সোমবার, ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আছড়ে পড়তে পারে অন্ধ্র উপকূলে, বাংলাদেশে প্রভাব কতটা *** বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর *** সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ারেও রাজি পুলিশ: আইজিপি *** পুলিশ সদর দপ্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন আইজিপির *** অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আঘাত হানবে বুধবার, ২ নম্বর সতর্ক সংকেত *** জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী *** নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলায় নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় সেনাপ্রধানের বাধা, ‘নজিরবিহীন সংঘাত’ *** ঋতুস্রাবের সময় যেভাবে স্ত্রী রাশমিকার যত্ন নেন বিজয় *** গভীর নিম্নচাপে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে আঘাত হানবে কোথায় *** চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

নবনীতা রায়

🕒 প্রকাশ: ০২:১৬ অপরাহ্ন, ১৫ই জুন ২০২৬

#

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার পর তার নিয়োগ, রাজনৈতিক অবস্থান ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক মহসীন হাবিব জাহেদ উর রহমানের নিয়োগের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, বিএনপিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা ও কর্মী থাকা সত্ত্বেও জাহেদ উর রহমানকে কোন বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা করা হয়েছে, তা তার কাছে বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে ও পরে আওয়ামী লীগ ও ভারতের সমালোচনা করে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন এবং জাহেদ উর রহমান তাদের অন্যতম।

তিনি লেখেন, ‘বিএনপির এত ভারী-ভারী নেতা থাকতে, এত আত্মত্যাগী ও দীর্ঘদিনের কর্মী থাকতে তথাকথিত ডাক্তার জাহেদকে কোন ক্রাইটেরিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা করা হয়েছে? এটি বিদ্বেষের কোটায় পড়ে। কিছু লোক ৫ আগস্টের আগে-পরে শুধু আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরোধিতা করে নেতা বনে গেছেন, লাভবান হয়েছেন, জাহেদ তাদের মধ্যে একজন। এই নিয়োগ দেখে আমার মনে হয়েছে, হয় সব সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে নেই, অথবা তার হাসির নিচে জাহেদ-ফুয়াদ-শাহরিয়াররা বাস করেন।’

মহসীন হাবিবের ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিকে দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহেদ উর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে অংশ নিতে রোববার দিল্লি যান তিনি। বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তার সফর সম্পর্কে আগেই অবহিত করেছিল। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তার পাসপোর্ট ফেরত চান এবং সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পরে কলম্বো হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ভ্রমণ নথি ও ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আপত্তি ছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশি সূত্রগুলো বলছে, কূটনৈতিকভাবে সফরের বিষয়ে আগাম অবহিত করা হলেও তাকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর বার্তা বহন করে।

ডা. জাহেদ উর রহমান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও টেলিভিশন আলোচক হিসেবে পরিচিতি পান। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি সরকারের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। পরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন সরকারি ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতেও তাকে সক্রিয় দেখা গেছে। সম্প্রতি তিস্তা প্রকল্পসহ বিভিন্ন জাতীয় বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাটি শুধু একজন উপদেষ্টাকে ঘিরে নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। গত দুই বছরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দূরত্বের আলোচনা রয়েছে। ফলে জাহেদ উর রহমানকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাকে অনেকে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করছেন।

তবে এ ঘটনায় ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে কেন একজন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো না, সেই প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এক পক্ষ মনে করছে, জাহেদ উর রহমানের প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আচরণ বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্য পক্ষ তার নিয়োগ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ফলে দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা এখন কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ হয়ে উঠেছে।

জাহেদ উর রহমান মহসীন হাবিব

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250