বৃহস্পতিবার, ১৯শে মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার *** স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছরেই: মির্জা ফখরুল *** গুম, খুনের শিকার পরিবারে ‘ঈদ উপহার’ পাঠাচ্ছেন তারেক রহমান *** সহশিল্পীদের চোখে অভিনেতা শামস সুমন *** স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুক ইভেন্টে ‘ইন্টারেস্টেড’ ক্লিকে বরখাস্ত হলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা *** হরমুজ প্রণালি বন্ধ, চা–সমুচা–দোসার রসনাবঞ্চিত ভারতীয়রা *** ক্ষমা চেয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দিয়েছেন ‘অপ্রয়োজনীয়’ কথা আর না বলার প্রতিশ্রুতি *** ঈদের দিন যমুনায় কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী *** আইজিপির বাগেরহাটের বাসভবনে চুরির খবরটি ভিত্তিহীন: জেলা পুলিশ *** ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে কেউ আসেননি: আনিস আলমগীর

রাজবাড়ীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কবরস্থানে দুর্বৃত্তদের আগুন

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, ৭ই ডিসেম্বর ২০২৫

#

ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের তারাপুর কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত অংশে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার (৭ই ডিসেম্বর) ভোররাতের দিকে দুর্বৃত্তরা কবরস্থানটির সীমানাপ্রাচীর ও বাঁশ দিয়ে ঘেরা অংশে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা–পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে ফজরের ওয়াক্তে মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে এলে কবরস্থানে আগুন দেখতে পান। পরে মসজিদের মাইকে আগুন লাগার ঘটনা বলতে থাকলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এসে আগুন নেভান। আগুন লাগার স্থানে পেট্রল ও কেরোসিনের গন্ধ পাওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

তারাপুর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও কবরস্থান দেখভালের দায়িত্বে থাকা শহিদুল বলেন, ফজরের আজান দিতে যাওয়ার সময় তিনি আগুন দেখতে পান। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে এলাকাবাসী ও হেফজখানার শিক্ষার্থীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আরও বলেন, ‘এটি দুর্ঘটনা নয়। কবরস্থানে বিদ্যুৎ নেই, আশপাশেও আগুন ধরার কোনো উৎস নেই। এটি স্পষ্টভাবে পরিকল্পিত নাশকতা।’

দ্রুত দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে থানায় আছেন উল্লেখ করে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সজীব হোসেন দুপুরে বলেন, তিন একরের বেশি জায়গা নিয়ে ১৯৪৬ সালে তারাপুর কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে কবরস্থানের প্রায় ৪ শতাংশ জায়গা সংরক্ষিত করে ঘিরে রাখা আছে। সেখানে পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করা হয়েছে। আগুন দেওয়ার ঘটনাটির থেকে ন্যক্কারজনক কাজ আর হতে পারে না। ঘটনাস্থলে এখনো কেরোসিনের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

পাংশা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যারা স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না, তারাই আগুন দিয়েছে। খবর পেয়ে দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা, ইউএনও এবং থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কেরোসিনের গন্ধ এখনো রয়েছে। এ ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্তিত্বই ঝুঁকিতে পড়বে। বিজয়ের মাসে এমন ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।’

এ প্রসঙ্গে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে মনে হয়েছে আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সংরক্ষিত কবরস্থান

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250