বুধবার, ১৮ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছরেই: মির্জা ফখরুল *** গুম, খুনের শিকার পরিবারে ‘ঈদ উপহার’ পাঠাচ্ছেন তারেক রহমান *** সহশিল্পীদের চোখে অভিনেতা শামস সুমন *** স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুক ইভেন্টে ‘ইন্টারেস্টেড’ ক্লিকে বরখাস্ত হলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা *** হরমুজ প্রণালি বন্ধ, চা–সমুচা–দোসার রসনাবঞ্চিত ভারতীয়রা *** ক্ষমা চেয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দিয়েছেন ‘অপ্রয়োজনীয়’ কথা আর না বলার প্রতিশ্রুতি *** ঈদের দিন যমুনায় কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী *** আইজিপির বাগেরহাটের বাসভবনে চুরির খবরটি ভিত্তিহীন: জেলা পুলিশ *** ড. ইউনূসের চেয়ে বড় বাটপার বাংলাদেশের সরকারে কেউ আসেননি: আনিস আলমগীর *** সরকার গঠনের ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপ ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’

ট্রাইব্যুনালে ডেকে নেওয়ার পর ক্ষমা চাইলেন জেড আই খান পান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক

🕒 প্রকাশ: ০৯:৩০ অপরাহ্ন, ৩রা ডিসেম্বর ২০২৫

#

ফাইল ছবি

গুমের মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে এগিয়ে গিয়েও পিছু হটার ব্যাখ্যা দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডাকা হলো জেড আই খান পান্নাকে। হাজির হয়ে আদালতের কাছে ক্ষমা চাইলেন তিনি। শুনানিতে কথা বলতে গিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের ধমকও শুনতে হলো জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবীকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আজ বুধবার (৩রা ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ অভিযোগ গঠনের শুনানিতে এসব ঘটে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা। আসামি শেখ হাসিনার পক্ষে গত ২৩শে নভেম্বর জেড আই খান পান্নাকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এই আইনজীবীও আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষে দাঁড়াতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানান, রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে তিনি থাকতে চান না।

আজ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন জেড আই খান পান্না উপস্থিত ছিলেন না। তা দেখে ট্রাইব্যুনাল বলেন, শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হতে তিনি একসময় আগ্রহী ছিলেন, এখন কেন আগ্রহী নন? এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাইব্যুনালের সামনে তাকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

আদালতে উপস্থিত চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তখন বলেন, জেড আই খান পান্নার মক্কেল শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনালের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন। যে কারণে তিনিও আগ্রহী নন। এটা আদালত অবমাননার শামিল।

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, জেড আই খান পান্নাকে ফোন করে এখনই আসতে বলুন অথবা লোক পাঠান। এরপর ট্রাইব্যুনাল বলেন, জেড আই খান পান্নার চেম্বারে ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে পাঠান। চেম্বারে গিয়ে বলে আসুক আসতে।

কিছুক্ষণ পর হুইলচেয়ারে করে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন জেড আই খান পান্না। তখন ট্রাইব্যুনাল তার শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চান। জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, তিনি সুস্থ নন। শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে চান না।

সরে দাঁড়ানোর আরও কারণ ব্যাখ্যা করে এই আইনজীবী বলেন, শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হওয়ায় তার অনুসারীরা তাকে আক্রমণ করছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকেও আক্রমণ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে গেছেন।

তারপর ট্রাইব্যুনাল অসন্তোষের সুরে বলেন, আসামি আসবে না, আপনারাও আসবেন না, যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তাদের নিয়ে কথা বলা হবে।

এ পর্যায়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন জেড আই খান পান্না। তারপর ট্রাইব্যুনাল গুমের দুটি মামলায় জেড আই খান পান্নার পরিবর্তে মো. আমির হোসেনকে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন।

আমির হোসেন ট্রাইব্যুনালে এর আগে জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের সেই মামলায় ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

জেড আই খান পান্না

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250