ছবি: সংগৃহীত
বজ্রপাতে দেশের চার জেলায় এক দিনে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর আগে রোববার আট জেলায় বজ্রপাতে আরও ১৫ জন নিহত হন, যা চলতি মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে।
এদিন সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায়। এই দুই জেলায় তিনজন করে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জে দুজন এবং নোয়াখালীতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সুনামগঞ্জে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও তিনজন। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৩৮), গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের জমির হোসেন (৪০) এবং জামালগঞ্জ উপজেলার রূপাবালী গ্রামের আবু ছালেক (২৪)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হয়ে জমির উদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একইভাবে নদীঘাটে দোকান খুলতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত হয়ে জমির হোসেনের মৃত্যু হয়। আর গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ হারান আবু ছালেক।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিকুর রহমান জানান, তিনজনকেই হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক তিনটি ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন সাতগাঁও গ্রামের কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান (৫০), সিরাজগঞ্জ সদরের শ্রমিক শুভ মণ্ডল (৪৫) এবং ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল মোতালিব (৫৫)। জানা গেছে, হাওরে ধান শুকানো ও কাটার সময় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টিতে তারা আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এছাড়া সকাল সোয়া ৯টার দিকে জগন্নাথপুর ফেরিঘাট এলাকায় মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিহত হন আব্দুল মোতালিব। খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন ঘটনাগুলো নিশ্চিত করে জানান, মরদেহগুলো আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহতরা হলেন নবীগঞ্জের নোয়াগাঁও গ্রামের মকসুদ মিয়া (৩৫) এবং বানিয়াচংয়ের জাতুকর্ণপাড়ার আব্দুল সালাম (৬০)।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাওরে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে মকসুদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ধান কাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান আব্দুল সালাম। একই ঘটনায় গড়পাড় গ্রামের সামরুজ মিয়া (৫০) আহত হয়েছেন। বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে আরাফাত (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। দুপুরে বাড়ির পাশের একটি বাদামখেত দেখতে গিয়ে ফেরার পথে কালবৈশাখী ঝড়ের মধ্যে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ে, তাই এ সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো আবারও দেখাচ্ছে, বজ্রপাত এখন দেশের গ্রামীণ জনপদের জন্য এক বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে কৃষিকাজের সময় মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকছেন।
খবরটি শেয়ার করুন