বুধবার, ১৮ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে কেউ আসেননি: আনিস আলমগীর *** সরকার গঠনের ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ *** মুসলিম হও, নয়তো মৃত্যু—নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জঙ্গিদের হুমকি *** ইরান যুদ্ধের মধ্যেই কিউবা দখলের হুমকি, ট্রাম্পের মতিগতি কী? *** ধর্ষণ প্রতিকারে বিশেষ পদক্ষেপ নেবে সরকার *** চা বিক্রেতা বৃদ্ধা ও নাতনির কাছে ঈদ উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী *** কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ দাবি আওয়ামী লীগের *** কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য দোয়ার আয়োজন, অতঃপর... *** ১০ বছরে বাংলাদেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অর্ধেক তরুণই কাজ পায়নি: বিশ্বব্যাংক *** ‘জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আপস করায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ করা উচিত’

ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে কেউ আসেননি: আনিস আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, ১৮ই মার্চ ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

দেশের রাজনীতি, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনিস আলমগীর। গত বছরের ১৪ই ডিসেম্বর তাকে আটক এবং পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তিনি দীর্ঘ সময় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে কাটান। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি নিজের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও কারাবাসের অভিজ্ঞতা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছেন।

১৭ই মার্চ ‘টিবিএস স্পেশাল’ অনুষ্ঠানে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড–এর মাল্টিমিডিয়া বিভাগের বিশেষ প্রতিনিধি আনিছুর রহমানের সঙ্গে আলোচনায় তিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করেন। ওই আলোচনায় তিনি দাবি করেন, “ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে আর কেউ আসেননি।”

গ্রেপ্তারের পটভূমি

আনিস আলমগীরকে গত বছরের ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আটক করে নিয়ে যায়। পরে তার বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতের আদেশে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। 

পরে রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই গ্রেপ্তার নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা হয় এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে।

আনিস আলমগীর নিজেও আদালতে দাঁড়িয়ে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোকে “মিথ্যা ও সাজানো নাটক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে তিনি সব সময় ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।

আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে

টিবিএস স্পেশালের সাক্ষাৎকারে আনিস আলমগীর বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করার মূল উদ্দেশ্য ছিল সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বর দমন করা। তার ভাষায়, “আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তুমি বেশি কথা বলো। কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে সত্য বলা আমার দায়িত্ব।”

তিনি জানান, ১৪ই ডিসেম্বর রাতে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরদিন তার বিরুদ্ধে মামলা দেখানো হয়।

“আমাকে প্রথমে বলা হয়েছিল কিছু বিষয়ে জানতে চায়। কিন্তু পরে দেখি মামলা হয়ে গেছে। তখন বুঝলাম এটা আসলে পরিকল্পিত,”—বলেন তিনি।

রিমান্ডের অভিজ্ঞতা

রিমান্ডের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, “রিমান্ড মানে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ নয়, মানসিক চাপও তৈরি করা হয়।” তিনি জানান, তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়—বিশেষ করে টেলিভিশন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্য সম্পর্কে।

তার মতে, তদন্তকারীরা জানতে চাইছিলেন কেন তিনি সরকার ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সমালোচনা করেছেন।

“আমি তাদের বলেছি—আমি তো ২০ বছর ধরে একই কাজ করছি। খালেদা জিয়ার সময় যেমন সমালোচনা করেছি, শেখ হাসিনার সময়ও করেছি, এখনো করছি,”—বলেন তিনি।

কারাগারে কাটানো দিনগুলো

রিমান্ড শেষে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে কাটানো সময়ের কথা বলতে গিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, কারাগারের অভিজ্ঞতা তাকে দেশের বিচারব্যবস্থা ও রাজনীতির বাস্তবতা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে।

তিনি বলেন, “কারাগারে গিয়ে বুঝেছি এই দেশে অনেক মানুষ বিচার না পেয়ে বছরের পর বছর বন্দি থাকে। এটা খুবই কষ্টের।” তার মতে, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে কারাগারে যেতে হওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।

ইউনূস সরকারের কঠোর সমালোচনা

সাক্ষাৎকারে আনিস আলমগীর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে আসেননি।” তার দাবি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়নি। বরং বিরোধী মত দমনের প্রবণতা বেড়েছে।

আনিস আলমগীর বলেন, “যে সরকার গণতন্ত্র ও সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছ থেকে মানুষ ভিন্ন ধরনের আচরণ আশা করেছিল।”

আদালতে দেওয়া বক্তব্য

গ্রেপ্তারের পর আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, “ড. ইউনূস চাইলে পুরো দেশকে কারাগারে পরিণত করতে পারেন।” এই বক্তব্যে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—রাষ্ট্রক্ষমতা যখন অসীম হয়ে যায়, তখন তা নাগরিক স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তিনি আদালতে আরও বলেন, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করা একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব।

আলোচনায় আনিস আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা ক্রমেই রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়ছে। তার মতে, ক্ষমতায় যে-ই থাকুক না কেন, সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

“বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর মামলা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক,”—বলেন তিনি।

মুক্তির পর প্রতিক্রিয়া

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আনিস আলমগীর বলেন, তিনি আগের মতোই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবেন।

“আমি ভয় পাই না। সাংবাদিক হিসেবে সত্য বলা বন্ধ করব না,”—বলেন তিনি। তার মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সমালোচনার সুযোগ থাকতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না।

আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তার, রিমান্ড এবং কারাবাসের ঘটনা দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিকে সরকার আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে—এ ধরনের ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

জামিনে মুক্ত হয়ে টিবিএস স্পেশালে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনিস আলমগীর যে অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

আনিস আলমগীর

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250