কুমিল্লায় বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে চড় মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এক মাস আগে জেলার আদর্শ সদর উপজেলায় চড় মারার ঘটনা ঘটলেও আজ শনিবার (১৩ই ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত তরুণের নাম মোহাম্মদ জিহাদ। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাসিন্দা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পাশের একটি সড়কে ইউনিফর্ম পরা পাঁচজন নারী শিক্ষার্থী। তাদের একজন এক তরুণের সঙ্গে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। তখন দৌড়ে গিয়ে এক তরুণ ওই নারী শিক্ষার্থীকে চড় মারেন। সেসময় ওই তরুণের সঙ্গে থাকা আরেকজন পুরো ঘটনাটির ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।
মেয়েটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, স্কুল আঙিনার বাইরে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগে ঘটলেও এ নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কাউকে কিছু জানায়নি বা কোনো অভিযোগ করেনি। ভিডিওটি আমাদের নজরে আসে। এরই মধ্যে আমরা আজ সকালে বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বসেছি। দ্রুতই অভিভাবকদের নিয়ে বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।
ঘটনাস্থলের পাশের একটি দোকানের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বখাটেরা অনেক বেশি সংঘবদ্ধ। তারা বিভিন্ন সময় মেয়েদের বিরক্ত করে। প্রায় এক মাস আগে আমার দোকানের পাশেই ঘটনাটি ঘটেছে। কতটা অমানুষ হলে নির্যাতনের পর ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে। শুনেছি, ছেলেটির পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী, তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জিহাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা সুখবর ডটকমকে মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। আপনার মাধ্যমেই জানলাম। এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো না। আমি পুরো ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার সুখবর ডটকমকে বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ছেলেটির বাবাকে থানায় ডেকে আনা হয়েছে। এরই মধ্যে দুই পক্ষকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। আমরা ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেব।
খবরটি শেয়ার করুন