ফাইল ছবি
সরকার জনগণকে ‘মিথ্যাচারের ফাঁদে ফেলে প্রতারণামূলকভাবে’ গণভোটের আয়োজন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২শে ডিসেম্বর) ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রচার কার্যক্রম উদ্বোধন করে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন।
সেলিম বলেন, দুইটা ভোট হবে, একটা হল এমপি ভোট আরেকটা হল গণভোট। হওয়ার কথা নিরপেক্ষ ভোট। ‘হ্যাঁ’/‘না’ ভোট একটা ভোট সেখানে তিনটা পক্ষ হতে পারে। একটা পক্ষ ‘হ্যাঁ’ বলবে, একটা পক্ষ ‘না’ বলবে একটা পক্ষ বিরত থাকবে। সরকার যদি বলে ধানের শীষে ভোট দাও বা এই মার্কায় ভোট দাও, কিংবা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দাও, সরকার কি দাবি করতে পারে যে ‘আমরা নিরপেক্ষ’? তাহলে মানুষ এত রক্ত দিল কেন?
সরকার গণভোটের প্রচার করছে সরকারি টাকায়, সেখানে সরকার কীভাবে একটি পক্ষ নিতে পারে, সেই প্রশ্ন তোলেন কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে জুলাই সনদে সই না করা সিপিবির এই নেতা।
তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম সংস্কার দরকার, কিন্তু সংস্কার করতে হলে জনগণের শক্তির উপর দাঁড়িয়ে করতে হবে। তাই প্রথমে জাতীয় নির্বাচন হোক। আমাদের কথাবার্তা শোনে নাই। এখন ভুয়া প্রতারণামূলক একটা ইয়েস নো ভোট দিয়েছে।
গণভোটের প্রশ্নের কথা তুলে ধরে সেলিম বলেন, আটটা বিষয়ে আমাকে ‘হ্যাঁ’, ‘না’ বলতে হবে। চারটা এবং তার ভেতরে অনেকগুলো ভাগ আছে। আমি অর্ধেকটা মানি অর্ধেকটা মানি না। যদি ‘হ্যাঁ’ দিই, তাহলে যেগুলো মানি না ওটাও ‘হ্যাঁ’ বলতে হচ্ছে। আর যদি ‘না’ বলি, তাহলে যেগুলো আমি সমর্থন করি সেখানেও ‘না’ বলতে হচ্ছে।
সিপিবির সাবেক এই সভাপতি বলেন, আমি অভিযোগ করতে চাই, সরকার সমস্ত জনগণকে মিথ্যাচারের ফাঁদে ফেলে তাদের ঈমান নষ্ট করার ব্যবস্থা করেছে। এই গণভোট শুধু অপ্রয়োজনীয় নয়, এটা একটা প্রতারণামূলক ভোট। আমরা জনগণের কাছে আহ্বান জানাব, এইটা আমাদের ভোট না, আপনার নির্বাচিত প্রতিনিধি সঠিকভাবে নির্বাচিত করেন এবং তারা পার্লামেন্টে গিয়ে এই দেশ কীভাবে চলবে না চলবে সেটা নির্ধারণ করবে।
অভ্যুত্থানের সামনের সারির ছাত্রনেতাদের দল এনসিপিরও কঠোর সমালোচনা করেন সিপিবি নেতা সেলিম। তিনি বলেন, ২৪ সালে গণভুত্থানের সময় আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, স্বাধীনতা এনেছি এখন সংস্কার হবে। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, এটাই তো গ্রাফিতিতে লেখা ছিল। এখন সে জাতিকে আজ উল্টা দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, একটা প্রশ্ন না করে পারছি না, তরুণ সমাজ হল নতুনের দিকে যাবে। তারা বলল, আমরা সমন্বয়কারী। এনসিপি করল। করে গিয়ে এখন জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েছে। এইটা সামনের দিকে আগানো না পেছন দিকে আগানো?
সেলিম বলেন, এ কোন যুব সমাজ যে সামনের দিকে অগ্রসর না হয়ে মধ্যযুগের দিকে দেশকে নিয়ে যেতে চায়? নতুন চিন্তা না এনে পুরানা চিন্তায় আমাদের দেশবাসীকে আবার ঘুম পাড়িয়ে দিতে চায়? সুতরাং জনগণের কাছে আমার আহবান, আপনারা স্বাধীনভাবে আপনাদের বিবেক বুদ্ধি বিবেচনা অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এই নির্বাচন সংগ্রামে অবস্থিত হবেন।
খবরটি শেয়ার করুন