আজ ৩১শে আগস্ট, রোববার তার জন্মদিন। ২৯ বছরেই হলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের একজন। শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করার পর বড় হয়ে পেয়েছেন দুনিয়াজোড়া তারকাখ্যাতি। কেবল কি অভিনয়, প্রযোজনায় নাম লিখিয়েও পেয়েছেন সাফল্য।
এই অভিনেত্রী আর কেউ নন, জেনডায়া। জন্মদিন উপলক্ষে আলো ফেলা যাক তার জীবন ও ক্যারিয়ারে।
২০১০ সালে ডিজনির ‘শেক ইট আপ’ সিরিজ দিয়ে পরিচিতি পান জেনডায়া। প্রিমিয়ারের পর শোটি ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন দর্শক দেখেন। অভিনয়, বিশেষ করে কমেডি দৃশ্যে তার অভিব্যক্তি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। তবে অভিনয় দিয়ে পরিচিতি পাওয়ার পরের বছরই গানে মন দেন জেনডায়া। তথ্যসূত্র: ভ্যারাইটি, পিপল ডটকম ও আইএমডিবি।
২০১১ সালে আসে তার প্রথম সিঙ্গেল ‘স্যোয়াগ ইট আউট’। একই বছরের জুনে তিনি প্রকাশ করেন ‘ওয়াচ মি’ নামে আরেকটি গান; যেখানে তার সঙ্গে ছিলেন বেলা থর্ন। গানটি বিলবোর্ড হট ১০০-এর ৮৬ নম্বরে পৌঁছেছিল।
২০১২ সালে জেনডায়া করেন প্রথম সিনেমা ‘ফ্রেনেমিস’। এতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়; তৈরি করে আরও বড় কিছু করার মঞ্চ। এটি তার ভবিষ্যতের বড় চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করে।
২০১৩ সালে আসে তার প্রথম অ্যালবাম ড্যান্সিং উইথ দ্য স্টারস। এরপর তাকে পাওয়া যায় ডিজনির টিভি মুভি ‘জ্যাপড’ ও ‘কে সি আন্ডারকাভার’-এ। এই দুই প্রকল্পে প্রধান চরিত্রে তার কমেডি ও অ্যাকশন নজর কাড়ে।
বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে জেনডায়া ব্যাপক পরিচিতি পান ‘স্পাইডার–ম্যান: হোমকামিং’ দিয়ে। একই সময়ে তার আরেক সিনেমা দ্য গ্রেটেস্ট শোম্যানও আলোচিত হয়।
তবে ‘স্পাইডার–ম্যান’-এ টম হল্যান্ডের সঙ্গে তার পর্দার রসায়ন তরুণদের মধ্যে ব্যাপক চর্চিত হয়। তখন কে জানত, দ্রুতই তাদের পর্দার রসায়ন বাস্তব জীবনেও রূপান্তরিত হবে!
২০১৯ সালে এইচবিওর সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’ তরুণদের মধ্যে ঝড় তোলে; সিরিজটির জন্য একের পর এক বড় মঞ্চে পুরস্কার পান জেনডায়া। সিরিজটির জন্য গোল্ডেন গ্লোব ও এমি পুরস্কার পান তিনি।
এরপর ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ ও ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ দিয়ে হলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন তিনি। জেনডায়ার ক্যারিয়ার আরও এক ধাপ এগিয়ে দেয় ডিউন ফ্র্যাঞ্চাইজি।
প্রেম করছেন ‘স্পাইডার–ম্যান’ জুটি জেনডায়া ও টম হল্যান্ড; এটা পুরোনো খবর। এবার শোনা যাচ্ছে, বিয়ে করে থিতু হচ্ছেন তারা। দুই তারকার কেউই অবশ্য বিয়ে নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি, তবে তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বিয়ের বেশি দেরি নেই।
আমেরিকার গণমাধ্যম ইউএস উইকলিকে তাদের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছে, জেনডায়া ও টম নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে খুবই সিরিয়াস। ভবিষ্যতেও একে অন্যের সঙ্গে থাকতে চান তারা। এ জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন।
২০১৬ সালে ‘স্পাইডার–ম্যান: হোমকামিং’ সিনেমার শুটিং সেটে প্রথম দেখা জেনডায়া ও টম হল্যান্ডের। যেখানে ‘স্পাইডার–ম্যান’ চরিত্রে অভিনয় করা টম হল্যান্ডের প্রেমিকার চরিত্র করছিলেন জেনডায়া।
অভিনয়শিল্পী হিসেবে দুজনের কেউই তখন সেভাবে পরিচিত ছিলেন না। পরে পর্দার ‘স্পাইডার–ম্যান’ হয়ে দুনিয়াজুড়ে খ্যাতি পান টম।
গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘চ্যালেঞ্জার্স’ ছবি দিয়ে চমকে দেন জেনডায়া। স্পোর্টস রোমান্টিক সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক ছিলেন তিনি। বক্স অফিসের সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদেরও ব্যাপক প্রশংসা পান অভিনেত্রী।
সিনেমাটির জন্য গ্লোডেন গ্লোবে হাজির হয়েছেন মিউজিক্যাল কমেডি সিনেমা বিভাগের সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়ে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুরস্কার পাননি।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও সমানতালে মন দিয়েছেন জেনডায়া। তবে ইদানীং তাকে আর সেভাবে গানে পাওয়া যায় না। অভিনেত্রী জানিয়েছেন এ নিয়ে তার আক্ষেপ নেই।
‘অভিনয় আমাকে নানা ধরনের নতুন চরিত্র অন্বেষণের সুযোগ দেয়; গায়িকা হিসেবে যা সম্ভব নয়’ বলেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, তিনি কখনোই ‘পপ তারকা’ হতে চাননি।
ক্যারিয়ারে অনেকবারই রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করেছেন জেনডায়া। ‘ইউফোরিয়া’ ও ‘চ্যালেঞ্জার্স’-এ তাকে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি সাহসী দৃশ্যে। তবে জেনডায়া জানিয়েছেন, ক্যামেরার সামনে নগ্ন হতে চান না তিনি।
এ জন্য সিনেমা বা সিরিজে চুক্তির সঙ্গে তিনি শর্ত জুড়ে দেন যে কখনো পুরোপুরি নগ্ন হবেন না। এ নিয়ে বিস্তর খবর হয়েছে তবে অভিনেত্রী বিষয়টি নিয়ে কখনো প্রকাশ্যে কথা বলেননি।
খবরটি শেয়ার করুন