ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান বা সেনাপ্রধান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। আলোচনার বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এখন তীব্র বিতর্ক চলছে। ইরানকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং প্রতিটি বিকল্পের সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে কয়েকজন সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে কিছু সূত্রের ধারণা, ট্রাম্প নিজে হামলার দিকেই ঝুঁকছেন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সামরিক পদক্ষেপ নিলে সেটিকে সাফল্য বলা হবে কীভাবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে কতটা ঝুঁকি নিতে হবে। অন্যদিকে, একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে প্রেসিডেন্টকে তার আগের কিছু ‘রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা’ নির্দেশক শর্ত থেকে সরে আসতে হতে পারে।
ইরানে হামলা করা হবে কি না এবং কীভাবে করা হবে—এ নিয়ে ভাবনার সময় ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ প্রেসিডেন্টকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে বলছেন। ট্রাম্পের শীর্ষ টিমের সদস্যরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন, তার এই বিবরণ পাঁচজন সূত্রের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে তৈরি। তারা উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বা সেসব বৈঠক সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।
কেইনের অবস্থান বিশেষভাবে প্রভাবশালী হতে পারে। কারণ, তিনি ট্রাম্পের প্রধান সামরিক উপদেষ্টা। প্রেসিডেন্ট তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, কেউই ইরানে স্থল অভিযান বা সেনা পাঠানোর পক্ষে নন।
ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে ধরার পরিকল্পনার সময় যেমন হয়েছিল, তেমনভাবেই ট্রাম্প একটি ছোট পরামর্শক দলকে ইরান-সংক্রান্ত বিকল্প নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা বিভিন্ন অপশন তৈরি করছে। প্রেসিডেন্ট যখন উপযুক্ত মনে করবেন, তখন সেগুলোর মধ্য থেকে বেছে নিতে পারবেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, লক্ষ্য হলো সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করা এবং ঝুঁকি কম রাখা।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা অভিযানে কেইন পুরোপুরি সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু ইরান ইস্যুতে আলোচনায় তিনি বেশি সতর্ক। এই পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে এক সূত্র তাকে ইরান প্রশ্নে ‘অনিচ্ছুক যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, কেইন মনে করেন ইরানে বড় ধরনের অভিযান চালালে ঝুঁকি অনেক বেশি। দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এবং মার্কিন সেনাদের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
একটি সূত্র বলেছে, কেইন হামলার পক্ষে জোর দিচ্ছেন না। তবে ট্রাম্প যে সিদ্ধান্তই নিন, তিনি তা সমর্থন ও বাস্তবায়ন করবেন। কেইনের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে সরাসরি জানেন—এমন আরেকটি সূত্র বলেছে, চেয়ারম্যান সামরিক অভিযানের বিষয়ে সন্দিহান নন।
তবে তিনি সম্ভাব্য সাফল্য ও যুদ্ধ শুরুর পর কী হতে পারে—এসব বিষয়ে ‘স্পষ্ট দৃষ্টি ও বাস্তববাদী।’ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবার দাবি করেছেন, কেইন কোনো সন্দেহ প্রকাশ করেননি।
জয়েন্ট স্টাফের মুখপাত্র জো হোলস্টেড অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট, যুদ্ধমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে চেয়ারম্যান বিভিন্ন সামরিক বিকল্প তুলে ধরেন। পাশাপাশি সেসবের সম্ভাব্য প্রভাব ও ঝুঁকির কথাও জানান। বেসামরিক নেতারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এসব আলোচনা গোপনীয়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, জেনারেল কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের একজন মেধাবী ও মূল্যবান সদস্য। প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন মতামত শোনেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, কেইন যুদ্ধ এড়াতে চান। তবে প্রয়োজন হলে এটি ‘সহজেই জেতা যাবে’ বলে মনে করেন। ট্রাম্প আরও লেখেন, কেইন কখনো বলেননি যে, ইরান ইস্যুতে কিছুই করা হবে না বা সীমিত হামলা হবে না।
তিনি বলেন, ‘তিনি একটাই জিনিস জানে—কীভাবে জিততে হয়। আর তাকে যদি বলা হয়, সে-ই সবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে।’
একটি সূত্র জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় অভিযানের ঝুঁকি ও জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তিনি সরাসরি হামলার বিরোধিতা করেননি। ভ্যান্স আশা করছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬শে ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় বৈঠকে কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে। তবে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন। অনেক শীর্ষ কর্মকর্তার অবস্থানও একই।
আলোচনায় পরিচিত আরেক সূত্র বলেছে, প্রেসিডেন্টকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার জন্য ভ্যান্স দুই দিকের যুক্তিই তুলে ধরছেন। এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার পক্ষে বা বিপক্ষে জোরালো অবস্থান নেননি। দুইটি সূত্র বলেছে, তিনি মাঝামাঝি অবস্থানে আছেন। রুবিও ঐতিহাসিকভাবে ইরান প্রশ্নে কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন ভেনেজুয়েলা ও কিউবা ইস্যুতে।
জে.এস/
খবরটি শেয়ার করুন