলাশ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
কলরেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কেউ রাজনৈতিক পদে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন, ব্যক্তিগত উত্তপ্ত কথোপকথনকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে আনা ঠিক নয়।
খবরটি শেয়ার করুন