বুধবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** পোস্টার থেকে ফেসবুক পেজে, নির্বাচনী প্রচারের চেনা চিত্র বদলে গেছে *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজটি আগেও ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল *** অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ৩৫ মিনিট আকাশে ছিল, অবতরণের আগমুহূর্তে বিধ্বস্ত *** ‘মুকাব’ মেগা প্রকল্প স্থগিত করল সৌদি আরব *** সিইসির সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত *** আমলাতন্ত্র জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকে চেপে বসেছে, কিছুই করা যায় না: ফাওজুল কবির খান *** আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র *** ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণমাধ্যমকর্মীদেরই আদায় করতে হবে’ *** নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘সিম্প্যাথি’ পেতে মিথ্যা বলছেন: মির্জা আব্বাস *** ড্রোন বানাবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সহায়তা করবে চীন

কারাবন্দীত্ব এড়াতে ৪ বছরে ৩ বার গর্ভধারণ চীনা নারীর, অতঃপর যা ঘটল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০২:১৩ অপরাহ্ন, ২০শে আগস্ট ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

চীনে এক নারী তার কারাবন্দীত্ব এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার গর্ভধারণ করছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি টানা ৪ বছরে ৩ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে বিচারপ্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শানসি ইভিনিং নিউজের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

খবরে বলা হয়েছে, চেন হং ছদ্মনামের নামের ওই নারীকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে মধ্য চীনের শানসি প্রদেশে প্রতারণার অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর এই কারাবন্দীত্ব ঠেকাতে তিনি অভিনব কৌশলের আশ্রয় নেন। এক পুরুষের সঙ্গে মিলে তিনি ৪ বছরে ৩ সন্তানের জন্ম দেন।

চীনা আইন অনুসারে, কোনো অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি গুরুতর অসুস্থ, গর্ভবতী বা সদ্যোজাত সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর মতো হন, অথবা নিজের ভরণপোষণ করতে অক্ষম হন তবে তাদের অস্থায়ীভাবে জেলের বাইরে সাজা দেওয়া হয়। এ সময় তারা হাসপাতাল বা নিজ নিজ বাড়িতে ‘কমিউনিটি কারেকশন সার্ভিসে’ বা সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের দণ্ড মওকুফ করান। পুরো বিষয়টি তদারক করে স্থানীয় কারাগার এবং জননিরাপত্তা সংস্থা।

এই বন্দীদের প্রতি ৩ মাসে একবার করে অসুস্থতা বা গর্ভাবস্থার পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হয়। তাদের কার্যক্রম নিয়মিত স্থানীয় প্রসিকিউটরেটের বা বিচার বিভাগের তদারকির আওতায় থাকে। গত মে মাসে এক তদারকির সময় প্রসিকিউটর দেখেন, সদ্য তৃতীয় সন্তান জন্ম দেওয়া চেন তার সন্তানের সঙ্গে থাকেন না।

তদন্তে আরও দেখা যায়, শিশুর পরিবারের নিবন্ধন চেনের ভাইবোনের নামে। এর অর্থ হলো—শিশুরা আইনগতভাবে তাদের সন্তান হিসেবে গণ্য হবে। প্রমাণপত্র উপস্থাপন করলে চেন স্বীকার করেন যে, তিনি এরই মধ্যে তালাকপ্রাপ্ত। প্রথম দুই সন্তান তার প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে থাকে। তৃতীয় সন্তান তিনি প্রাক্তন স্বামীর বোনের কাছে দিয়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় বিচার বিভাগের বিশ্বাস, চেন গর্ভধারণকে জেল এড়ানোর এক অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন। তারা সুপারিশ করেন যে তাকে কারাগারে পাঠানো হোক। অবশ্য পরে, চেনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বছরের কম অবশিষ্ট থাকায়, তাকে পুরো সাজা শেষ করার জন্য কারাগারে না পাঠিয়ে একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বিচার বিভাগও চেনকে আইন বুঝিয়ে দিতে এবং নিশ্চিত করতে কর্মী পাঠিয়েছিল যে, তিনি আইন অনুযায়ী তার সময় পূরণ করতে ইচ্ছুক। এই বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে এক আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমি সবচেয়ে বেশি বিস্মিত হয়েছি এই ভেবে যে, তিনি যখন চাইছিলেন তখনই গর্ভবতী হতে পারছেন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আমি সেই তিনটি সন্তানের জন্য দুঃখ বোধ করছি, যাদের জন্ম কেবলমাত্র তাদের মা জেল এড়ানোর জন্যই দিয়েছেন।’ এক তৃতীয় পর্যবেক্ষক লিখেছেন, ‘আমার নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, একবার জন্ম দেওয়ার পর থেকে পরেরবারগুলোতে গর্ভধারণ সহজ।’

জে.এস/

চীন গর্ভধারণ

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250